স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় টিসিবি’র কার্ড পেতে অসহায় মানুষের হাহাকার!

# পূর্বে খুলনায় মোট কার্ডধারী ছিল ৮৫,৩৬১ জন, বাতিল করা হয়েছে ৪১,০৫০ টি কার্ড # যাচাই-বাছাই শেষে বর্তমানে ৩১টি ওয়ার্ডে সক্রীয় কার্ডধারীর সংখ্যা ৪৪,৩১১ জন

# নতুন হিসাবে নিবন্ধিত হচ্ছে ৪১,০৫০ টি, কার্ড হাতে পেতে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে অসহায় মানুষেরা, সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ

মো. আশিকুর রহমান : আব্দুল কাদের হাওলাদার (৭০), পেশায় একজন রিক্সাচালক। তিনি খুলনা নগরীর কেসিসি ৫নং ওয়ার্ডের একজন বয়স্ক বাসিন্দা। বাড়ীতে শয্যাশয়ী প্যারালাইসিসে আক্রান্ত বয়স্ক স্ত্রী। বয়সের ভার নিয়েও পেট চালানোর তাগিদে রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তিনি প্রায় প্রতিদিনই হাজির হন ওই ওয়ার্ড অফিসটিতে। জানতে চান, তার টিসিবির কার্ডটি আসছে কিনা। প্রতি উত্তরে অফিসে বসা কর্মকর্তারা একই উত্তর দিয়ে চলেছেন আপনার কার্ড এখনো হাতে পায়নি, আমরা। হাতে পেলে ফোনো করে ডেকে দেবো, অতঃপর তিনি ফিরে যান। লাইলি বেগম (৭২), এক বিধবা বয়স্ক নারী। স্বামী মারা গেছে প্রায় ১৫ বছর হলো। ছেলে-মেয়েকে বিবাহ দেওয়ার পর তিনি একা একটু ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন। দ্রারিদ্রতা তার এখন একমাত্র সঙ্গী। দু’চার দিন পর পর খোঁজ খবর নেন নগরীর ৫ নং ওয়ার্ড অফিসে, তার স্মার্ট কার্ডটি এসেছে কিনা, সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে ফিরে যান। মনোয়ারা একজন গৃহপরিচারিকা। মানুষের বাড়ীতে বাড়ীতে কাজ করে তার পেট চলে। তিনিও তার স্মার্ট কার্ডটি হাতে পেতে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড অফিসে যোগাযোগ অব্যহত রেখেছেন। প্রতি মাসে ট্রেডিং কর্পোরেশন বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রদত্ত সাশ্রয়ী মূল্য চাল, ডাল, তেল ও চিনিসহ বিধিধ পণ্য পেতে এমনই- একাধীক নি¤œ আয়ের সাধারন অসহায় মানুষগুলো চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টদের প্রতি। টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডটি পেতে এভাবে মাসের পর মাস হাহাকার করছেন উপকারভোগীরা। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে স্মার্ট কার্ডটি হাতে পেতে টিসিবির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন। সূত্রে জানা গেছে, ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’ উপকারভোগীদের ম্যানুয়ালী সিস্টেম থেকে ডিজিটাল সিস্টেমে (অনলাইন) ভিক্তিক কার্যক্রমে আওতায় অর্ন্তভূক্তির জন্য প্রকৃত অসহায়দের ছাড়াও বিগত সময়ে কার্ড বিতরণে বিভিন্ন অনিয়ম (এক পরিবারে একাধীক কার্ডসহ বিবিধ) দূরকরণে সংশ্লিষ্টরা সারা বাংলাদেশে ৪৩ লক্ষ কার্ড বাতিল করেন এবং বাতিল কার্ডের বিপরীতে নতুন করে উপকারভোগীদের নিবন্ধনের কার্যক্রম শুরু করেন, যার প্রক্রিয়া চলমান। তাছাড়া যাচাই-বাছাই শেষে যাদের স্মার্ট কার্ড প্রদান করা হয়েছে, তাদের জিজিটাল (অন-লাইন) সিস্টেমের মাধ্যমে অর্থ্যাৎ, একজন স্মার্ট কার্ডধারীর বার কোর্ডের মাধ্যমে তার মোবাইল নম্বরসহ যাবতীয় তথ্য যাচাই-বাছাই পূর্বক পণ্য হস্তান্তর করা হচ্ছে। জানা গেছে, বিগত সময়ে খুলনা মহানগরীর ৩১ টি ওয়ার্ডে মোট টিসিবির কার্ডের সংখ্যা ছিল ৮৫ হাজার ৩’শ ৬১ টি। একই পরিবারে একাধীক কার্ডসহ বিবিধ বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে ৪১ হাজার ৫০ টি কার্ড বাতিল করেন সংশ্লিষ্টরা। ওই বাতিল কার্ডের বিপরীতে বর্তমানে মহানগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে নতুন করে উপকারভোগীর নিবন্ধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ওই ধারাবাহিকতায় , বর্তমানে খুলনা ৩১ টি ওয়ার্ডে যথাক্রমে- ১ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ২৫৫০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ১৫৮৭ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ৯৬৩ টি, ২ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ২৫৫০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ১০৭৯ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ১৪৭১ টি, ৩ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ২৬৫০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ১৯৫ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ২৪৫৫ টি, ৪ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ২৫৫০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ১০৯৮ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ১৪৫২ টি, ৫ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ২৫৫০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ১২০৩ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ১৩৪৭ টি, ৬ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ২৫৫০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ১৬৬৮ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ৮৮২ টি, ৭ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ২৫৫০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ১৯৩০ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ৬২০ টি, ৮ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ২৫৫০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ৯৩৮ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ১৬১২ টি, ৯ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ৩৩৫০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ২০২২ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ১৩২৮ টি, ১০ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ৩১১০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ১৫১৭ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ১৫৯৩ টি, ১১ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ২৫৫০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ১৪৫১ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ১০৯৯ টি, ১২ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ২৫৫০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ৮২৫ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ১৭২৫ টি, ১৩ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ২৫৫০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ১০১৭ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ১৫৩৩ টি, ১৪ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ৩১০০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ১৫৯৫ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ১৫০৫ টি, ১৫ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ২৫৫০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ১৭৮২ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ৭৬৮ টি, ১৬ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ২৭০০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ৮০৩ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ১৮৯৭ টি, ১৭ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ৩৩৫০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ৯২৫ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ২৪২৫ টি, ১৮ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ২৫৫০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ১১৩১ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ১৪১৯ টি, ১৯ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ২৫২৫ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ১৬৫০ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ৮৭৫ টি, ২০ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ২৪২৫ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ১৪২০ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ১০০৫ টি, ২১ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ২৮০১ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ১৭৬৭ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ১০৩৪ টি, ২২ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ২৫৫০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ১১৭৫ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ১৩৭৫ টি, ২৩ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ২৫৫০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ১০৭৯ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ১৪৭১ টি, ২৪ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ৩৪০০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ২৬৩৫ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ৭৬৫ টি, ২৫ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ২৫৭৫ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ১৮৪১ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ৭৩৪ টি, ২৬ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ২৪২৫ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ৫৫২ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ১৮৭৩ টি, ২৭ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ৩৩৫০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ২৪৪৭ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ৯০৩ টি, ২৮ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ২৫৫০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ১৯১৪ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ৬৩৬ টি, ২৯ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ২৫৫০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ১৬৪৪ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ৯০৬ টি, ৩০ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ৩৪০০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ১৬৫৯ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ১৭৪১ টি ও ৩১ নং ওয়ার্ডে পূর্বে কার্ডের সংখ্যা ছিল ৩৪০০ টি, বর্তমানে সক্রীয় (একটিভ) কার্ডের সংখ্যা ১৭৬২ টি, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়াই রয়েছে ১৬৩৮ টি কার্ড।
বয়স্ক রিক্সা চালক আব্দুল কাদের (৭০) বলেন, আমার স্ত্রী বিছানায় পড়ে কয়েক বছর ধরে। এই বৃদ্ধ বয়সেও আমি রিক্সা চালিয়ে খাচ্ছি, তবে কারো কাছে হাত পাতি না। কার্ডে আগে চাল, তেল, ডাল তুলতে পারতাম। কয়েক মাস ধরে তুলতে পারছি না। ওই মাল গুলো পেলে আমার উপর কিছুটা চাপ কমতো। ৫ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল ও ২ কেজি তেল পেলে আমার প্রায় মাস হয়ে যেত। কারণ বাড়ীতে আমার অসুস্থ স্ত্রী ও আমি। কবে কার্ড পাবো, আমাদের মতো গরীব মানুষের দিকে একটু তাকান!
