যশোর জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগে জনবল সংকট চরম আকার ধারণ করায় এখন আর সহজেই স্বাস্থ্য সেবা মিলছেনা

মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমান রকি যশোর থেকে ঃ যশোর জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগে জনবল সংকট চরম আকার ধারন করেছে। যার কারনে এখন আর স্বাস্থ্য সেবা সহজে মিলছেনা। প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত হচ্ছে । জাতীয় টিকা দিবস বাস্তবায়নসহ স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে চরমভাবে হিমশিম খেতে হচ্ছে। যশোর জেলার ৮ উপজেলায় চিকিৎসা ব্যবস্থা লেজে গোবরে মেখে যাওয়ার উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চ আদালতে রিটের কারনে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারীদের সকল নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বর্তমানে এ জেলায় ১ম,২য়,৩য় ও ৪র্থ শ্রেনীর ৬৬৪টি পদ শুন্য হয়ে পড়েছে। যশোর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সিভিল অফিস সূত্রে জানাগেছে, যশোর জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগে (যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ব্যতীত ) ১ম শ্রেনীর মঞ্জুরীকৃত ১৬টি পদের বিপরীতে আছে ১১টি। শুন্য অবস্থায় রয়েছে ৫টি। উপজেলা পর্যায় এই পদে ২১৮টি মঞ্জুরীকৃত পদের বিপরীতে আছে ১১৯টি। শুন্য রয়েছে ৯৯টি। ১ম শ্রেনীর শুন্য পদগুলো হচ্ছে, জেলা পর্যায়ে মেডিকেল অফিসার (ডিসি এন্ড এস),সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার, সহকারী প্রধান পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, ম্যানেজার (নরপ), ফিল্ড অফিসার (নরপ)। উপজেলা পর্যায়ে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ৫টি, জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেসথেসিয়া) ২টি, মেডিকেল অফিসার ১৪টি, জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী) ৫টি, জুনিয়র কনঃ ( মেডিসিন) ৫টি, জুনিয়র কনঃ (শিশু) (নবসৃষ্ট) ১টি, জুনিঃ কনঃ অর্থো (নবসৃষ্ট) ৫টি, জুনিঃ কনঃ (কার্ডিও) (নবসৃষ্ট) ৫টি, জুনিঃ কনঃ (চক্ষু) (নবসৃষ্ট) ৫টি, জুনিঃ কনঃ ( ইএনটি) (নবসৃষ্ট) ৩টি, জুনিঃ কনঃ (চর্ম ও যৌন) (নবসৃষ্ট)৬টি, মেডিকেল অফিসার (ডিসি এন্ড এস) ১টি, সহকারী সার্জন ৩৩টি, এমও (নবসৃষ্ট) ১টি, ইএমও (নবসৃষ্ট) ৩টি,প্যাথলজিষ্ট (নবসৃষ্ট) ২টি, এ্যানেসথেসিষ্ট (নবসৃষ্ট) ১টি, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার ১টি, সহকারী প্রধান পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ১টি, ম্যানেজার (নরপ) ১টি, ফিল্ড অফিসার (নরপ) ১টি ও মেডিকেল অফিসার ইউনানী/ হোমিও/ আর্য়ূবেদ ৩টি। ২য় শ্রেনী জেলা পর্যায়ে ৭টি পদ শুন্য রয়েছে। এগুলো হচ্ছে,জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক ১টি, কেমিষ্ট (নরপ) ১টি, জেলা পাবরিক হেলথ নার্স ১টি, ওয়ার্কসপ তত্ত্বাবধায়ক ১টি, চীফ ম্যাকানিক ( রেফ্রিজার) ১টি, চীফ ম্যাকানিক (ম্যাকানিক্যাল)১টি ও চীফ ম্যাকানিক ( ইলেকট্রিক্যাল) ১টি। উপজেলা পর্যায়ে ১৩টি পদ শুন্য রয়েছে। এগুলো হচ্ছে, পুষ্টি বিদ (ঝিকরগাছা) ১টি, নার্সি সুপার ভাইজার ৩টি ও মিডওয়াইফ ৯টি। ৩য় শ্রেনী জেলা পর্যায়ে ৪১টি পদ শুন্য রয়েছে। এগুলো হচ্ছে, জেলা পর্যায়ে সুপারিনটেনডেন্ট ১টি, জেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর ১টি, পরিসংখ্যানবিদ ১টি,স্টোর কিপার ৩টি,ষ্টোনো-টাইপিষ্ট ১টি,প্রোগ্রাম অর্গানাইজার ১টি, প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক ১টি, অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক ৩টি, কোল্ড চেইন টেকনিশিয়ান ২টি, কীট কুশলী ২টি, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ল্যাব)১টি, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ফার্মাসিষ্ট) ২টি, স্টোর ক্লার্ক ১টি, ইলেকট্রিশিয়ান (নরপ)১টি,গৃহ পরিদর্শিকা ২টি, সহকারী সেবক/ সেবিকা (নার্স) ২টি, হিসাব রক্ষক কাম-মুদ্রাক্ষরিক (নরপ) ১টি,অডিও ভিজুয়াল অপারেটর ১টি,জুনিয়র মেকানিক (ওয়েল্ডিং)১টি,জুনিয়র মেকানিক ( পেইন্টিং)১টি, গাড়ী চালক ৪টি ও ইস্কিল্ড হেলপার (নরপ) ৮টি। উপজেলা পর্যায়ে ৩৭৪টি পদ শুন্য রয়েছে। ৪র্থ শ্রেনী জেলা পর্যায়ে ২৪টি ও উপজেলা পর্যায়ে ১০১টি পদ শুন্য রয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে বিশাল পরিমানে জনবল শুন্যর কারনে স্বাস্থ্য সেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একজন স্বাস্থ্য কর্মীকে একের অধিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। সম্প্রতি যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাক্তার নাজমুস সাদিক জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন স্বাস্থ্য বিভাগে জনবল সংকটের কারনে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকান্ড বাস্তবায়নে একজনকে অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। হাইকোর্টে নিয়োগ সংক্রান্ত রিটের কারনে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু হলে স্বাস্থ্য বিভাগে ফিরে আসবে সকলের জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করন। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে,জনবল সংকট হলেও আউট সোর্সিং প্রক্রিয়া চালু ও স্বেচ্ছা সেবক পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হচ্ছে। আর এই সুযোগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে অর্থ। আর এই কাজটি করছে স্বেচ্ছা সেবক ও আউট সোর্সিং দায়িত্ব পালনরত ব্যক্তিরা।



