স্থানীয় সংবাদ

দৌলতপুর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬ কেজি গাঁজা ও চুরির নগদ টাকাসহ মালামাল উদ্ধার

# জুলাই মাসের মাদক অভিযানে মামলা : ১০, আটক ১০, চুরির ঘটনায় আটক : ১
# অপরাধমূলক কর্মকা- ও মাদক বিরুদ্ধে অভিযান অব্যহত আছে : ওসি #

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)’র অর্ন্তভূক্ত দৌলতপুর দৌলতপুর থানা পুলিশ থানাধীন এলাকার সর্বস্তরের জনগনের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে কাজ করাসহ এলাকার সন্ত্রাস, অপসাম্প্রদায়িক বিরোধী কর্মকা-, চুরি-ছিনতাইসহ সকল প্রকার অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনে পুলিশি দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করার প্রচেষ্টা অব্যহত রেখেছে। ওই ধারাবাহিকতায় শনিবার (১ আগষ্ট) সকালে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে মহেশ্বরপাশা মানিকতলা পশ্চিম সেনপাড়া খাদ্য গুদাম (সিএসডি) গোডাউনের মধ্যে পুকুরের উত্তর পাশে বাউন্ডারি ওয়ালের পাশে গাছের জঙ্গলের মধ্যে ওই এলাকার বাসিন্দা হোসেন শেখের পুত্র পলাতক আসামী মোঃ সোহেল (৪৫) মাদকদ্রব্য গাঁজা রেখে বিক্রয়ের জন্য অবস্থান করছে। ওই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জের নির্দেশক্রমে, সেকেন্ড অফিসার এসআই বদিউর রহমানসহ সঙ্গীয় ফোর্স বিশেষ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল হতে মাদকদ্রব্য ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক বিক্রেতা পলাতক আসামী সোহেল ঘটনাস্থল হতে সু-কৌশলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে মো. এসআই বদিউর রহমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে পালাতক আসামীর বিরুদ্ধে সংশ্লিস্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। পলাতক ওই আসামী বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে ৩টি মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া ওই আসামীকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত আছে বলেও পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
এদিকে, গত ৬ জুলাই (রবিবার) রাতে মহেশ^রপাশা গোলকধাম মোড় এলাকার বাসিন্দা শিল্পী ইসলাম (৪২)’কে দুধ চায়ের মধ্যে চেতনা নাশকদ্রব্য মিশিয়ে অচেতন করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ব্যবহৃত জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি চুরি মামলা দায়ের করেন। বাদী অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ওই ধারাবাহিকায় তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত বুধবার (৩১ জুলাই) রাতে চুরির ঘটনায় সম্পৃক্ত আসামীকে জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ থানাধীন সূর্যনগর পূর্বপাড়া উকিল বাড়ীর মোড় এলাকা হতে রাজু ৥ রানা মির্জা (৪১) গ্রেফতার করে। একই সাথে আসামী নিকট থেকে চুরি হওয়া নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার বিক্রয় ১ লক্ষ, ২১ হাজার টাকা, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ব্যবহৃত জিনিসপত্র উদ্ধার করে। গ্রেফতারকৃত আসামী বর্তমানে মহেশ^রপাশা গোলকধাম মোড় এলাকায় বসবাস করছে। পুলিশ বলছে ওই ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার ও চোরাই মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে। এদিকে, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনার ধারাবাহিকতায় জুলাই মাসে দৌলতপুর থানাধীন এলাকায় মাদক বিরোধী নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে দৌলতপুর থানা পুলিশ ১০ টি মাদক মামলা রুজু করেছে। ওই মামলায় বিপরীতে ১০ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই মামলার বিপরীতে পুলিশ ৬৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১ কেজি ২৫০ গ্রাম গাঁজা, চোলাই মদ ১০ লিটার এবং ৩ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। চুরি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন জানান, বাদী এজাহারের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করি। তদন্তের এক পর্যায়ে তথ্য-প্রযুক্তিগত সহয়তার মাধ্যমে ঘটনায় সম্পৃক্ত এক আসামীকে জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ থানাধীন সূর্যনগর পূর্বপাড়া উকিল বাড়ীর মোড় এলাকা হতে গ্রেফতার করি। একই সাথে তার নিকট হতে চুরি হওয়া নগদ ও স্বর্ণালংকার বিক্রয়ের টাকা, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ব্যবহৃত জিনিসপত্র উদ্ধার করি। আসামীকে আদালতে সোপর্দ করি। ওই ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার ও চোরাই মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে।
মাদক মামলার বাদী দৌলতপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মো.বদিউর রহমান জানান, মহেশ্বরপাশা মানিকতলা পশ্চিম সেনপাড়া খাদ্য গুদাম (সিএসডি) গোডাউনের মধ্যে ওই এলাকার বাসিন্দা হোসেন শেখের পুত্র পলাতক আসামী মোঃ সোহেল (৪৫) মাদকদ্রব্য গাঁজা রেখে বিক্রয়ের জন্য অবস্থান করছে, এমন গোপন সংবাদের বিশেষ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল হতে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই মাদক বিক্রেতা ঘটনাস্থল পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে পালাতক আসামীর বিরুদ্ধে সংশিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করি এবং পালাতক আসামীকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত আছে বলেও জানান তিনি।
সার্বিক বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর আতাহার আলী জানান, দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য ৬ কেজি গাঁজা ও চুরি হওয়া নগদ ও স্বর্ণালংকার বিক্রির টাকাসহ অন্যান্য ব্যবহৃত জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক বিক্রির সাথে সম্পৃক্ত পলাতক আসামী ও চুরির ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি দৌলতপুর এলাকার সর্বস্তরের জনগনের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে কাজ করাসহ এলাকার সন্ত্রাস, অপসাম্প্রদায়িক বিরোধী কর্মকান্ড, চুরি-ছিনতাইসহ সকল প্রকার অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ জনগনের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে দৌলতপুর থানা পুলিশ সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button