শিশু বিদ্যানিকেতনের রাস্তার বেহাল দশা : কমেছে শিক্ষার্থী

শেখ দিদার, মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি :
মোল্লাহাটের প্রাণকেন্দ্র মাষ্টার পাঙা এলাকায় অবস্থিত স্বনামধন্য শিশু শিক্ষা প্র তিষ্ঠান এম বদিউজ্জামান বিদ্যানিকেতন। এখানে প্র ায় ৩ শত ছাত্র/ছাত্রী প্লে গ্রুপ থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পঙা লেখা করে। মোল্লাহাটের প্র থম কিন্ডার গার্ডেন স্কুল হওয়ায় এখানে তুলনামূলক একটু মেধাবী শিক্ষার্থীরাই ভালো পড়ালেখার জন্য ভর্তি হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে বিদ্যালয়টি বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পঙছে, এর মধ্যে বর্তমান বঙ সমস্যা হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলাচলের একমাত্র সঙকের বেহাল দশা এবং বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে আশপাশের বাসা বাডড় ও ক্লিনিকের দুর্গন্ধময় বর্জ্য ও নোংরা পানি এসে বিদ্যালয়ের মাঠে জমাট বাঁধছে! সরেজমিনে দেখা গেছে, পয়ঃনিষ্কাশনের সুপরিকল্পিত কোন ব্যবস্থা না করেই যত্রতত্র বাডড় নির্মাণ করে সে সকল বাডড়র বাথরুমের পানি পাইপের মাধ্যমে খোলা জায়গায় ছেঙে দেওয়া হচ্ছে, এক পর্যায়ে সে নোংরা পানি বিদ্যালয়ে চলাচলের রাস্তা দিয়ে গঙাতে গঙাতে বিদ্যালয়ের খোলা মাঠে এসে জমাট বাঁধছে এবং অতি বর্ষণে মাঠ ভরে গেলে সে পানি পাশে খলিলুর রহমান কলেজের পুকুরে প্র বেশ করছে। এই পুকুরের পানি অত্র এলাকার অধিকাংশ মানুষ স্নান ও রান্নাবান্নার কাজে ব্যবহার করে থাকে। বিদ্যালয় মাঠে জমে থাকা এ নোংরা পানির দুর্গন্ধে কোমলমতি শিশুশিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাড়ির মালিকদের বারবার বিষয়টি অবহিত করার পরও প্র তিকারের কোন ব্যবস্থা হচ্ছে না, একজন আরেকজনের ঘাঙে দায় চাপিয়েই এডড়য়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর। এদিকে সড়কটি সংস্কারের জন্য এমন বদিউজ্জামান শিশু বিদ্যা নিকেতনের প্র ধান শিক্ষক জনাব হেকমত জেলা পরিষদে বহুদিন যাবত দৌঙ ঝাঁপ করে রাস্তা সংস্কারের জন্য ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ পাওয়ার আশ্বাস পেয়েছেন, তবে চাহিদার তুলনায় এই টাকা খুব ই নগন্য। স্থানীয় শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মিসকাত সরদার সহ কয়েকজন গন্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, মাষ্টার পাঙা সড়কের দু’পাশে অপরিকল্পিত ভাবে গঙে উঠেছে বিভিন্ন স্থাপনা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার ফলে ঘর-বাডড়, প্র তিষ্ঠানের বিভিন্ন বর্জ ও নোংরা পানি স্কুলের রাস্তায় দিয়ে প্র থমে মাঠে জমা হয় পরে তা গিয়ে খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজের দিঘিতে গিয়ে মিশে দিঘির পানি ও নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি আরো জানান, কে,আর কলেজের দিঘিতে প্র তিদিন প্রায় হাজারো মানুষ গোসল করে, এ পর্যন্ত ঐ দিঘির পানি ব্যবহার করে কয়েকজন চর্ম রোগে আক্রান্ত হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক জানান, বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীরা অনেক ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করে। রাস্তাটি যেমন পিচ্ছিল তেমনি দুর্গন্ধ, যে কোন সময় পা পিছলে দুর্ঘটনা ঘটেতে পারে। রাস্তাটি সংস্কারের জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে কয়েকবার লিখিতভাবে জানানো স্বত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হলে বিদ্যালয়ে আসতে শিক্ষার্থীদের আর কোনো ঝুঁকি থাকবে না। কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনা করে এবং দূষণমুক্ত পরিবেশ গঙার লক্ষ্যে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্র শাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং এলাকার সচেতন মহল।
