দৌলতপুরে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুর শ্লীলতাহানির ঘটনায় মামলা

# লম্পট আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, নারী ও শিশু আইনে মামলা #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা নগরীর দৌলতপুর দেয়ানা বাউন্ডারী রোডস্থ মুকুল ভান্ডার এলাকায় বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) দুপুরে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে ৭ বছরের মাদ্রাসা পড়–য়া এক শিশুর সাথে শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে। সে ওই এলাকার মো. লিটন শেখের মেয়ে। ওই ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংশ্লিষ্ট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ ( সংশোধিত ২০২০)’র ১০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওই ঘটনায় জড়িত আসামীকে ঘটনাস্থল হতে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত আসামী হলেন- খালিশপুর থানা এলাকার বিহারি কোলনী-১’র বাসিন্দা মৃত: মোকসেদ আলী শেখের পুত্র মো. আলম শেখ (৩৩) বলে নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ মীর আতাহার আলী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) দুপুরে দেয়ানা বাউন্ডারী মুকুল ভান্ডার এলাকার বাসিন্দা মো. লিটন শেখের মাদ্রাসা পড়–য়া ৭ বছরের শিশু কন্যা তার তার বান্ধবীর সাথে তার কর্মরত চানাচুর কারখানার পাশে খেলছিল। ওই সময় পূর্ব হতে ওৎপতে থাকা আসামী মো. আলম শেখ শিশুটিকে চকলেটের প্রলোভন দিখিয়ে পাশ^বর্তী আকতারের পরিত্যাক্ত ভবনের নিচতলায় ডেকে নিয়ে কোলের উপর বসিয়ে কাপড়ের উপর থেকে শরীর বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থান স্পর্শ করে। শিশুটির কান্না ও চিৎকার শুনে আসামী দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে আশপাশের স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আসামীকে হাতে নাতে ধরে ফেলে, অতঃপর উত্তম মধ্যম শুরু করে। ওই ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে আসামীকে গ্রেফতার করে।
মামলার বাদী জানান, আমার স্বামী চানাচুর কারখানায় কাজ করেন। গতকাল দুপুরে তার চানাচুর কারখানার পাশেই আমার অবুঝ শিশু কন্যা তার বান্ধবীর সাথে খেলা করছিল। হঠাৎ আমার মেয়ের কান্না ও চিৎকার শুনে আগে স্থানীয় লোকজন, তারপর ওর বাবা , চাচা ও আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরবর্তীতে আমার মেয়ের কাছে বিস্তারিত ঘটনা শুনি, ওই লম্পট আমার মেয়ের সাথে শ্লালীতাহানি করেছে, তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থান স্পর্শ করেছে। বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) দুপুরেই ওই লম্পটের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আমি মামলা দায়ের করি। আমার অবুঝ শিশু কন্যার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক বিচার দাবি করছি।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই বদিউর রহমান জানান, ঘটনার পর খবর পেয়েই আমরা আসামীকে গ্রেফতার করি। ওই ঘটনায় ভিকটিমের মা বৃহস্পতিরবার দুপুরে মামলা করেছেন। মামলা তদন্তনাধীন। এ ব্যাপারে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মীর আতাহার আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ওই ঘটনার ব্যাপারে ভিকটিমের পরিবার প্রথমে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ ফোন দেয়, অতঃপর বিষয়টি অবগত হয়। ঘটনাস্থলে টহলরত অফিসারকে পাঠাই। তিনি আসামীকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নেন। ওই ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলা তদন্তনাধীন।