আবু হাসানের জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি দাফন

# বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের খুলনার সম্মুখযোদ্ধা #
# জানাযায় অংশ নেয় কুয়েটের ভিসি, প্রো-ভিসি, খুলনার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কসহ শতশত ছাত্রজনতা
খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধি ঃ সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের খুলনার সম্মুখযোদ্ধা আবু হাসানের জানাযা শেষে তার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার দেবহাটা থানার সাতবোশ গ্রামে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আবু হাসানকে শেষ বিদায় জানাতে জানাযায় অংশ নেয় কুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ মাছুদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. শেখ শরিফুল আলম(পিএইচডি), খুলনা মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, খানজাহান আলী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাস, কুয়েটের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ,বিভিন্ন রাজনৈতিক, সমাাজিক ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের শতশত ছাত্রজনতা। নিহত আবু হাসান এর মরদেহ খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হসপিটাল থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি প্রতিনিধি দল গ্রহন করেন ফুলবাড়ীগেটস্থ খানাবাড়ী ঈদগাহে নিয়ে আসেন। এখানের তার গোসল শেষে খানাবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে রাত ১১টার পর প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। আবু হাসানকে শেষ বিদায় জানাতে আগের থেকেই শতশত ছাত্র-জনতা অপেক্ষা করছিল খানাবাড়ী স্কুল মাঠ প্রাঙ্গনে। জানাযায় কুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ মাছুদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. শেখ শরিফুল আলম(পিএইচডি), খানজাহান আলী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাস, মহানগর জামায়তের নেতা মোঃ আজিজুর রহমান স্বপন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি (বিএল),খুলনা মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন খুলনার মিনহাজুল আবেদীন (খুবি), আহম্মদ হামীম রাহাত, আল শাহরিয়ার (খুবি), ওমর ফারুক (কুয়েট), মোঃ জাহিদুল ইসলাম (কুয়েট), মিরাজুল ইসলাম ইমন (একেসিসি), নাঈম ইসলাম (সুন্দরবন কলেজ), সাইদ ইসলাম রাজু (রূপসা কলেজ), হৃদয় (বিএলসি), মো. অলভি (বিএলসি), মা. জিহাদ(সুন্দরবন কলেজ), মো.ছাকিব রহমান (খানজাহান আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয় ), আরিফ (বিএলসি), বনি, মোঃ বিল্লাল হোসেন(টিটি কলেজ),কুয়েটের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, কুয়েটের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ গোলাম কিবরিয়া, খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ম্যানেজার (এডমিন এন্ড এইচ,আর) মোঃ হামিদুল ইসলাম খান, ইউপি সদস্য জিএম এনামুল কবির,খানজাহান আলী আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আবু দাউদ, খানাবাড়ী যুব সংঘ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তৈয়বুর রহমান লিটন, ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমানসহ খুলনা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেনী পেশার শতশত মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জানাজার ইমামতি করেন খানাবাড়ী রহমানিয়া তালীমুল কুরআন মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি আব্দুর রহমান।
জানাযা শেষে রাতেই আবু হাসানের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। ১১ডিসেম্বর ভোর ৪টায় সাতক্ষিরার দেবহাটা থানার সাতবোশ গ্রামে মরহুমের নানা বাড়ীর উঠানে মরহুম আবু হাসানের দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে আবু হাসানকে চির শায়িত করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র জনতার আন্দোলনে খুলনার যে সকল ছাত্র বিশেষ ভূমিকা রাখেন তাদের মধ্যে আবু হাসান ছিল অন্যতম। আবু হাসান জুলাই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা হিসাবে যেমনি কাজ করেছেন তেমনি ছাত্র জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করে রাজপথে বুলেটের মুখে লড়াই করে টিকে থাকতে সাহস যুগিয়েছে । জানাযায় অংশ নিয়ে হাসানের স্মৃতিচার করতে গিয়ে বক্তারা বলেন, আবু হাসান ছিল একজন কুরআনের হাফেজ এবং কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী। হাসান তার কাজের মধ্যে দিয়ে সর্বস্থরের মানুষের মাঝে চির স্মরনিয় হয়ে থাকবে। নেতৃবৃন্দ হাসানের অসহায় পরিবারের পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা করার ঘোষণা দেন। একই সাথে তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় সকলকে দোয়া করার আহবান জানান। উল্লেখ্য, খুলনা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা আবু হাসান গত ২৯ নভেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি প্রোগ্রাম শেষ কর ফুলবাড়ীগেটস্থ খানাবাড়ী তার বাড়ীতে ফেরার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়। দীর্ঘ ১২ দিন তিনি খুলনার একটি বেসরকারি হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়ে গত ১০ই ডিসেম্বর বেলা সোয়া ৫ টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।



