স্থানীয় সংবাদ

ঈদেও বেতন নেই খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের ৮৮জন কর্মচারির

শেখ ফেরদৌস রহমান ঃ ঈদেও বেতন পাচ্ছেনা খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের ৮৮ জন আউটসোর্সিং কর্মচারি। আর কদিন পর আসছে ঈদ-উল ফিতর। ঈদের সময়ে খরচ চলবে কিভাবে? এমনকি ছোট ছেলে মেয়েদের পোশাক ক্রয় করবে কিভাবে? এমন হতাশায় আর দুশ্চিন্তায় ধুকছেঁ এসব কর্মচারী ও তার পরিবারেরা। এ বিষয়ে কথা হয় আউটসোর্সিং কর্মচারী মোঃ ইকবলের সাথে তিনি বলেন, ঈদেও বেতন নেই। গেল জানুয়ারীর পর থেকে কোন বেতন নেই। আগে ঈদে প্রতিবছর বেতন না হলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিজের পকেট হতে বেতন দিত। এখন এই মামলার জন্য সব কার্যক্রম স্থগিত আছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে পরিচালক স্যার অনেক চেষ্টা করলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞা জন্য আমাদের এই অবস্থা। সর্বশেষ আল্লাহ উপর ভরসা যেমন তিনি চালাবেন তেমন হবে। জানা যায় গেল ১৭ বছর যাবৎ আওয়ামলীগের নেতা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান টিফোর এস এর পরিচালক মোঃ গিয়াস তিনি কাজ করেছেন। যেখানে তার সাথে এই ব্যবসায় জড়িত ছিল তৎকালিন আওয়ামলীগ নেতা মোঃ আশরাফ সহ আরও তিন জন। যারা দীর্ঘদিন যাবৎ কর্মচারীদের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে জোর পূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে প্রতি মাসে দশ থেকে বারো লাখ টাকা নিতেন। তবে ৫আগস্ট প্রেক্ষাপট পরিবর্তন স্বৈরাচার পতনের পর আশার আলো দেখছিল এসব কর্মচারীরা। এরই মধ্যে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গেল ১৮ই নভেম্বর বিভিন্ন পদে ৮৮ জন আউটসোর্সিং জনবল সরবরাহ জন্য দরপত্র আহবান কওে যার মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রিশিয়ান ১জন, প্লাম্বার ১ জন, জেনারেটর অপারেটর ২জন, মালী ২ জন, লিফটম্যান, ৩ জন, ওয়ার্ড বয় ২৬ জন, আয়া ১৭ জন, টেবিল বয় ২ জন, পরিচ্ছন্নতা কর্মি ২৮ জন, মশালচী ২ জন,।এছাড়া পত্রে উল্লেখ্য করা হয় ৫ই ডিসেম্বর দরপত্র জমা দিতে হবে। এতে করে আগ্রহী ঠিকাদারেরা এই দরপত্রে অংশ গ্রহণ করতে প্রায় ২৬ জন বিভিন্ন নামের কোম্পানি শিডিউল ক্রয় করে। এর মধ্যে শিডিউল জমা দেওয়ার আগের দিন ৪ ই ডিসেম্বর উচ্চ- আদালতে থেকে দরপত্রে সকল কার্যক্রম তিন মাসের জন্য বন্ধের জন্য রীট করে আদেশ জমা দেন এবি ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল নামের এক প্রতিষ্ঠানের পরিচাল মোঃ আলামিন। এর পর থেকে এসব কর্মচারীদের চাকুরি মেয়াদ থমকে যায়। বেতন অনিশ্চিত। তবে মেয়াদ তিন মাস পার হলেও কেন কার্যক্রম আগের মত। পাশাপাশি এবি প্রতিষ্ঠান ও এর কোন জবাব দেয়নি আদালতে। এ বিষয়ে এবি ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল এর পরিচালক মোঃ আলামিন বলেন, আমি রিট করেছিলাম এখন রিটের কি অবস্থা আছে আমি বলতে পারছিনা। ঈদের পর একটা ব্যবস্থা নিব। এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান টিএর এস এর পরিচালক মোঃ গিয়াসউদ্দিনের ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তার ব্যবহৃত ফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। তবে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার তাপস বলেন, এখন এসব কর্মচারিরা আমাদের কোম্পানির না। আমাদের মেয়াদ গেল বছর ডিসেম্বর মাসে শেষ হযেছে। এখন উচ্চ আদালতে যেহেতু রিট আছে এখন আদালত নির্ধারণ করবে ভবিষ্যত কি হবে। এ বিষয়ে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ শেখ আবু শাহিন বলেন, তিন মাসের মেয়াদ ছিল সকল প্রকার টেন্ডার কার্যক্রম বন্ধের। আমরা চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছি মন্ত্রনালয়ে। এখন কোন জবাব পাইনি। কর্মচারিরা কাজ করছে। ঈদেও বেতন পাচ্ছেনা বিষয়টি নিয়ে খুবই মন খারাপ হচ্ছে। আমার কিছু করার নেই। তারপরও আমি আমাদের আইন শাখায় নিয়মিত খবর নিচ্ছি যেন দ্রুত রিট ভ্যাকেট করা যায়। সব কিছু স্বাভাবিক হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button