অবশেষে কেসিসির বরখাস্তকৃত সহকারি কনজারভেন্সী অফিসার ফ্যাসিস্ট এ্যানির দুর্নীতির তদন্ত শুরু

# কমিটি গঠনের আড়াই মাস পর আজ তলব করেছে তদন্ত কমিটি #
স্টাফ রিপোর্টারঃ অবশেষে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের দুর্নীতির দায়ে বরখাস্তকৃত সহকারি কনজারভেন্সী অফিসার ফ্যাসিস্ট নুরুন্নাহার এ্যানির অনিয়ম দুর্নীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহারের তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠনের দীর্ঘ আড়াই মাস পর তার তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী এ্যানীকে শুনানীর জন্য তদন্ত কমিটি নগরভবনে তলব করেছে। গত ২৬ জুন শুনানীর চিঠি তদন্ত কমিটি পলাতক সাবেক মেয়র তালুকদার আঃ খালেকের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত এ্যানীর নিকট প্রেরণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিতে আহবায়ক হিসেবে রয়েছেন কেসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনুর জাহান, সদস্য কেসিসির ভেটেরিনারি অফিসার ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস ও সদস্য কনজারভেন্সী অফিসার মোঃ অহিদুজ্জামান খান। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “আপনার (্এ্যানী) বিরুদ্ধে রুজুকৃত ৩/২৪নং বিভাগীয় মামলার শুনানী আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দপ্তরে অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত শুনানীতে আপনার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি ও সাক্ষ্য প্রমানাদিসহ যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য বলা হলো।” এ্যানীর বিরুদ্ধে গত ২১ আগস্ট’২৪ দায়েরকৃত বিভাগীয় মামলায় উল্লেখ করা হয়, “রেশমা খাতুন গং কর্তৃক গত ৭ আগস্ট’২৪ অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, তারা খুলনা সিটি কর্পোরেশনে আউট মৌর্সিং-এ বিভিন্ন কাজে শ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। আপনি বিভিন্ন সময়ে তাদের অনেকের কাছ থেকে মাস্টাররোলে চাকুরী দেয়ার কথা বলে টাকা ঘুষ নিয়ে আউট সোর্সিং এ চাকুরী দিয়েছেন। আউট সোর্সিং এ চাকুরী দিলেও তাদের ৩০ দিনের কাজ করিয়ে ১৫/২০ দিনের হাজিরা দেন। যার কারণে তারা যে পারিশ্রমিক পান তা দিয়ে তাদের সংসার নির্বাহ করা সম্ভব হয় না। এছাড়া আপনি সাবেক মেয়রকে বলে তাদের বেতন বৃদ্ধির আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তারা আপনাকে বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে একাধিকবার তাগিদ প্রদান করলে আপনি রাগান্বিত হয়ে চাকুরী থেকে অব্যাহতি প্রদানের হুমকি দেন। এছাড়া তাদের পারিশ্রমিক নিয়েও আপনি টালবাহানা করেন। বিধায় তারা আপনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছেন। যেহেতু, আপনার এহেন কর্মকান্ডে ২০ আগস্ট প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ কেসিসি’র অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ক প্রতিনিধিরা ভীষণভাবে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আপনাকে চাকুরী হতে বরখাস্ত করার জন্য প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেছেন। তাছাড়া আপনি মশক নিধনের যন্ত্রপাতি, তেল, মালামাল রুমে তালাবদ্ধ রেখে অননুমোদিত ভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার ফলে কঞ্জারভেন্সি শাখার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে আপনার দায়িত্ব প্রাপ্ত স্থানের রুমের তালা ভেঙ্গে কঞ্জারভেন্সি মালামাল বের করে কঞ্জারভেন্সি শাখার কার্যক্রম চালানো হয়। এছাড়া আপনার বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগের কারণে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। যেহেতু, আপনার সহকারী কঞ্জারভেন্সি অফিসার পদে চাকুরী পাবার আবেদনে প্যারা মেডিকেল ডিপ্লোমা স্নাতকসহ পাঁচ বছরে অভিজ্ঞতা নেই। এছাড়া একই আবেদনের মার্জিনে আপনার চাহিত অভিজ্ঞতা নেই মর্মে দেখা যায়। আপনি ২০০৩ সালে এস.এস.সি পাশ করেন এবং ২০০৪ সালে এইচ.এস.সি পাশ করেন। এতে প্রমাণ করে আপনি ভূয়া সনদপত্র দাখিল করে চাকুরীতে যোগদান করেন। যেহেতু, আপনার এহেন অপরাধ খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকুরী বিধিমালা ১৯৯৩ এর ৩৮ (ক) (খ) এবং (৩) ধারায় বর্ণিত দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচরণ, পলায়ন এবং দুর্নীতি পরায়নের সামিল। যেহেতু, আপনার এহেন কর্মকান্ডের জন্য কর্তৃপক্ষ আপনার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেহেতু, আপনি নূরুন্নাহার এ্যানি, পিতা-শেখ নুরুল ইসলাম, সহকারী কঞ্জারভেন্সি অফিসার, এর বিরুদ্ধে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকুরী বিধিমালা ১৯৯৩ এর ৩৮ (ক) (খ) এবং (ঙ) ধারায় বর্ণিত দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচরণ ও দুর্নীতির অপরাধে অভিযোগ আনায়ন করা হলো এবং একই অভিযোগের কারণে একই বিধি মালার ৩৯(১) ধারানুযায়ী কেন আপনাকে চাকুরি হতে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে না তা লিখিত ভাবে জানানোর জন্য নির্দেশক্রমে বলা হলো। উল্লেখ্য, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী ফ্যাসিস্ট এ্যানীর অনিয়ম দুর্নীতি তদন্তের জন্য গত ১৫ এপ্রিল কেসিসির সচিব শরীফ আসিফ রহমান এ কমিটি গঠন করেন। কিন্তু দীর্ঘ আড়াই মাস হয়ে গেলেও কমিটি তদন্ত শুরু না করায় কেসিসির সাধারণ কর্মচারিরা হতাশ হয়ে পরে। শুরু করে নানা সমালোচনা। তবে এ ব্যাপারে সচিব শরীফ আসিফ রহমান বলেন, বর্তমানে কর্মকর্তারা একাধিক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে করে তারা খুবই ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে তদন্ত কোনভাবে বন্ধ হবে না বলে তিনি ওই সময় আশ্বস্ত করেন।



