জন্ম থেকে দুটি হাত নেই পা দিয়ে লিখে কুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় কুড়িগ্রামের মানিক

# এসএসসি এবং এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় পেয়েছে গোল্ডেন এ প্লাস
খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধি ঃ জন্ম থেকে দুটি হাত নাই পা দিয়ে লিখে কুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার যুদ্ধ জয় করতে এসেছে কুড়িগ্রাম থেকে মোঃ মানিক রহমান। এসএসসি ও এইচএসসি’র গন্ডি পেরিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছে মানিক রহমান। ১১ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের(কুয়েট) ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সে। কুয়েটের এ ভর্তি যুদ্ধে খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১ এর ১৩২৮নং কক্ষে অন্য পরীক্ষার্থীদের সাথে পরীক্ষার্থী ছিলেন মানিক রহমান। শারীরিক অক্ষমতা কখনও স্বপ্নের বাধা হতে পারে না। মানসিক শক্তি নিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দূরে ঠেলে দিয়ে দুই পায়ে যুদ্ধ জয় করছে কুড়িগ্রামের অদম্য এই মোঃ মানিক রহমান। জন্ম থেকে তার দুটি হাতই নাই তবুও সে জীবন যুদ্ধে পিছিয়ে নেই। দুই পায়ের আঙ্গুলের ফাঁকে কলম দিয়ে লিখে প্রাইমারী ও হাই স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে সৈয়দপুর বিজ্ঞান কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা অংশগ্রহণ করে গোল্ডেন এ প্লাস পায় মানিক রহমান। শারীরিক অক্ষমতা প্রাইমারী থেকে হাই স্কুল এর পর কলেজ কোথাও তাকে পিছনে পড়তে হয়নি। রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানা এলাকার ব্যবসায়ী মোঃ মিজানুর রহমানের দুই পুত্র সন্তানের মধ্যে মোঃ মানিক রহমান বড় সন্তান । জš§ থেকে দুটি হাত নেই তার শুধু পা দিয়ে লিখেই মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক উভয় পরীক্ষায় পেয়েছিলেন জিপিএ–৫। কুয়েটে ভর্তির প্রবল আকাংখা নিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে মানিক রহমান। পরীক্ষা দিতে এসে কুড়িগ্রামের অদম্য এই মানিক রহমান দৈনিক প্রবাহকে বলেন, শারীরিক অক্ষমতা কখনও স্বপ্নের পথে বাধা হতে পারে না, তার বাস্তব উদাহরণ আমি। আমার স্বপ্ন পূরণ জীবন যুদ্ধে মা, বাবা, শিক্ষক,সহপাঠী সকলেই আমাকে উৎসাহ এবং সাহস যুগিয়ে আমার স্বপ্ন পুরণে স্বারর্থী হয়েছে। খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১ এর ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কুয়েটের অধ্যাপক ড. এম এম এ হাসেম বলেন, চরম ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো বাধাই কারো প্রতিভাকে দমিয়ে রাখতে পারে না সেটাই সে প্রমাণ করেছেন। মানিক রহমানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি এবং সে যেন তার কাংখিত স্বপ্ন পুরণে এগিয়ে যেতে পারে সেই দোয়া ও কামনা করি।



