স্থানীয় সংবাদ

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যারা গণহত্যা পরিচালনা করেছেন তাদের বিচার এদেশের মাটিতেই হবে —অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ১৪ শহীদ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যারা গণহত্যা পরিচালনা করেছেন তাদের বিচার এদেশের মাটিতে হবে। ইতোমধ্যে অন্তবর্তীকালীন সরকার বিচারের কার্যক্রম শুরু করেছে। আমরা তাদেরকে সাধুবাদ জানাই। আন্তর্জাতিক আদালতেও ইতোমধ্যে গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাসহ তার সব দোসরদের নামে মামলা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের সময়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার পর যে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি সেখানে আর কখনো যেন স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা ফিরে না আসে। জুলুম নির্যাতনের পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়। সে জন্য সকলকে সজাগ থাকতে হবে। শনিবার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় খুলনা মহানগরীর ১৮ নং ওয়ার্ডের নবপল্লী বায়তুল আকাবা সংলগ্ন তার বাড়ির সামনের সোনালীনগর মাঠে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও শহীদ সাকিব রায়হানের গর্বিত পিতা আজিজুর রহমানের হাতে নগদ অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। এ সময় শহীদ সাকিব রায়হানের পিতা আজিজুর রহমানকে তিনি বুকে টেনে নিলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তিনি পরিবারের সার্বিক খোঁজ-খবর নেন এবং শহীদ সাকিব রায়হানের শাহাদাত কবুলের জন্য দোয়া করেন। মহান আল্লাহর কাছে ধৈর্য কামনা করেন। তিনি শহীদের পিতার হাতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। ঢাকায় একটি শুমারীতে কর্মরত থাকাবস্থায় সাকিব রায়হান ১৯ জুলাই ঢাকার মিরপুরে পুলিশের গুলিতে শাহাদাৎবরণ করেন।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলালের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও খুলনা অঞ্চলের পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও অঞ্চল টিম অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান ও মাস্টার শফিকুল আলম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, সাতক্ষীরা জেলা আমীর মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। এতে বক্তব্য দেন মহানগরী নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলম ও প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম, শামীম সাঈদী, মহানগরী ছাত্রশিবির সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ নূরুল্লাহ, জেলা সভাপতি বেলাল হোসাইন রিয়াদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, সেক্রেটারি এস এম মাহফুজুর রহমান, মাওলানা শাহারুল ইসলাম, মশিউর রহমান রমজান, মো. আব্দুর রহিম প্রমুখ ।
সাতক্ষীরা জেলা : শনিবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৪ শহীদ পরিবারের সম্মানে আয়োজিত দোয়া ও নগদ অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের জনগণ ১৫টি বছর ধরে হত্যা, খুন, গুম সহ চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আহত হয়েছেন, চোখ হারিয়েছেন, পা হারিয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন, ব্যবসা হারিয়েছেন ও সম্পদ হারিয়েছেন। আমরা যেটি দীর্ঘদিন যাবৎ করতে পারিনি এই ছাত্র আন্দোলন এক মাসেই তা করে দেখিয়েছে। তাই নির্বাচন নিয়ে কোন ব্যস্ততা নয়। দেশি-বিদেশী সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদেরকে সহযোগী করা আমাদের প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর মুহাদ্দিস রবিউর বাশারের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল বারী, শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি আল মামুন, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমামুল ইসলাম, শহর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. জাহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা শাহাদাৎ হুসাইন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমস্বয়ক রিফাত হোসেন, নাজমুল ইসলাম রনি, নাহিদ হাসান এবং ছাত্র আন্দোলনে শহীদ আসিফ হুসাইনের গর্বিত পিতা মাহবুবুল আলম। এ সময় শহীদ আলম সরদার, হাফেজ আনাছ বিল্লাহ এবং আদম আলীর পরিবার উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জেলা নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা, সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম, অধ্যাপক গাজী সুজায়াত আলী, প্রভাষক ওমর ফারুক, কর্মপরিষদ জামশেদ আলম, রুহুল আমিন, এডভোকেট আব্দুস সুবহান মুকুল, মাওলানা ওসমান গণি, সমন্বয়ক সুহাইল মাহদীন সাদি, সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মোশাররফ হুসাইন, শহর জামায়াতের সেক্রেটারি খোরশেদ আলম, কলারোয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা কামরুজ্জামান, আশাশুনি উপজেলা জামায়াতের আমীর তারিকুজ্জামান তুষার, সেক্রেটারি মাওলানা মোশাররফ হুসাইন, দেবহাটা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ওলিউল ইসলাম, সেক্রেটারি হাফেজ এমদাদুল হক, কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে আমীর মাওলানা আব্দুল ওহাব সিদ্দিকী, শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান, সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম মোস্তফা, শহর নায়েবে আমীর মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান, এডভোকেট আবু তালেব, মাষ্টার বদিউজ্জামান, আনিছুর রহমানসহ অনেকে। অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কোন অনুষ্ঠান করতে গেলে পুলিশ বাধা দিতো, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের পর সেই পুলিশ ফোন করে খোজ খবর নিচ্ছে। এর জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করতে হবে। তিনি আরো বলেন, পতনের ৪ দিন আগে হাসিনা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল। হাসিনা ভেবেছিল জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করে বাঁচতে পারবে। কিন্তু সে বাঁচতে পারে নাই বরং তাকেই দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। তুমি জামায়াত নিষিদ্ধ করেছো? অন্য দিকে বাংলাদেশের মানুষ তোমাকে নিষিদ্ধ করেছে। জামায়াতকে সম্মান দিয়েছে দেশের জনগণ।
