স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মালামাল চুরির পর নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ : ভবনে বসেছে সিসি ক্যামেরা

দু’টি পদে রদবদলঃ অভ্যন্তরীণ তদন্ত রিপোর্ট দাখিল

স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনা নগরীর খালিশপুর চরের হাট এলাকায় অবস্থিত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভান্ডার শাখার গুদাম থেকে রড, অ্যাঙ্গেলসহ প্রায় সাড়ে ৫০০ কেজি লোহা চুরির ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ। ২৬ অক্টোবর সকালে পিকআপসহ চুরি যাওয়া সেই লোহা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় রমজান আলী ও মো. হাসান নামের দু’ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় খালিশপুর থানার এস আই আবদুল হালিম বাদি হয়ে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভান্ডার শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল হাসান জানান, গুদামের একপাশের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে নতুন করে কাজ শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় গুদামের মালামাল চুরি হয়েছে। এরপর নিরাপত্তারজনিত কারণে ভবনে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ দু’ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত টিম গঠন করেছেন। এ ঘটনায় অফিস সহায়ক কাম নিরাপত্তা প্রহরী আবুল কালাম মোল্লাকে শরণখোলা উপজেলা অফিসে বদলী করা হয়েছে। ১৭ নভেম্বর তাকে বদলী করা হয়। পাম্পের ম্যাকানিক কাজিম উদ্দীনকে মংলায় বদলী করে তার স্থলে রাজ কর্মকারকে আনা হয়েছে। ট্রাক চালক নাজমুল ফকির ও ইলিয়াস শেখ পলাতক রয়েছে। নতুন করে উজ্জল বসু নামের একজন নিরাপত্তা কর্মীকে বদলী করে এখানে আনা হয়েছে। এছাড়া আবাসিক এলাকায় যারা ছাগল পালন করে আসছিলেন তাদের ছাগল শিগগিরই অন্যত্র সরিয়ে ফেলার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ স্টাফ কোয়াটারে থাকার ব্যাপারে বিধিমালা মেনে চলার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ স্টাফ কোয়ার্টারে ১০টি পরিবার প্রায় ১০/১২ বছর ধরে এখানে বসবাস করছে। বিগত ম্যাকানিক কাজিম উদ্দিন অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নিরাপত্তা প্রহরীর দায়িত্ব পালনে আগ্রহ প্রকাশ করেন। সে হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাতে তাদের ডিউটি ছিলো। কাজিম ও ইলিয়াস এবং নাজমুল পিকআপে মালামাল চুরির বিষয়ে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি আলোচনায় আসছে। খালিশপুর থানার এস আই আবদুল হালিম জানান, খালিশপুর কালিবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে নিয়মিত তল্লাশি চলছিল। এ সময় একটি পিকআপ চেকপোস্টের সিগনাল অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে পিকআপ থেকে সাড়ে ৫০০ কেজি লোহা উদ্ধার করা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় অর্ধ লাখ টাকা হবে। আটক রমজান আলী ও মো. হাসান তাদের সঙ্গে জড়িত ইলিয়াস ও কামাল নামের দু’ জন শ্রমিকের নাম বলেছে। ওই ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় সংস্থ নিজ উদ্যোগে তদন্ত কমিটি গঠন করে। দু’ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির সদস্য হলেন প্রকৌশলী জামালুর রহমান ও প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক। জামালুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে তারা তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দিয়েছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনায় মোট দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে জামিনে কারাগার থেকে বের হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button