ভাল বেতনে দুবাই কাজ দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে মানব পাচার

# ৫লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় যশোরে মামলা #
যশোর ব্যুরো ঃ ভাল বেতনে কাজ দেওয়ার নাম করে দুবাই নিয়ে কাজ পাওয়ার কথা বলে ৩লাখ টাকা ও পাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেওয়ার পর মুক্তিপণ ৫লাখ টাকা দাবি করে অবৈধ ভাবে আটক করার অভিযোগে আদালতের নির্দেশে কোতয়ালি থানায় মানবপাচার আইনে মামলা হয়েছে। মামলাটি করেন,যশোর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের মোকাম শেখ এর স্ত্রী মেয়ে ফিরোজা বেগম।মামলায় আসামী করেন,ঝিনেদা জেলার মহেশপুর থানার গোকুলনগর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে নাজমুল ইসলাম, একই উপজেলার মথুরানগর গ্রামের রওশন আলীর ছেলে মশিয়ার রহমান, একই উপজেলার মশিয়ার রহমানের স্ত্রী মর্জিনা বেগম ও মশিয়ার রহমানের ছেলে অন্তু রহমান।
মামলায় বাদি উল্লেখ করেন,আসামীরা পাচারকারী চক্র,পাচারকারী,আদম ব্যবসায়ী। মশিয়ার রহমান দুবাই প্রবাসী। তার মাধ্যমে অন্যান্য সকল আসামীগণ পাচার কার্য সংগঠন করে। মর্জিনা বেগম মশিয়ার রহমানের স্ত্রী। অন্তুু রহমান মশিয়ার রহমান ও মর্জিনা বেগমের ছেলে। বাদির ছেলে আসিফ আল ইসলাম শহরের দড়াটানা জোয়ারদ্দার ফার্মেসীতে চাকুরী করতো।আসিফ আল ইসলামের খালাতো ভাই সুলতান আরেফিন ওই একই ফার্মেসীতে চাকুরী করতো। ওই সময় মাঝে মধ্যে নাজমুল ইসলাম ও মশিয়ার রহমান জোয়ারদার ফার্মেসীতে আশা যাওয়া করতো। সেই সুত্রে নাজমুল ইসলাম ও মশিয়ার রহমান জোয়ারদ্দার ফার্মেসীতে আশা যাওয়া করতো। সেই সূত্রে তাদের দু’জনের সাথে আসিফ আল ইসলাম ও সুলতান আরেফিনের পরিচয় হয়। নাজমুল ইসলাম জানান, মশিয়ার রহমান তার আত্মীয় এবং দুবাই প্রবাসী। আসিফ আল ইসলামকে দুবাই ভাল বেতনে চাকুরী দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। নাজমুল ইসলাম আরো জানান, ১৪শ’ দেরহাম বেতন হবে এবং দুবাই যাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে কোম্পানীর মাধ্যমে পরিচয় পত্র দেওয়া হবে। উক্ত ঘটনার পর মর্জিনা বেগম অন্তু রহমান মাঝে মাঝে বাদির বাড়িতে আসা যাওয়া করতে থাকে। আসিফ আল ইসলামকে বিদেশে যাওয়ার প্রলোভন দেখাতে থাকে। বাদির ছেলে বিদেশে যেতে রাজী হয় না। কিন্তুু আসামীগন বারবার বিদেশে যাওয়ার প্রলোভন দেখালে বাদির ছেলে সম্মতি প্রদান করে। উক্ত প্রকারে আসামী নাজমুল বাদির ছেলে ও তার খালাতো ভাই সুলতান আরেফিনের উপস্থিতিতে ২ বছরের জন্য মৌখিক ভাবে আলোচনা সাপেক্ষে দুবাই পাঠাবার জন্য মোট ৭ লাখ টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। ওই সময় নাজমুল বাদির ছেলে পাসপোর্টসহ যাবতীয় কাগজপত্র প্রস্তুুত করে নাজমুল অন্যান্য