মিয়া গোলাম পরওয়ার সাতক্ষীরার গণমানুষের তাগের কথা স্বীকার করে বলেন, ১৫ বছরের আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরের প্রায় অর্ধশতাধিক ভাইকে শহীদ করা হয়েছে, আহত করা হয়েছে দেড় শতাধিক। ২৫৬টি বাড়ি ঘরে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট করে ছাত্রলীগ যুবলীগের সন্ত্রাসীরা।
সাতক্ষীরা জামায়তে ইসলামীর প্রাণপুরুষ কাজী শামসুর রহমান সাহেবের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তার অবদান আজকের এই জামায়াতে ইসলামের বর্তমান অবস্থা। সাবেক এমপি আব্দুল খালেক মন্ডল এর কথা স্মরণ করে দিয়ে তিনি বলেন, জেলখানায় থাকাকালীন তিনি কুরআনের হাফেজ হয়েছেন এবং সেখানেই তাকে তিলে তিলে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর এ ত্যাগ সাতক্ষীরাবাসি স্মরণ রাখবে।
গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, শেখ হাসিনার পেটুয়া বাহিনীর হাতে প্রায় ১০০০ ছাত্র জনতা শহীদ হয়েছেন। কয়েক হাজার আহত হয়েছেন। আহতরা হাত হারিয়ে পা হারিয়ে চোখ হারিয়ে বিছানায় চোখের পানি ফেলছে তাদের চোখের পানি এখনো শুকায়নি। এখন ভোটের জন্য আপনারা ব্যন্ত হবেন না। কারণ আওয়ামী ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয় না থাকলেও বিদেশে বসে তারা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখে তারা দুই দুইবার পাল্টা অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছিল। দেশের জনগণ তা প্রতিহত করেছে।
শহীদ পরিবারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি সন্তান হারিয়েছেন, স্বামী হারিয়েছেন, স্বজন হারিয়েছেন মন খারাপ করবেন না, আপনি সারা বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে গর্বিত ও সম্মানিত। দেশ ও জাতির স্বার্থে আপনার সন্তান প্রিয়জন শাহাদাত বরণ করেছেন তারা আল্লাহর কাছে অবশ্যই শহীদের মর্যাদা পাবেন। বাংলাদেশ আপনার স্বজনদের রক্তের বিনিময়ে পূরনায় স্বাধীন হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আপনাদের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে ইনশাল্লাহ। শহিদ পরিবারের অভাব অভিযোগ অবশ্যই দূর হবে।
এরপর সেক্রেটারি জেনারেল সাতক্ষীরায় কোটা আন্দোলনে শহীদ চারজন ভাইয়ের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন। দোয়া মোনাজাতে তিনি বন্যার্তদের জন্য আল্লাহর কাছে সহযোগিতা কামনা করেন প্রতিবেশী দেশ শত্রুতা করে দেশের মানুষকে ভাসিয়ে দিতে চায়। আল্লাহ তুমি তাদেরকে ষড়যন্ত্র থেকে বিরত রাখ। আমীন।
মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, শেখ হাসিনা পালাই না কিন্তু এ কথা বলার পরদিনই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী পালাই না জামায়াতের নেতারা হাসি মুখে ফাঁশির রশিকে চুম্বন করেছে। এদেশের জনগণ তাদেরকে আর কোন ষড়যন্ত্র করতে দেবে না। তিনি শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যেখানের মাল সেখানে চলে গেছে। ছাত্র-জনতা আন্দোলনে আহতদের স্মরণে তিনি বলেন এই জীবন্ত শহীদদের রক্তে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি এখনো তাদের শরীর থেকে বুলেট বের করা সম্ভব হয়নি। তিনি জনশক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলেন আমীরে জামায়াত বলেছেন আমরা প্রতিশোধ নেবে না তবে যারা সন্তান হারিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, সেসকল ভিকটিমরা মামলা করতে চাইলে আমরা অবশ্যই তাদেরকে সহযোগিতা করব। আইন হাতে তুলে নেবেন না পুলিশকে সহযোগিতা করুন, পুলিশের উপর চড়াও হবেন না। আপনারা যেভাবে হিন্দুদের মন্দির পাহারা দিয়েছেন আগামীতে তাদের বড় উৎসব এই উৎসবের দিনগুলোতে তাদের মন্দির এবং তাদের নিরাপত্তা দায়িত্বে আপনাদেরকে পালন করতে হবে। আইন হাতে তুলে নেবেন না। আপনাদের সমস্যা থাকলে দেশের গর্বিত সন্তান সেনাবাহিনী দায়িত্ব হচ্ছে তাদেরকে বলুন। ডিসি সাহেবকে বলুন। এসপি সাহেবকে বলুন। আমরা তাদের মাধ্যমে আপনাদের সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করব।
মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী তার বক্তব্যে কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, স্বৈরাচার সরকার চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র করেছিলো আল্লাহ তাদের সকল চক্রান্ত ষড়যন্ত্রে তাদেরকেই গ্রাস করেছে।
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, আল্লাহর কাছে দুটি জিনিস সবচাইতে প্রিয় শহীদের এক ফোটা রক্ত এবং মুত্তাকির এক ফোটা চোখের পানি। স্কুল-কলেজের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের অশ্রুসিক্ত চোখ নিয়ে বলেছিল এই সরকার স্বৈরাচার সরকারকে আমরা চাই না আল্লাহ তাদের এই দোয়াকে কবুল করেছেন।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাদ্দিস রবিউল বাশার বলেন. বাংলাদেশ নতুনভাবে স্বাধীন হয়েছে এই স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য আমরা অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করব দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখব।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button