শেষ আশ্রয়ও বিলীন হওয়ার শঙ্কা : চরমধুপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরিপ

# দীর্ঘ দুই যুগের নদী ভাঙন #
কালিয়া (নড়াইল) প্রতিনিধি ঃ দীর্ঘ দুই যুগ ধরে নদী ভাঙনের করাল গ্রাসে বিপর্যস্ত নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের চরমধুপুর গ্রাম। একের পর এক ভিটেমাটি, ফসলি জমি আর স্বপ্ন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে শত শত পরিবার সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়েছে। শেষ আশ্রয়টুকুও চোখের সামনে নদীর পেটে চলে যাচ্ছে, অথচ প্রতিকারের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ ছিল না বহু বছর ধরে। এ অবস্থায় স্থানীয়রা জানান, ৫ আগস্ট আওয়ামী শাসনের অবসানের পর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী পুনর্গঠিত হয়ে নদী ভাঙন রোধে কার্যক্রম হাতে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় চরমধুপুর গ্রামের নদী তীর রক্ষায় নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে এলাকাবাসী। শনিবার (২৮ জুন) সকালে নড়াইল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী সায়েম রাশেদ জরিপ কাজ পরিচালনা করেন। তিনি নদীর গভীরতা নির্ণয়সহ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। সায়েম রাশেদ জানান, ‘আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জরিপ প্রতিবেদন সাবমিট করা হবে। এরপরই ভাঙন রোধে সম্ভাব্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।’ জরিপকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন কালিয়া প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান চৌধুরী, সদস্য মোল্লা রাসেল এবং ১০ নং পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মল্লিক মাহমুদুল ইসলাম। তারা বলেন, ‘দীর্ঘদিনের ভাঙনকবলিত এই গ্রামের মানুষের শেষ সম্বল রক্ষায় আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করছি।’ চরমধুপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৬৫) বলেন, ‘দুই যুগ ধরে কতবার নদী ভাঙল, হিসাব নেই। শেষ যে ভিটেটা আছে সেটাও বাঁচবে কি না জানি না। এবার যদি কিছু হয়, তবেই শেষ আশাটুকু জিইয়ে থাকবে।’ এদিকে ভাঙনপ্রবণ এলাকাজুড়ে আতঙ্ক আর ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত টেকসই নদী তীর রক্ষার স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

