খুলনায় ৬০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনায় ৬০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। শনিবার (২৬ জুলাই) খুলনা ক্লাবে সুন্দরবন ডেল্টা উন্নয়ন উদ্যোগ (ঝউএর) এবং আরব কন্ট্রাক্টর ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোর্টিয়ামের মধ্যে ৬০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি খুলনাসহ দেশের নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপন করবে। অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ, বিদেশি বিনিয়োগকারী, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং শিল্প উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন, যা প্রকল্পের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঝউএর চেয়ারপার্সন সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগার লবী। অনুষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে ছিলেন ঝউএর সদস্য সচিব এম এ এন শাহীন। বক্তৃতা করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসনের প্রফেসর ড. শেখ মাহমুদউল হাসান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের ড. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. এসএম শফিকুল আলম মনা। বিদেশি অংশীদারদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন আরব কন্ট্রাক্টর ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধি লি গ্যাং, ঝাং শিয়াওডং ও শি লেং। বক্তারা প্রকল্পের গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন, এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি কেবল একটি সাধারণ বিনিয়োগ নয়, বরং এটি বিশ্বস্ততা, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের এক মূর্ত প্রতীক। তাঁরা জানান, একোস্টার-এডভান্সড কো-অপারেশন করপোরেশন (অঈঙজঈ)-এর সহযোগিতায় বৈশ্বিক ডেভেলপার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একত্রিত করে কার্বন নিঃসরণ কমানো, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে শিল্পায়ন গড়ে তোলা হবে। বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নদীপথ ও পোর্ট সক্ষমতা বৃদ্ধি, পর্যটনভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ শিল্প পুনর্ব্যবহার এবং সুন্দরবন ভূমি সংরক্ষণ প্রকল্পে সবুজ প্রযুক্তি ও ম্যানুফ্যাকচারিং ইকোসিস্টেম তৈরি হবে। অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয় : “খবঃ ঃযব উবষঃধ ংযরহব. খবঃ ঃযব ঝঁহফধৎনধহং ষবধফ ঃযব ধিু. এটি কেবল প্রকল্পে বিনিয়োগ নয়, বরং মানুষের মধ্যে, শান্তি ও টেকসই গ্রহে বিনিয়োগ। ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি ২০০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের বৃহৎ পরিকল্পনার প্রথম ধাপ। সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ২৫ শতাংশ শক্তি সবুজ উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করা। এই প্রকল্প সেই লক্ষ্য পূরণে এক বিশাল পদক্ষেপ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অর্থনীতিবিদরা বলেন, নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের এই প্রকল্পটি খুলনা অঞ্চলকে দেশের শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের নতুন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। প্রকল্পটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত জ্ঞান বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক উন্নয়নও সম্ভব হবে। আজকের এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান খুলনার জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যা সবুজ এবং টেকসই ভবিষ্যতের পথে এক নতুন যাত্রা শুরু করল।।