দৌলতপুর ৫নং ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা বিধবা লাইলী বেগম জানান, আমার স্বামী মারা গেছে বহু বছর হলো। ছেলে মেয়েরা বিয়ে করে তাদের মতো থাকে। আমি একা মানুষ কোনো রকম খেয়ে পড়ে বেঁচে আছি। টিসিবির চাল, ডাল, তেল, পেয়ে আমি একা মানুষ ভালো ভাবে চলতে পারতাম। কারণ বাজারে সব জিনিসের দাম খুব বেশি। কয়েক মাস গত হলো টিসিবির মাল পাচ্ছি না। ওয়ার্ড অফিসে জানতে চাইলে বলে আপনার কার্ডের নিবন্ধন হয়ে গেছে। কার্ড এখনো অফিসে আসেনি, কবে আসবে জানি না। এমনভাবে চলছে কয়েক মাস চলছে। জানি না কবে কার্ড পাবো, আর কবে পণ্য কিনবো। আমাদের মতো গরীব মানুষ টিসিবির মাল না পেয়ে খুব কষ্টে আছি।
গৃহপরিচারিকা মনোয়ারা বলেন, আমি মানুষের বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে কাজ করে সংসার চালায়। টিসিবির চাল, ডাল, তেল পেয়ে খুব উপকৃত হতাম। কয়েক মাস হলো মাল পাচ্ছি না। জিজ্ঞাসা করলে বলে আপনার কার্ড আসেনি। কবে আসবে তাও বলতে পারে না। আমরা গরীব মানুষ কত আর এভাবে দিন গুনবো। কার্ড আসা পর্যন্ত অন্য কোনো উপায়ে কি আমাদের মালটা দেওয়া যায় না?
খুলনা নগরীর আঞ্জুমান রোড এলাকার বাসিন্দা গৃহিনী হামিদা খাতুন জানান, পূর্বে কার্ড দিয়ে নিয়মিত টিসিবির পণ্য কিনতাম। ম্যানুয়াল কার্ড থেকে স্মার্ট কার্ডের অর্ন্তভুক্ত হয়েছি প্রায় ৪ মাসের মতো, কিন্তু পণ্য পাচ্ছি না। বাজার থেকে টিসিবির পণ্য বেশ সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যায়। কার্ড পেতে আর কতো দিন অপেক্ষা করতে হবে? দ্রুত সময়ে মধ্যে স্মার্ট কার্ড প্রদান করা জন্য সংশ্লিদের সু-দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
তালা-চাবি মেরামতকারী জাকির জানান, পরিবারের লোক সংখ্যা ৭ জন। টিসিবির কার্ডে পণ্য কিনে সংসার চালাতে বেশ উপকৃত হতাম। গত ৫ আগস্টের পর থেকে আর পণ্য ক্রয় করতে পারি নাই। অফিসে গেল বলে আপনার কার্ড নিবন্ধিত হয়েছে, কিন্তু কার্ড না আসলে পণ্য ক্রয় করতে পারবেন না। জানি না কার্ড কবে হাতে পাবে। বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্য নাই। খুব কষ্টে দিন কাটাছে, অন্তত টিসিবির প্রতি মাসের পণ্যটা পেলেও এই কষ্ট কিছুটা কমতো। যারা কার্ড দেবেন তাদের প্রতি অনুরোধ আমাদের মতো গরীব মানুষের কথা বিবেচনা করে একটু দ্রুত কার্ডটি প্রদান করুন।
এ বিষয়ে সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনার সাঃ সম্পাদক এড. কুদরত ই খুদা জানান, সেবা প্রত্যাশিদের ম্যানুয়াল সিস্টেম থেকে ডিজিটাল অর্থ্যাৎ র্স্মাট কার্ডের আওতায় আনা হচ্ছে, নিঃসন্দেহে এটা ভালো দিক। তবে র্স্মাট কার্ড হাতে না পাওয়া পর্যন্ত সাধারন অসহায় মানুষ পণ্য কিনতে পারবে না, তারা কষ্টে থাকবে এটা হতে পারে না। এটা সাধারন মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা ও আন্তরিকতার অভাব ছাড়া আর কিছুই নয়। কেননা, প্রসিডিউর দেরি হতে পারে কিন্তু সাধারন মানুষের পেট তো দেরি সহ্য করতে পারে না। ক্ষুর্ধাত মানুষকে ক্ষুর্ধাত রেখে প্রসিডিউর দেখানো অমানবিক। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এই সমস্যার সমাধানে বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে বের করা উচিৎ বলে আমি মনে করি।
এ বিষয়ে টিসিবির যুগ্ম-পরিচালক ও খুলনা আঞ্চলিক অফিস প্রধান মো. আনিছুর রহমান জানান, টিসিবি একটি বিশাল পরিসর নিয়ে কাজ করছে। তৃনমূল পর্যায় থেকে শুরু করে মন্ত্রনালয় পর্যন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একজন কার্ডধারীকে ম্যানুয়ালী সিস্টেম থেকে র্স্মাট পর্যায়ে আনতে যাচাই-বাছাই করে নানামুখি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে এই কার্যক্রম অব্যহত আছে, সারাদেশের মতো খুলনা মহানগরীতেও উপকারভোগীদের নতুন নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে শীঘ্রই নতুন নিবন্ধিত উপকারভোগীরা তাদের স্মার্ট কার্ড হাতে পাবেন।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button