খুলনা জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ : তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণের নির্দেশ

# মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের চিঠি #
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তারের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরনের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ। ২১ জুলাই মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন শৃঙ্খলা অধিশাখা থেকে খুলনা জেলা বরাবর একটি স্মারক পাঠানো হয়। সেখানে আগামী ১ মাসের মধ্যে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়ে জানানো হয়। এছাড়া গত ৭ জুলাই বিভিন্ন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিকরা এসব অভিযোগ উল্লেখসহ তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে মন্ত্রীপরিষদ সচিব বরাবর একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, খুলনা জেলা পরিষদে যোগদানের পরেই তাছলিমা আক্তার পরিষদের সচিব এর জন্য নির্ধারিত বাসাটি থাকার জন্য আবেদন করেন এবং কর্তৃপক্ষকে ভুল বুঝিয়ে তিনি উক্ত বাসাটি ব্যবহার অনুপযোগী (কনডেমড) মর্মে ৫ হাজার টাকা মাসিক ভাড়ায় বরাদ্দ নিয়ে বসবাস করছেন। বাসায় উঠেই তিনি নানা সংস্কারের আবদার করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ৬ জন চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীর বাসা মেরামত দেখিয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করে উক্ত কনডেম বাসা মেরামত করান। তারপর তিনি কর্তৃপক্ষকে ভুল বুঝিয়ে ঐ বাসায় দোলনা স্থাপনের জন্য উন্নয়ন মূলক প্রকল্প হতে ১ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। সাধারণত কনডেম বাসায় বিধি মোতাবেক মেরামত বা সংস্কার করার সুযোগ নেই বলে উল্লেখ রয়েছে অভিযোগে। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, বিগত ৫ আগষ্ট ২০২৪ তারিখে আন্দোলন চলাকালে অগ্নিসংযোগে খুলনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার জীপ গাড়িটি আগুনে পুড়ে ভষ্মিভূত হয়। অপরদিকে চেয়ারম্যান/ প্রশাসক এর জন্য নির্ধারিত গাড়িটি বিকল থাকায় মেরামতের জন্য কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা বা সচিবের জন্য কোন গাড়ি বরাদ্দ না থাকলেও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার জন্য ভাড়া করা গাড়িটি নিজের ইচ্ছামত ব্যবহার করে চলেছেন তাছলিমা আক্তার। তিনি উক্ত ভাড়া করা গাড়ি নিয়ে বাজার করা, পারিবারিক ভ্রমন করা, মেয়ের স্কুলে আনা নেওয়া, স্বামীকে কলেজে আনা নেওয়া, আত্মীয় স্বজনের আম মাছ ইত্যাদি পরিবহন, মেয়েদের সাতার শেখার জন্য সুইমিং পুলে আনা নেওয়া, বাসার পানি পরিবহন সহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে থাকেন। অথচ তিনি যোগদানের পর থেকে অদ্যবদি একটিও উন্নয়ণ মূলক কাজ পরিদর্শন করেননি। তাই জেলা পরিষদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যহত হচ্ছে বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে। এছাড়াও অভিযোগে আরো বলা হয়, তাছলিমা আক্তারের নির্বাহী কর্মকর্তা বা সচিব পদটি ইতোপূর্বে গুরুত্ব বহন করতো। কিন্তু ২০০০ সালের পরে বাংলাদেশ সরকারের একজন উপ-সচিব কে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের বিধান করায় সচিবের পদটি গুরুত্ব হারায়। সাধারণত যেখানে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থাকে না সেখানে নির্বাহী কর্মকর্তা বা সচিব পদায়ন করে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়। কিন্তু খুলনা জেলা পরিষদে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও তিনি খুলনা এডিসি পদ ছেড়ে নির্বাহী কর্মকর্তা পদ বা সচিব পদে তদবীর করে পদায়ন নিয়েছেন। সে কারণে অনর্থক তার জন্য প্রতিমাসে জেলা পরিষদকে ৫ লক্ষ টাকা ব্যয় করতে হয়। অথচ নড়াইল, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ সহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ২টি পদই খালি আছে। তাই খালি স্থান গুলোতে পদায়ন নিশ্চিত করাটা জরুরী ছিলো বলে অভিযোগে জানানো হয়। এ অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২১ জুলাই মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন শৃঙ্খলা অধিশাখা থেকে খুলনা জেলা পরিষদ বরাবর একটি স্মারক পাঠানো হয়। সেখানে আগামী ১ মাসের মধ্যে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়ে জানানো হয়। এদিকে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য খুলনা জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তারের মুঠোফোনে বলেন, আমার বিষয়ে অভিযোগ বা তদন্ত বিষয়ে আমি কিছু জানিনা এমনকি অভিযোগের বিষয়ে আমার জানা নেই।
