স্থানীয় সংবাদ

নগরীতে ব্যাংকে বোরকা পরে সাড়ে আট লক্ষ টাকা ডাকাতি

# জনতা গণধোলাই খেয়ে হাসপাতালে এক ডাকাত #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ নগরীর কদমতলা মোড়ে দিনে দুপুরে ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে বোরকা পরে নারী সেজে অভিনব পদ্ধতিতে ডাকাতি। এজেন্টকে বেঁধে আট লাক্ষ ৫৪ হাজার টাকা লুট। ডাকাতকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে আশাপাশের ব্যাবসায়ী ও শ্রমিকরা। তবে ২৪ ঘন্টা পার হলেও টাকা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ব্যাবসায়ী মহলে আতঙ্ক ও ক্ষোভ। বৃহষ্পতিবার দুপুরে নগরীর কদমতলা মোড়ে ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকের শাখায় বোরকা পরে ব্যাগ হাতে এক নারী প্রবেশ করে। এরপর তিনি ছুরি বের করে এজেন্ট মেসার্স নিউ মোদিনা ভান্ডার এর প্রোপাইটর বেলায়েত হোসেন বকুলকে ভয় দেখান। এ সময় বেলায়েত হোসেন বকুল তাকে প্রতিহত করতে হলে দোকানের মধ্যে পরে যায়। পরে ডাকাত তার হাত পা মুখ বেঁধে ক্যাশ থেকে আট লাখ ৫৪ হাজার নয়শত আশি টাকা নিয়ে যায়। হাত পা মুখ বাঁধা অবস্থায় এজেন্ট বকুল দোকান থেকে বের হয়ে চেঁচামেচি করলে আশাপাশের ব্যাবসায়ীরা ডাকাতকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে বাইরে থাকা ডাকাতের সহযোগীরা টাকার ব্যাগ নিয়ে চলে যায়।
এ বিষয়ে বেলায়েত হোসেন বকুল বলেন, আমি দুপুরে নিজেই কাউন্টারে একা বসে ছিলাম। এ সময় বোরকা পরে ডাকাত দলের সদস্য ভিতরে প্রবেশ করে ছুরি বের করে। আমি নারী ভেবে ছুরি হাতে তাকে দেখে প্রথমে ভীতসন্ত্রস্ত হয় এবং তাকে প্রতিহত করতে গেলে নিচে মেঝেতে পরে যায়। পরে সে আমার হাত, পা, মুখ বেঁধে ক্যাশ থেকে টাকা নিয়ে বের হয়ে বাইরে থাকা অপর সদস্যদের কাছে ব্যাগ দিয়ে দেয়। আমি কোনরকমে বের হয়ে আশপাশের লোকজনকে ডাক দিলে তারা বোরকা পরা ডাকাত সদস্য মাসুদ রানা সাজ্জাতকে আটক করে পুলিশে দেয়। তবে টাকা এখনও উদ্ধার হয়নি। এ বিষয়ে খুলনা সদর থানায় আমি মামলা দায়ের করেছি। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই সাঈদ বলেন, গ্রেফতারকৃত মাসুদ রানা সাজ্জাদ বাগেরহাটের মোল্লাহাটের বাসিন্দা। বর্তমানে সে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে আছে। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার সানোয়ার হোসেন মাসুম বলেন, এই ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এই ঘটনার পর থেকে কদমতলা বাজার এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ব্যাবসায়ীরা বলছেন, ঘটনার ২৪ ঘন্টা পার হলেও ডাকতি করে নেওয়া টাকাও উদ্ধার হয়নি ও এই চক্রের অন্য সদস্যদেরও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এটি আমাদের ব্যাবসায়ীদের জন্য হুমকি স্বরূপ। এই চক্রকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান তারা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button