লবণচরায় গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবতী জখম

# থানায় মামলা দায়ের #
স্টাফ রিপোর্টারঃ লবণচরার ঠিকরাবাদে বাবার জমির গাছ অবৈধভাবে কেটে নিয়ে যাওয়ায় মেয়ে বাঁধা প্রদান করায় তাকে প্রতিপক্ষ কর্তৃক মারধর ও শ্লীলতাহানীর ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী ইতিমা মন্ডল লবণচরা থানার ঠিকরাবাদ রাস্তার উত্তর পাশের নারায়ণ মন্ডলের মেয়ে। গত মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ঠিকরাবাদ মৌজাধীন উত্তর পাড়া ক্যাপ্টেন ফুডের পাশে ইতিমা মন্ডলের জমিতে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরবর্তীতে গত শনিবার (২ নভেম্বর) দুপুরে ইতিমা ঘটনাস্থলে গেলে প্রতিপক্ষরা পুনরায় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও এলোপাথাড়ী মারধর করে। সেইসাথে শরীরে কামড় দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ বিষয়ে ইতিমা লবণচরা থানায় বাদি হয়ে ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩৫৪/৪২৭/৫০৬ ধারায় ও ১৮৬০ পেনাল কোডে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে জখম সংক্রান্ত মামলা দায়ের করেন। যার নং:-৩ ও তারিখ ০২/১১/২০২৪ ইং। আসামীরা হলেন, হরিণটানা থানার হোগলাডাঙ্গার কামরুল এর বাড়ির ভাড়াটিয়া হাবিবুরের পুত্র বাবু (৫০), বাবুর পুত্র বাহাদুর (২৪), ইসমাইল শেখের পুত্র রসুল (২৬), বাবুর স্ত্রী ফাতেমা (৩৮), লবণচরা থানার ঠিকরাবাদের ইমরুল শেখের বাড়ির ভাড়াটিয়া বসির উদ্দিনের পুত্র মান্নান (৫৮), শফিকের স্ত্রী জেসমিন (২৭)। এছাড়া একই এলাকার কামাল (৪০) ও মান্নানের স্ত্রী নারগিস (৩৬)।
এজাহার সূত্র ও ইতিমার বক্তব্যে জানা যায়, ইতিমা মন্ডলের বাবা নারায়ণ মন্ডালের লবণচরা থানাধীন ঠিকরাবাদ মৌজায় ২২ শতক জমি রয়েছে। যেখানে বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৭ লক্ষাধিক টাকার গাছ রয়েছে। উপরোক্ত আসামীরা গত ২৯ অক্টোবর জোরপূর্বক এই গাছ কেটে ফেলে। ইতিমা উক্তস্থানে গিয়ে গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে আসামীরা তাকে বেধড়ক মারপিট করে এবং শ্লীলতাহানী ঘটায়। একইদিন যখন আসামীরা কাটা গাছ নিয়ে যায়, ইতিমা বাঁধা দিলে আসামীরা পুনরায় তাকে মারপিট করেন। এ বিষয়ে ইতিমা লবণচরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে থানা কর্তৃপক্ষ গত ২ নভেম্বর ঘটনাস্থলে তদন্ত করতে যায়। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে আসামীরা ইতিমাকে পুনরায় মারধর করে এবং জানে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন। ইতিমা ও তার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা এখন প্রাণভয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আত্মগোপনে রয়েছেন। তাই আসামীদের গ্রেফতার পূর্বক যথাযথ শাস্তির জন্য তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
এ বিষয়ে লবণচরা থানার ওসি মোঃ তৌহিদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গত ২৯ তারিখ ইতিমাকে মারধরের বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ হয়েছিলো। যার তদন্ত করতে গত ২ নভেম্বর থানার একটি টিম সেখানে যায়। আসামীরা পুনরায় ইতিমাকে মারধর করলে তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন। এখনো কোন আসামীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে এ ব্যাপারে আসামীদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



