স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় অসহায় মানুষের মুখে স্বস্তির হাসি

# দীর্ঘদিন পরে হলেও ৩১টি ওয়ার্ডে ২১,৩৮৪ টি ফ্যামিলি র্স্মাট কার্ড প্রদান করেছে টিসিবি #
# বাকি কার্ডও প্রাপ্তির ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রদান করা হবে জানিয়েছেন: সংশ্লিষ্টরা #

মো. আশিকুর রহমান : নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা, যাতে করে সাধারণ মানুষ ন্যায্য মূল্যে এই পণ্যেগুলো কিনতে পারে। বিশেষ করে সংকটকালে খোলা বাজারে যখন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়, ঠিক সেই মূহুর্তে বাংলাদেশ ট্রেডিং কর্পোরেশন (টিসিবি) গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে আসছে। টিসিবি প্রদত্ত এই ন্যায্য মূল্য পণ্যে কিনতে পেয়ে সমাজের সুবিধা বঞ্চিত সাধারণ মানুষগুলো চরম উপকৃত হলেও টিসিবির উপকারভোগীদের ম্যানুয়ালী সিস্টেম থেকে ডিজিটাল সিস্টেমে (অনলাইন) ভিক্তিক কার্যক্রমে আওতায় অর্ন্তভূক্তি, প্রকৃত অসহায়দের ছাড়াও বিগত সময়ে কার্ড বিতরণে বিভিন্ন অনিয়ম (এক পরিবারে একাধীক কার্ডসহ বিবিধ) দূরীকরণে সংশ্লিষ্টরা সারা বাংলাদেশে ৪৩ লক্ষ কার্ড বাতিল করেন। বাতিল কার্ডের বিপরীতে নতুন করে উপকারভোগীদের নিবন্ধনের কার্যক্রম শুরু করেন, যার প্রক্রিয়া চলমান। তাছাড়া যাচাই-বাছাই শেষে জিজিটাল (অন-লাইন) সিস্টেমের মাধ্যমে অর্থ্যাৎ, একজন স্মার্ট কার্ডধারীর বার কোডের মাধ্যমে তার মোবাইল নম্বরসহ যাবতীয় তথ্য যাচাই-বাছাই পূর্বক পণ্য হস্তান্তর করা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলমান থাকার দরুন ফ্যামেলি স্মার্ট প্রদানে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় খুলনার সাধারণ, নি¤œ আয়ের খেটে খাওয়া অসহায় মানুষের মাঝে হাহাকার দেখা দেয়। বিশেষ করে কয়েক মাস আগে তাদের নিবন্ধন সম্পন্ন হলেও স্মার্ট কার্ড হাতে না পাওয়ার দরুন পণ্যে কিনতে না পেরে এই হাহাকার আরো বেড়ে যায়।
অবশেষে বাংলাদেশ ট্রেডিং কর্পোরেশন (টিসিবি) কর্তৃক খুলনার ৩১ টি ওয়ার্ডে প্রথম ধাপে ২১,৩৮৪ টি স্মার্ট কার্ড প্রদানের দরুন স্বস্তির হাসি ফুটেছে হাহাকার করা অসহায় সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলোর মাঝে। দীর্ঘদিন পর স্মার্ট কার্ড হাতে পেয়ে এসব অসহায় মানুষগুলো বেজায় খুশি, তারা সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপণ করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত সময়ে খুলনা মহানগরীর ৩১ টি ওয়ার্ডে মোট টিসিবির কার্ডের সংখ্যা ছিল ৮৫ হাজার ৩’শ ৬১ টি। উপকারভোগীদের ম্যানুয়াল সিস্টেম থেকে ডিজিটাল সিস্টেমে আনার প্রক্রিয়া। এছাড়া একই পরিবারে একাধীক কার্ডসহ বিবিধ বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে ৪১ হাজার ৫০ টি কার্ড বাতিল করেন সংশ্লিষ্টরা। ওই বাতিল কার্ডের বিপরীতে মহানগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে প্রথম ধাপে নতুন করে উপকারভোগীদের মাঝে ২১,৩৮৪ টি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। বাকি কার্ডও প্রাপ্তির ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রদান করা হবে বলে জানা গেছে। ওই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ট্রেডিং কর্পোরেশন (টিসিবি) কর্তৃক খুলনা মহানগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে নতুন প্রদানকৃত কার্ড যথাক্রমে- ১ নং ওয়ার্ডে ৭৩৭ টি, ২ নং ওয়ার্ডে ৫২৩ টি, ৩ নং ওয়ার্ডে ১৭৪০ টি, ৪ নং ওয়ার্ডে ৫১৭ টি, ৫ নং ওয়ার্ডে ৮৪৪ টি, ৬ নং ওয়ার্ডে ৪২৯ টি, ৭ নং ওয়ার্ডে ২৯০ টি, ৮ নং ওয়ার্ডে ১৩২৪ টি, ৯ নং ওয়ার্ডে ৬৪৮ টি, ১০ নং ওয়ার্ডে ৮৩৫ টি, ১১ নং ওয়ার্ডে ৪৮৬ টি, ১২ নং ওয়ার্ডে ৯৭৭ টি, ১৩ নং ওয়ার্ডে ১০১৫ টি, ১৪ নং ওয়ার্ডে ৫৬৫ টি, ১৫ নং ওয়ার্ডে ২২৭ টি, ১৭ নং ওয়ার্ডে ৯১০ টি, ১৮ নং ওয়ার্ডে ৭১১ টি, ১৯ নং ওয়ার্ডে ৪৭৯ টি, ২০ নং ওয়ার্ডে ৫৩৬ টি, ২১ নং ওয়ার্ডে ৩৮২ টি, ২২ নং ওয়ার্ডে ১১১০ টি, ২৩ নং ওয়ার্ডে ৮৩৬ টি, ২৪ নং ওয়ার্ডে ৪৮১ টি, ২৫ নং ওয়ার্ডে ৪৬৬ টি, ২৬ নং ওয়ার্ডে ১৩৭৭ টি, ২৭ নং ওয়ার্ডে ৩৯৯ টি, ২৮ নং ওয়ার্ডে ৩৪৩ টি, ২৯ নং ওয়ার্ডে ৬০৬ টি, ৩০ নং ওয়ার্ডে ৮৯৯ টি ও ৩১ নং ওয়ার্ডে ৬৯২ টি।
বুধবার (২৪ জুলাই) দুপুরে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণকালে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে তাদের মনের প্রতিক্রিয়া জানা গেছে। রিক্সাচালক মজনু মোল্ল্যা জানান, প্রায় প্রতি সপ্তাহে ওয়ার্ড অফিসে গিয়ে খোঁজ নেই, আমার কার্ডটি এসেছে কিনা। অবশেষে গতকাল ৫নং ওয়ার্ড অফিস হতে ফোন দিয়ে জানায় আমার কার্ড এসেছে। খবরটা শুনে আমি হতবাগ। সত্যই আমাদের মতো গরীব মানুষের জন্য টিসিবির ন্যায্য মূল্যে চাল, তেল, চিনি পাওয়া অত্যন্ত আনন্দের। খোলা বাজারে ওই সব পণ্যে দাম অনেক বেশি, ধন্যবাদ জানায় কর্তৃপক্ষকে।
খুলনা নগরীর আঞ্জুমান রোড এলাকার বাসিন্দা গৃহিনী হামিদা খাতুন জানান, দীর্ঘদিন পরে হলেও টিসিবি স্মার্ট কার্ড প্রদান করলো, কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বর্তমানে বাজারে চাল, তেল, ডাল, চিনিসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি। টিসিবির মাধ্যমে পণ্যে পেয়ে আমরা সাধারণ মানুষ খুবই উপকৃত হয়ে থাকি। নিবন্ধন হলেও কার্ড না থাকায় দীর্ঘদিন পণ্য কিনতে পারি নাই। এখন কার্ড হাতে পেয়েছি। প্রতি মাসে পণ্যে কিনতে পারবো, খুবই উপকৃত হবো। পূর্বে কার্ড দিয়ে নিয়মিত টিসিবির পণ্য কিনতাম।
দিনমজুর জাকির জানান, পরিবারের লোক সংখ্যা ৭ জন। টিসিবির কার্ডে পণ্য কিনে সংসার চালাতে বেশ উপকৃত হতাম। নিবন্ধন হয়েছে অনেক দিন হলো, কার্ড না থাকায় পণ্যে কিনতে পারি না। অবশেষে দীর্ঘদিন পর হলেও কার্ডটি হাতে পেলাম। এখন নিয়মিত প্রতি মাসে টিসিবির পন্যে কিনতে পারবো। এটা আমাদের মতো অসহায় গরীর মানুষের জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর। এ ব্যাপারে কেসিসি ৫নং ওয়ার্ড সচিব শেখ ইমতিয়াজ হাসান জানান, টিসিবি আঞ্চলিক অফিস হতে প্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট অফিসের ৮৪৪ টি কার্ড হাতে পাই। ফোন করে যথা নিয়মে উপকারভোগীদের কার্ড হস্তান্তর করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর স্মার্ট কার্ড হাতে পেয়ে তারা অত্যন্ত খুশি।
এ বিষয়ে টিসিবির যুগ্ম-পরিচালক ও খুলনা আঞ্চলিক অফিস প্রধান মো. আনিছুর রহমান জানান, টিসিবি একটি বিশাল পরিসর নিয়ে কাজ করছে। তৃনমূল পর্যায় থেকে শুরু করে মন্ত্রনালয় পর্যন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একজন কার্ডধারীকে ম্যানুয়ালী সিস্টেম থেকে র্স্মাট পর্যায়ে আনতে যাচাই-বাছাই করে নানামুখি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে এই কার্যক্রম অব্যহত আছে। বিগত সময়ে খুলনা মহানগরীর ৩১ টি ওয়ার্ডে মোট ৪১ হাজার ৫০ টি কার্ড বাতিল করা হয়ে ছিল। ওই বাতিল কার্ডের বিপরীতে মহানগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে প্রথম ধাপে উপকারভোগীদের মাঝে ২১,৩৮৪ টি ফ্যামিলি স্মার্ট কার্ড প্রদান করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে প্রাপ্তির ভিত্তিতে বাকি কার্ডও দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রদান করা হবে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button