স্থানীয় সংবাদ

অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদত্যাগের দাবিতে খুমেকে নার্স-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

স্টাপ রিপোর্টার ঃ নার্সিং অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মাকসুরা নূরের পদত্যাগের দাবিতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং কর্মকর্তা ও সরকারি-বেসরকারি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার বেলা পৌণে ২টায় হাসপাতালের পুরাতন ইমার্জেন্সির সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ১টাই দাবি ছিল, মহাপরিচালকের করা নার্সদের নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদ স্বরূপ তার পদত্যাগের দাবি। আমাদের দেখভাল করা ও পরিচালনার জন্য তাকে দায়িত্ব দেয়া হলেও তিনি দপ্তরের প্রতি উদাসিন হয়ে দপ্তরকে বানিয়েছেন অবৈধ টাকা নির্ভয়ে উপার্জনের স্থান। তিনি নিয়মিত অফিস না করার সুযোগে তাকে সহযোগিতা করছেন দেশব্যাপী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা দালাল-দোসররা। আবার এদিকে খুমেকে কর্মরত মাকসুরা নূরের দোসর ও দালাল কর্তৃক মানববন্ধনে অংশ নেয়া কয়েকজনকে গালিগালাজসহ হুমকি ও শো-কজের ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে বলে জানা যায়। সেই সাথে তাদের করা হয়েছে লাঞ্ছিত। এতেই স্পষ্ট প্রমাণ হয় এই হাসপাতালের দালালরা দুর্নীতিবাজ-কটুক্তিকারী মহাপরিচালকের পদত্যাগ চায় না, কারণ এতে তাদের এতদিনের করা ফ্যাসিস্ট রাজত্বে বৈষম্যের থাবা পড়েছে যে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানায়, আমাদের জন্যই আমাদের অধিদপ্তর। কিন্তু সেই অধিদপ্তরে হই আমরাই বঞ্চিত। টাকা ছাড়া মেলে না কোনো কিছুই। উপ সচিব মাকসুরা নূরকে এই অধিদপ্তরে মহাপরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয় দেশব্যাপী নার্সদের ভালো-মন্দ ও সমস্যা-সমাধানের। কিন্তু তিনি চেয়ারে অধিষ্ট হওয়ার পর থেকেই অধিদপ্তরটির প্রতি উদাসিনতার পরিচয় দেন। আর সেই সুযোগে দপ্তরের কিছু অসাধু চক্র নির্বিঘ্নে দপ্তরটিকে ঘুষ-দুর্নীতির আঁখড়ায় পরিণত করেছেন। এই কাজে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা অসৎ, অসাধু, নীতিহীন নার্সিং কর্মকর্তাদের।
কিন্তু গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তের দামে কেনা নতুন এই নতুন দেশ থাকে দুর্নীতিবাজ-ঘুষখোররা চোরের মতো পালিয়ে গেলেও এখনো সারা দেশে রয়ে গেছে ওদের দোসররা। গত সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) কিছু নার্সিং কর্মকর্তা ঢাকা নার্সিং অধিদপ্তরে মহাপরিচালকের সাথে দেখা করে তাদের বদলীর সিরিয়ালের খবর জানতে চাইলে তিনি তাদের সাথে চরম দুর্বব্যব হার করেন। সেই সাথে নার্স সমাজকে নিয়ে কটুক্তি করেন। দেশ ছেড়ে পালানো ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি এদের ২য় শ্রেণির কর্মকর্তা বানিয়ে মাথায় তুলে দিয়েছেন। এরা এর যোগ্যই নয় এবং তাদের বের করে দেন। এরপর তারা বাইরে এসে মোবাইলে অন্য নার্সদের ঘটনাটি জানালে আস্ত-আস্তে ঢাকাসহ দেশব্যাপী নার্সদের মাঝে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই ঢাকায় অবস্থিত সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরতা নার্সিং কর্মকর্তারা এবং নার্সিংয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা তৎক্ষনাৎ মার্চ টু ডিজিএনএম কর্মসূচি দিয়ে নার্সিং অধিদপ্তরে এসে জড়ো হন। এরপর সবাই মহাপরিচালকের করা নার্সিং সমাজ নিয়ে কটুক্তির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বললে তিনি তাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে উত্তেজিত কর্মকর্তা-শিক্ষার্থীরা ১ দফা দাবি পেশ করে শ্লোগান দিতে থাকে। দফা এক দাবি এক, মাকসুরা নূরের পদত্যাগ। একপর্যায়ে আন্দোলনের মুখে উপ সচিব স্বপন কুমার মন্ডল (পরিচালক-অর্থ ও বাজেট) স্ব-ইচ্ছায় পদত্যাগ করে কর্মস্থল ত্যাগ করলেও মহাপরিচালক মাকসুরা নূর আজ (সোমবার) পদত্যাগ না করে আগামীকাল (মঙ্গলবার) সচিবের সামনে পদত্যাগ করার কথা বলেন। কিন্তু তার এই মিথ্যা আশ^াসে যা ইতিপূর্বে তিনি অসংখ্যবার করেছেন বিধায় আন্দোলনকারীরা বিশ^াস না করায় অধিদপ্তরে সারারাত যাপন করেন। ওখান থেকেই সারা দেশের নার্স-শিক্ষার্থীদের মাকসুরা নূরের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করার আহ্বান জানান। যার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত নার্সিং কর্মকর্তা ও নার্সিংয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকার আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে মাত্র ২০ মিনিটের একটি মানববন্ধন করেন। আর এতেই ছাত্রলীগরুপী আন্দোলনে বাধাদানকারী মাকসুরা নূরের আস্থাভাজন ছাত্রলীগের রূপবেশে মানববন্ধনে অংশ নেয়া কিছু নার্সিং কর্মকতাদের গালিগালাজ, শোকজের মাধ্যমে ঢাকা অধিদপ্তরে অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়ার হুমকিসহ ভয়-ভীতি দেখায়। এমনকি তাদের বিভাগীয় প্রধান ডাক্তারদের ফোন করে কেন তারা মানববন্ধনে গেল জানতে চায়, যদিও এটা ডাক্তার৩দের বিষয় নয়। এর দ্বারাই স্পষ্ট প্রমাণিত এরাই হলো মহাপরিচালকের দুর্নীতির হাতিয়ার এবং তারা তার পদত্যাগ না চেয়ে আন্দোলনকে থামাতে চাচ্ছে। সুতারং মহাপরিচালক মাকসুরা নূরসহ দেশব্যাপী তার এমন ছাত্রলীগরূপী দোসরদের অপসারণপূর্বক নার্সিং পেশাকে বিশে^র দরবারে নোবেলজয়ী একমাত্র বাংলাদেশী বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সহযোগিতায় শহীদ ছাত্র-জনতার স্বপ্নকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে আরো উঁচুতে নিয়ে যাবে। মানববন্ধনে হাসপাতালের নার্সিং কর্মকর্তা ও নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীসহ প্রায় শতাধিক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্যনীয়।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button