খুলনায় সন্ত্রাসীদের গডফাদার ও সাবেক জেলা কৃষকলীগ সভাপতি বাবুল গ্রেফতার

বাবুল ও পরিবারের অত্যাচারে অনেকেই আত্মগোপনে
গ্রেফতারে এলাকার মানুষের মাঝে স্বস্তি, মিষ্টি বিতরণ
এম এ আজিম : খুলনা জেলা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি ও রূপসার আইচগাতি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (সর্বহারা)’র গডফাদার আশরাফুজ্জামান বাবুলকে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ আটক করেছে।
বাবুলকে আটককের পর এলাকার মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এসেছে। এমনকি বাবুলকে আটকের খবরে এলাকার সাধারণ মানুষ খুশিতে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা আশরাফুজ্জামান বাবুলের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ উঠে এসেছে। এই বাবুল ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতা থাকাকালীন প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে তার নিজের বাড়িতে নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ চরমপন্থী (সর্বহারা) দলের গডফাদার গণেশ ওরফে সোহেল ও দিপু মালাকার এর সন্ত্রাসী বাহিনী তার নিজ বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন।
বাবুলের বাড়িতে এই সন্ত্রাসী বাহিনীদের যায়গা দেওয়ার কারনে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী বাহিনীরা উক্ত বাবুলকে লক্ষ করে গুলি বর্ষণ করে। কিন্তু ভাগ্যক্রমে সে প্রাণে বেচে গেলেও ওই গুলি তার কানে লেগে ছিদ্র হয়ে বের হয়ে যায়। এ সন্ত্রাসীরা তার বাড়িতে থাকার সুবাদে বাবুলের ছোটবোন নিঘাত সুলতানা চামেলিকে ওই সর্বহারা দলের শেখ মারুফ হোসেনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক হয়ে বিবাহ হয়। এই সন্ত্রাসী শেখ মারুফ খুলনা জেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে শ্রমিক লীগ নেতা শেখ মারুফ কে এলাকায় শেল্টার দিচ্ছে এলাকার বিএনপির কিছু প্রভাবশালী নেতা।
এমনকি বাবুলের আপন ছোট ভাই মনিরের স্ত্রীকে বের করে নিয়ে যায় পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির গণেশ ওরফে সোহেল। এরপর তৎকালীন ওইসময় একই দলের প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী বাহিনী খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাশ্ববর্তী এলাকায় গণেশকে জবাই করে হত্যা করে। তৎকালীন ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন বাবুল খুলনার একটি আবাসিক হোটেলে কথিত নাতনিকে নিয়ে জনতার হাতে নগ্ন অবস্থায় ধরা পড়ে। ওইসময় সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের অনুরোধে জনতা ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় খুলনার বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই বাবুল আইচগাতি ইউনিয়ন পরিষদের বিনা ভোটের চেয়ারম্যান থাকাকালীন সুন্দরী নারীদের কুপ্রস্তাবে মগ্ন ছিলো। এমনকি ওই সময় এক নারীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। একপর্যায়ে বিষয়টি বাবুলের বড় স্ত্রী জানতে পেরে ওই নারীকে তার গোপনাঙ্গে মরিচের গুড়া দিয়ে নির্যাতন করে।
বাবুলের মেঝ ভাই আইচগাতি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান লিটনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে মাদকের ৮ নং তালিকায় ছিলেন। এই পরিবারের অত্যাচারে এলাকার অনেক অসহায় মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে। এছাড়াও বাবুল সহ এই অত্যাচারি পরিবারের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য : রোববার (৩ আগস্ট) দুপুরে খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর এলাকা থেকে আশরাফুজ্জামান বাবুলকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি)।
তিনি জানান, একটি বিশেষ মামলার ভিত্তিতে আশরাফুজ্জামান বাবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আশরাফুজ্জামান বাবুল আইচগাতি ইউনিয়নের দেয়াড়া গ্রামের মৃত ইমলাক ঢালীর ছেলে।
গ্রেপ্তারকৃত আশরাফুজ্জামান বাবুল খালিশপুর থানার মামলা নং-০২, তারিখ-১৪/০৮/২০২৪ খ্রিঃ, ধারাঃ ১৪৩/১৪৭/১৪৮/১৪৯/৪৪৮/৩৮০/৪৩৬ /৪২৭/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০ এর সন্দিগ্ধ আসামী। গত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমানোর জন্য ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ক্যাডারদের সহযোগীয়তায় আন্দোলন ব্যাহত করতে বিভিন্ন প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করেছিলো। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি খুলনা মেট্রোপলিটন ডিবির হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।



