সুন্দরবনে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক দূষণ বন্ধে করণীয় শীর্ষক কর্মশালা

স্টাফ রিপোর্টারঃ “পর্যটনে প্লাস্টিক নয়: সুন্দরবনে প্লাস্টিক দূষণ কমাতে এসডোর কর্মশালা রবিবার অনুষ্ঠিত হয়। ‘সুন্দরবনকে প্লাস্টিক দূষণ থেকে রক্ষা করতে হলে জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি,” বক্তব্যটি রাখেন সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইশতিয়াক আহমদ। খুলনার একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত এক পরামর্শমূলক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে এ বক্তব্য দেন। সুন্দরবনে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক দূষণ কমাতে অংশীজনদের মতবিনিময়ের জন্য এই কর্মশালার আয়োজন করে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন- এসডো ও আরণ্যক ফাউন্ডেশন। ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেস-টঘঙচঝ-এর সহায়তায় প্লাষ্টিক রিডাকশন ইনিশিয়েটিভ ইন সুন্দরবনস ট্রান্সবাউন্ডারি ইন্টারন্যাশনাল ন্যাচারাল ইকোসিস্টেমস- চজওঝঞওঘঊ প্রকল্প-এর আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এসডোর গবেষণা দল কী-নোট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মোংলা ও করমজল এলাকায় পরিচালিত প্লাস্টিক বর্জ্য নিরীক্ষার তথ্য উপস্থাপন করে। যা থেকে জানা যায়ঃ মোংলা থেকে মাত্র ২ ঘন্টায় সংগ্রহ করা হয়েছে ১০,১৬১টি প্লাস্টিক বর্জ্য (ওজন: ৮০.৪৯ কেজি), যার মধ্যে ৮৯% মাল্টি-লেয়ার প্লাস্টিক। করমজল থেকে সংগ্রহ করা হয় ১,৯১১টি বর্জ্য আইটেম (ওজন: ১৮.১৩ কেজি), যার ৬৪% অপরিকল্পিতভাবে ফেলা ছিল। প্রধান দূষণকারী হিসেবে চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানগুলোঃ প্রাণ-আরএফএল, মেঘনা গ্রুপ, কোকা-কোলা ও পেপসিকো। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডাস্টবিনের অভাব, অকার্যকর বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা এবং সচেতনতার অভাব প্লাস্টিক দূষণের মূল কারণ। যা কমিউনিটির সক্রিয় যোগদান, উন্নত অবকাঠামো, হটস্পট ম্যাপিং এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার প্রয়োজনের ওপর জোর দেয়। কর্মশালার মূল আলোচ্য বিষয় ছিলঃ পর্যটন পরিকল্পনায় একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (ঝটচ) হ্রাস, স্থানীয় পর্যায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জনসম্পৃক্ততা, পরিবেশ বান্ধব বিকল্পের সহজলভ্যতা, পর্যটকদের মধ্যে আচরণগত পরিবর্তনে সচেতনতা বৃদ্ধি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম বলেন, “এই কর্মশালাটি সময়োপযোগী। গবেষণা পরিচালনার ক্ষেত্রে কমিউনিটিকে একত্রিত করে টেকসই পর্যটন নিশ্চিত করাই এখন আমাদের দায়িত্ব।” ইশতিয়াক আহমদ আরও বলেন: “এই ধরনের অংশীদারিত্বমূলক কর্মসূচি পরিবেশ সংরক্ষণে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন)-এর সাধারণ সম্পাদক এম. নাজমুল আজম ডেভিড এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন: “আমরা পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থাপনার এবং প্লাস্টিক ব্যবহার কমিয়ে আনার অঙ্গীকার করছি।”কর্মশালায় কীনোট পেপার উপাস্থাপন করেন এসডোর রিসার্চ ও ক্যাম্পেইন এসোসিয়েট নোশিন লায়লা। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এইচ এম ফাহিম। মালিহা হক ছিলেন উপাস্থাপনায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুবির শিক্ষক মোঃ নাজমুস সাদাত।


