স্থানীয় সংবাদ

বাস্তবভিত্তিক কেসিসির ৭২১ কোটি টাকার বাজেট আসছে চলতি মাসে ঃ বাড়ছে না হোল্ডিং ট্যাক্স

# বাজেটের আকার কমছে : অর্জন ৬৩% : কাল বিশেষ সভা #

খলিলুর রহমান সুমন ঃ খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বাস্তবভিত্তিক বাজেট আসছে চলতি মাসেই। বাজেটের আকার ছোট হয়ে দাঁড়িয়েছে ৭২১ কোটি টাকা। সংশোধীত বাজেটে অর্জন হয়েছে ৬৩%। এ প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদনের জন্য কাল নগরভবনে বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। গত চার বছরে নতুন কোনো প্রকল্প না থাকা আর পুরাতন প্রকল্পগুলোও চলতি বছর শেষ হওয়ার পথে থাকায় এবার বাজেটের আকার ছোট হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কেসিসির বাজেটে উন্নয়ন বরাদ্দ কমেছে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা। তবে নতুন করে বড় একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কেসিসি সূত্র জানায়, মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামত ও উন্নয়ন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন নামে প্রকল্প দু’টি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে অনুমোদন হয়। প্রায় ১ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে এই দু’ প্রকল্প। এর মধ্যে সড়ক মেরামতের প্রকল্পটি গত অর্থবছরে শেষ হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পটি শেষ হচ্ছে চলতি অর্থবছরে। ২০২১ সালে অনুমোদন হওয়া কেসিসির বর্জ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পও চলতি অর্থবছরে শেষ হচ্ছে। কেসিসির হিসাব শাখা সূত্রে প্রকাশ, করপোরেশনের নিজস্ব আয় দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। উন্নয়ন কাজের পুরোটাই আসে প্রকল্পের অনুকূলে সরকারি বরাদ্দ এবং দাতা সংস্থার অনুদান থেকে। ফলে নতুন কোনো প্রকল্প অনুমোদন না হলে উন্নয়ন কাজে বরাদ্দ পাওয়া যাবে না। ওই বিভাগ আরো জানায়, চলতি অর্থ বছরে প্রস্তবিত বাজের ধরা হয়েছে ৭২১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। গত অর্থ বছরে (২০২৪-২৫) প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ৯৮১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। যা সংশোধিত আকারে দাঁড়িয়েছে ৬২০ কোটি ১৯ লাখ টাকা। যা অর্জনের হার ৬৩%। চলতি বছরে প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব তহবিল থেকে মোট আয় ধরা হয়েছে ২১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। যা গত অর্থ বছরে ধরা হয় ১৯৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ওই বছরে প্রকৃত আয় হয় ১৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ওই বছর সবচেয়ে আয় কম হয়েছে সরকার ও অন্য সংস্থার ক্ষতিপূরণ খাত থেকে। ওই খাতে ধরা হয় ৭৭ কোটি টাকা কিন্তু আয় হয় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। যা ৭৫ কোটি টাকাই কম। এছাড়া তুলনামূলকভাবে আয় কম হয় এ্যাসফল্টপ্লান্ট, বাস ও ট্রাক টার্মিনাল উল্লেখ্যযোগ্য। তবে ব্যর্থ এসব খাতে এবার পূর্বের ন্যায় বাজেট ধরা হয়েছে। উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রাপ্ত টাকা ধরা হয়েছে ২৬৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। যা গত অর্থ বছরে ধরা হয়েছিল ৫২৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। গত বছর এ খাত থেকে প্রকৃত টাকা আসে ২৫ কোটি ৯১ টাকা। যা এবার ধরা হয়েছে প্রায় ২৬৬ কোটি টাকা কম। সূত্রটি জানায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কেসিসির বাজেটের আকার ছিল ৮৬১ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ হাজার ৮২ কোটি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাজেট ছিল ৯৮১ কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৭২১ কোটি টাকার বাজেট। চলতি মাসেই এ বাজেট ঘোষণা করা হতে পারে। এ বাজেটে বাড়ছে হোল্ডিং ট্যাক্স। তবে বাজেটে কনজারভেন্সী, স্বাস্থ্য ও মশক নিধন বিভাগকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কেসিসির বাজেট কাম অ্যাকাউন্ট অফিসার মো. মনিরুজ্জামান জানান, সরকারি প্রকল্প কমে যাওয়ায় অর্থ বরাদ্দও কমছে। এ জন্য বাজেটের আকার ছোট হচ্ছে। সোমবার খসড়া বাজেট চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিশেষ সাধারণ সভার আহবান করা হয়েছে। ওই দিন খসড়া অনুমোদন হলে আলোচনা সাপেক্ষে ভাল দিনক্ষণ দেখে ওই সভায়ই বাজেট অধিবেশনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি জানান। হিসাব শাখার কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছরের বাজেট হবে বাস্তবভিত্তিক। যা অনুমোদন করা হবে বছর শেষে তাই বাস্তবায়ন করা চেষ্টা করা হবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কেসিসির উন্নয়নকাজে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেছে ৩১৭ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসেছে ২২৯ কোটি। চলতি অর্থবছরে ১৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কেসিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ আসিফ রহমান বলেন, অবকাঠামো ও অন্যান্য উন্নয়নের জন্য নেওয়া বড় একটি প্রকল্প দ্রুত অনুমোদনের চেষ্টা চলছে। ওই প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে সংশোধীত বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে অধিকাংশ প্রকল্প শেষের দিকে বলে এবারের বাজেটের আকার ছোট হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেট যা ঘোষণা করা হবে তা বাস্তাবায়নের ওপর জোর দেয়া হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডের নাগরিকদের সাথে সমন্বয় করে বাজেট দেয়ার প্রস্তাব খুবই ভাল। সেভাবেই কাজ করার কথা রয়েছে। তবে করছে কি না সে ব্যাপারে তিনি খোঁজ খবর নিবেন বলে তিনি জানান। গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন খুলনার সভাপতি এড. কুদরত ই খুদা বলেন, কেসিসি সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে কোন বাজেটই সঠিকভাবে হচ্ছে না। গতানুগতির ধারায় জন অংশগ্রহণ ছাড়াই প্রতিবছর বাজেট পেশ করা হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। প্রতিটি ওয়ার্ডে স্থানীয় চাহিদা নিরুপনের জন্য তৃণমূলের জনগোষ্ঠীর সাথে বসা উচিত। জনগণের চাহিদা অনুযায়ী বাজেট পেশ করলে তা হলে বাজেট ঘাটতি বা অন্য কোন অসঙ্গতি বছর শেষে ধরা পড়ার আশংকা কম থাকে বলে এই নাগরিক নেতা মনে করেন। তিনি বলেন, গৃহ কর না বাড়িয়ে নতুন করে করা বিল্ডিং-এর ট্যাক্স শতভাগ আদায়ের উদ্যোগ নিলে কেসিসি রাজস্ব আদায় যেমন বেশী হয় তেমনি ট্যাক্স ফাঁকিবাজচক্র তাদের কার্যক্রমে নিরুৎসাহিত হতে থাকে বলে তিনি মনে করেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button