আসামীগণের সহযোগীতায় আসিফ আল ইসলামকে ভাল বেতনে চাকুরীর প্রলোভন দিতে থাকে এবং আসামীগণ আরো জানায়, ১৫ দিনের মধ্যে টাকা প্রদান করতে হবে। উক্ত কথা অনুসারে বাদির খালাতো ভাই সুলতান আরেফিনের মাধ্যমে বাদি ও সাক্ষীগণ ও আত্মীয় স্বজনের সহযোগীতায় নাজমুলকে গত ১ আাগষ্ট নগদ ৪লাখ টাকা প্রদান করা হয়। বাকী টাকা দুবাই পাঠাবার পর প্রদান করা হবে বলে জানায়। ওই ঘটনার পর থেকে নাজমুল,মর্জিনা ও অন্তুু রহমান বাদির ছেলে ও তার খালাতো ভাই সুলতান আরেফিনের সাথে বাদির বাড়িতে যায় এবং উচ্ছমূল্যে বেতনের আশ^াস দিয়ে প্রলোভন দেখাতে থাকে। এক পর্যায়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল অনুমান ৬ টার সময় নাজমুল বাদির ছেলে এবং খালাতো ভাই সুলতান আরেফিনকে নিয়ে বাদির বাড়ি হতে ঢাকার উদ্দেশ্যে বের হয়। কিছু কাজ সেরে বেলা ১১ টার সময় ঢাকার উদ্দেশ্যে গাড়ীতে যাত্রা শুরু করে। উক্ত তারিখে দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে। প্রায় ৫ দিন পর আসিফ আল ইসলাম তার মায়ের সাথে ফোনে কথা বলে জানায় নাজমুল মর্জিনা ও অন্তু রহমানের সহযোগীতায় মশিয়ার রহমানের মাধ্যমে দুবাইয়ে তার পরিচিত পাচারকারী দালাল চক্রের হাতে তাকে তুলে দিয়েছে। উক্ত ঘটনার পর বাদির ছেলের সাথে বাদি ও সুলতান আরেফিনের কোন যোগাযোগ হয়না। পরবর্তীতে প্রায় ৫ মাস পরে বাদির ছেলে একজন দালালের মাধ্যমে বাদির সাথে ফোনে জানায় তাকে কাজের জন্য আরো ৩লাখ টাকা দিতে হবে। অন্যথায় তাকে কোন কাজ দিবে না। উক্ত ঘটনার পর বাদি টাকা সংগ্রহ করে সুলতান আরেফিনের মাধ্যমে মর্জিনা ও অন্তুু রহমানদের গত ১৮ আগষ্ট নগদ ৩লাখ টাকা প্রদান করা হয়। মশিয়ার রহমান উক্ত টাকা পেয়েও বাদির ছেলেকে কোন কাজ দেয়না। বাদির ছেলেকে দুবাই নিয়ে যেয়ে সেখানে পাচারকারী দালাল চক্র বাদির ছেলের কাছে ৫লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে এবং মুক্তিপণ পেলে বাদির ছেলেকে দেশে পাঠায়ে দেবে বলে জানায়। পরবর্তীতে সুলতান আরেফিন নাজমুল ও মশিয়ার রহমানের সাথে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হয়। বাদি পক্ষ আসিফ আল ইসলামের সাথে অদ্যবদি যোগাযোগ করতে পারেনি বা যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ গত ১৮ সেপ্টেম্বর মর্জিনা ও অন্তুু রহমানের সাথে বাদির খালাতো ভাই সুলতার আরেফিনের দেখা হলে তারা জানায় আসিফ আল ইসলাম সম্পর্কে তারা কিছু জানে না। এ ব্যাপারে বাদি কোতয়ালি থানায় মামলা করতে গেলে থাকা কর্তৃপক্ষ মামলা না নিয়ে আদালতের স্মরনাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিলে বাদি আদালতে অভিযোগ দিয়ে আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের নির্দেশে রোববার ২৪ নভেম্বর দুপুরে কোতয়ালি থানায় মামলা হয়।



