মহসেন জুট মিলে আন্দোলনরত শ্রমিক নেতার নামে মামলা

# লুটপাটের বাধা হয়ে দাঁড়ানো এবং শ্রমিকদের পক্ষ অবলম্বন করায় এই ষড়যন্ত্র #
# মেশিনারিজ লুটপাটের পর এবার লক্ষ লক্ষ টাকার গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ : আটক ৬ #
# নির্বাহী পরিচালক ও সিবিএ নেতা রবির যোগসাজসে চলেছে লুটপাট #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ বন্ধকৃত মহাসেন জুট মিলের কোটি কোটি টাকার মেশিনারিজ লুটপাটের পর এবার লক্ষ লক্ষ টাকার গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ, আটক-৬ । নগরীর শিরোমনি শিল্পাঞ্চলের বন্ধকৃত মহসেন জুট মিলের পুরাতন আম জাম, শিরিজ, মেহেগুনীসহ বিভিন্ন প্রজাতির লক্ষ লক্ষ টাকার গাছ রাতের আঁধারে কেটে বিক্রির উদ্দেশ্যে গেটের বাহির করার সময় শ্রমিকদের হাতে ধরা পড়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় মিলের মধ্যে থেকে এসব গাছ গেটের বাইরে নেওয়ার সময় শ্রমিকরা গাছগুলো মিলগেটে আটকে থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে খানজাহান আলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ৬জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এদের কাছ থেকে গাছ কাটার করাত, কুড়ালসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করে পুলিশ।
শ্রমিকরা এ সময় অভিযোগ করে বলেন বেশ কয়েকদিন ধরে গুঞ্জন ছিল মিলের নির্বাহী পরিচালক তাওহিদুল ইসলাম এবং সিবিএ‘র সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবির নেতৃত্বে মিলের মধ্যে দীর্ঘদিনের পুরাতন আম, জাম, মেহেগুনী, শিরিজসহ বেশ কিছু দামী বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রাতের আঁধারে কাটা হচ্ছে। এমন খবরে শ্রমিকরা মিলগেটে অবস্থান নেয়। গতকাল ২২ মার্চ শনিবার সকাল ১১টায় বিক্রয়কৃত গাছের লক মিলের গেট দিয়ে বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় শ্রমিকরা সেগুলো আটকে দিয়ে খানজাহান আলী থানা পুলিশ এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশকে খবর দেয়। খানজাহান আলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে গাছ কাটার করাত,কুড়ালসহ মোঃ বিল্লাল(২৮), তরুণ সরকার(২৮),আফজাল হোসেন(৩১),মাসুম শেখ(৬৫), মেহেদী হাসান(৫২) এবং বাবুল শেখ(৩৫)কে আটক করে।
মিলের একাধিক শ্রমিক জানায় ২০১৪ সালে মিলটির মালিক শ্রম আইন সম্পূর্ণ লংঘন করে মিলটি বন্ধ ঘোষণা করেন। বছরের পর বছর মালিক পক্ষ মিলটি চালু না করে শ্রমিকদের পাওনা টাকা পরিশোধ না করে টালবাহানা করে। পরবর্তীতে বন্ধ মিলের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনার দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম শুরু হলে মিলের শ্রমিকদের পাওনা টাকা না দিয়ে মালিক পক্ষ আত্মগোপনে চলে যান। এই সুযোগে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের খানজাহান আলী থানার সভাপতি শেখ আবিদ হোসেন মিলের নির্বাহী পরিচালক তাওহিদুল ইসলাম এবং সিবিএ‘র সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি সহ বেশ কয়েকজন সিবিএ নেতার যোগসাজসে কোটি কোটি টাকার মেশিনারিজ এবং স্ক্রাব লুটপাট করে নেয়।
মিলের শ্রমিকদের বকেয়া কোটি কোটি টাকা পাওনা পরিশোধ না করে মিল লুটপাট শুরু করে একটি পক্ষ। এ ঘটনায় শ্রমিকদের একটি অংশ এবং স্থানীয় শ্রমিক নেতারা প্রতিবাদ করলে স্থানীয় ওই প্রভাবশালী ব্যক্তি, মিলের অসাধু কর্মকর্তা, সিবিএ নেতৃবৃন্দের যোগসাজসে আন্দোলনরত শ্রমিক নেতা বেসরকারী পাট ,সুতা বস্ত্রকল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ তারেক সহ বেশ কয়েকজনের নামে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করে ঘটনা ভিন্ন দিকে প্রভাহিত করার চেষ্টা করে।
শ্রমিকরা আরও জানায় সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মিলটি ৩৬৫ জন শ্রমিকের বকেয়া প্রায় ১১ কোটি টাকা পরিশোধের বিষয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মালিকপক্ষ শ্রমিকদের বকেয়া টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত মিলের অভ্যন্তরে কোন কিছু বাইরে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিতে পারবেনা। এমন সিদ্ধান্তে মিলের নির্বাহী পরিচালক তাওহিদুল ইসলাম সিবিএ‘র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবির যোগসাজসে রাতের আঁধারে মিলের অভ্যন্তরের পুরাতন আম, জাম, মেহেগুনী, শিরিজসহ বেশ কিছু বিভিন্ন প্রজাতির দামী গাছ বিক্রির উদ্দেশ্যে কর্তন করে। বিষয়টি মিলের শ্রমিকরা জানতে মিলগেটে জড়ো হয়। গতকাল শনিবার সকালে গেট দিয়ে এ সকল গাছের লক বাহির করার সময় শ্রমিকরা আটকে দিয়ে পুলিশকে খবর দেয়। মিলের একাধিক শ্রমিক আরো অভিযোগ করে বলেন, মিলের নির্বাহী পরিচালক তাওহিদুল ইসলাম এবং সিবিএ‘র সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবিসহ কিছু লুটেরা মিলটি বন্দের পর থেকে সকল মালামাল আওয়ামীলীগের খানজাহান আলী থানার সভাপতি শেখ আবিদ হোসেন এর কাছে বিক্রি করে দেয়। এমনকি মিলের রাস্তার ইট পর্যন্ত বিক্রয় করে দিয়েছে।এ বিষয়ে খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কবির হোসেন জানান, স্থানিয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে সেখান থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ জনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে ।


