নানা জটিল কারণে আটকে আছে ভৈরব সেতুর নির্মাণ কাজ

সৈয়দ জাহিদুজ্জামান দিঘলিয়া খুলনা থেকে ঃ নকশায় ত্রুটি, জমি অধিগ্রহণ, খুলনা শহরাংশে বিদ্যুতের খুঁটি স্থানান্তরসহ নানা জটিল সংকটে খুলনার মানুষের স্বপ্নের ভৈরব সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ হচ্ছে। নির্ধারিত মেয়াদে শেষ হয়নি খুলনার ভৈরব নদের ওপর নির্মাণাধীন ভৈরব সেতুর নির্মাণ কাজ। শুধু তাই নয়, কাজ শুরুর সাড়ে তিন বছরে অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশ। ফলে এই সেতুটি কবে বাস্তবায়িত হবে আর মহানগরী খুলনার সঙ্গে দিঘলিয়া উপজেলা ও নড়াইল জেলার গণমনুষের সরাসরি সংযোগ হবে, তা বলতে পারছে না কেউই।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রণের দাবী দল-মতের উর্ধ্বে থেকে দ্রুত সেতুটি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হোক। পাশাপাশি বর্তমানে সেতুটির নির্মাণ কাজে কেন শৈথিল্যতা প্রদর্শন করা হচ্ছে তা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের ক্ষতিয়ে দেখা দরকার।
তাঁরা বলেছেন, দিঘলিয়া তথা খুলনার গণমানুষের দীর্ঘদিনের দাবী ও প্রতিক্ষার ফসল এবং আকাঙ্খার প্রতীক সেতুটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের অবহেলিত কৃষিনির্ভর দিঘলিয়াসহ ভৈরবপারের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সেতু প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, মহানগরী খুলনার সঙ্গে দিঘলিয়া, নড়াইল, গোপালগঞ্জ হয়ে ঢাকার সহজ যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নব দিগন্তের উন্মোচন হবে। খুলনাসহ দিঘলিয়ার বাণিজ্যিক জোনসহ আশপাশের এলাকার সংযোগ স্থাপনে ভৈরব নদের ওপর একটি সেতুর নির্মাণের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। ২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর এ ভৈরব সেতু নামের প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন লাভ করে। স্টিল স্ট্রাকচারের ১.৩১৬ কিলোমিটার সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৬১৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
এর মধ্যে মূল সেতু নির্মাণে ৩০৩ কোটি টাকা, জমি অধিগ্রহণে ২৮১ কোটি টাকা ও বাকি বরাদ্দ সেতুসংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজে ব্যয় হবে। ২০২০ সালের ২৭ জুলাই সেতু নির্মাণ কাজের দরপত্র আহবান করে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে কাজটি বাস্তবায়ন করছে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড (করিম গ্রুপ) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। জমি অধিগ্রহণের কাজ না হলেও ২০২১ সালের ২৪ মে দিঘলিয়া প্রান্তে ২৪ নম্বর টেস্ট পাইলিংয়ের নির্মাণকাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।
বিভিন্ন দফায় সময় বৃদ্ধির পর সর্বশেষ সেতুটি নির্মাণের শেষ সময় ছিল ২০২৪ সালের ৩০ জুন। কিন্তু নকশা পরিবর্তন ও জমি অধিগ্রহণ জটিলতার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি আগামী ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে গেল বছর প্রায় আট মাস কাজ বন্ধ ছিল, যা ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে শুরু হয়েছে। বর্তমানে সেতুর নির্মাণ কাজে গতি আনতে গেলে সেতুটির বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ ভূমি অধিকরণ, পরিবর্তিত নকশার অনুমোদন ও অর্থ ছাড়, ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে সেতুর সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে সেতুর নির্মাণ কাজে গতি ফরানো।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এস এম নাজমুল সাংবাদিকদের জানান, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে তাঁদের কাজ করতে হয়েছে। সাড়ে তিন বছরে কাজের অগ্রগতি ১৯ শতাংশ। সেতুটির পরিবর্তিত নকশার অনুমোদন ও তা আমাদের নিকট ফিরে এলে কাজের গতি বাড়বে।
২৮টি পিলারের মধ্যে ২০টির কাজ শেষ হয়েছে। নতুনভাবে আবার কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দ্বিতীয় দফায় ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে। সেতুটির নির্মাণ কাজের সকল সংকট উত্তরণে ফুল গতিতে শেষ অবধি কাজ করা গেলে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে ভৈরব নদের উপর নির্মাণাধীন ভৈরব সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করা সম্ভব হলে বিজ্ঞমহল মনে করছেন।



