স্থানীয় সংবাদ

ব্যাটারী রিকশার নিবন্ধন ও চালকদের লাইসেন্সের দাবিতে সমাবেশ

খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রিকশা ও ইজিবাইক শ্রমিকসহ সকল শহীদদের তালিকা প্রকাশ, হত্যার বিচার এবং নিহত-আহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন করা; ব্যাটারী রিকশার নিবন্ধন ও চালকদের লাইসেন্স প্রদান; সিটি করপোরেশন ও পুলিশ কর্তৃক আটককৃত রিকশা, ব্যাটারী ও মোটর ফেরত এবং ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবিতে গতকাল সকাল ১০টায় নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে সমাবেশ করেছে রিকশা, ব্যাটারী রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ খুলনা মহানগর কমিটি। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত সমাবেশে খুলনা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক এস এম আলমগীর হোসেন বাবুর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব জনার্দন দত্ত নান্টুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ খুলনা জেলা সদস্য সচিব কোহিনুর আক্তার কনা, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট খুলনা জেলা সভাপতি আব্দুল করিম, সংগঠনের খুলনা মহানগর নেতা মানিক মিয়া, ইলিয়াস হোসেন, বাবুল হোসেন, ইউনুস আহমেদ মাসুদ, আজাহারুল ইসলাম, আব্দুল আলিম, শহীদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, রিপন শেখ, ফিরোজ মোল¬া, নুর আলম প্রমুখ। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুসারে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সারাদেশে সাড়ে ছয় শতাধিক মানুষের জীবনহানি আর হাজার-হাজার মানুষ পঙ্গু ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এদের সংখ্যাগরিষ্ট অংশ শ্রমজীবী মানুষ। তাদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ স্বৈরাচারী শাসন থেকে আজ মুক্ত হয়েছে। গণ অভ্যুত্থানের পূর্বে হত্যার প্রকৃত তথ্য গোপনের উদ্দেশ্যে হাসিনা সরকার সংশ্লিষ্টদের অসহযোগিতা আর অভ্যুত্থান পরবর্তী সংকটে বহু মৃতদেহ কোনো রেকর্ড সংরক্ষণ ছাড়াই সৎকার করেছে। ফলে অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিহত ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা না হলে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় শ্রমজীবী পরিবারগুলি বিচার ও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ন্যায্যতা থেকে বঞ্চিত হবে। তাই নিহত ও আহতদের তালিকা প্রকাশ, প্রতিটি হত্যার বিচার, ক্ষতিপূরণ, সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখতে হবে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলে রিকশা ও ইজিবাইক শ্রমিকরা অবর্ণনীয় নির্যাতন এবং অধিকারহীন জীবন-যাপন করতে বাধ্য হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন এবং পুলিশ কর্তৃক জোরপূর্বক গাড়ি আটক, ব্যাটারী-মোটর ছিনতাই ও ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। সেসব ব্যাটারী-মোটর বিক্রি করে তারা কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছে। গরীব শ্রমিকরা জমি বন্ধক রেখে বা ঋণ করে এসব গাড়ি নির্মাণ করেছে। অথচ নীতিমালা করে এসব গাড়ির লাইসেন্স দেয়ার দাবি বারবার জানালেও তৎকালীন সরকার কর্ণপাত করেনি। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে নীতিমালার অধিনে বিআরটিএ কর্তৃক ব্যাটারী রিক্সার বিজ্ঞান সম্মত ডিজাইন নির্ধারণ, এই বাহনের নিবন্ধন এবং চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স দেওয়ার মাধ্যমে বিদ্যমান অনিয়মসমূহ দূর করতে পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানান। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশ কর্তৃক আটককৃত রিকশা, ব্যাটারী ও মোটর ফেরত এবং যুক্তিসঙ্গত ক্ষতিপূরণ দেয়ারও দাবি জানানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button