স্থানীয় সংবাদ

দৌলতপুর মুহসিন মহিলা কলেজ অধ্যক্ষ’র অনিয়মের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

# জীবন নাশের হুমকীতে নিন্দা #

স্টাফ রিপোর্টার : দৌলতপুর মুহসিন মহিলা কলেজে অধ্যক্ষের অনিয়মের বিষয় নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ’র আদালতে মামলা ও জীবন নাশের হুমকীতে থানায় জিডি। ১৪ আগস্ট এর ঘটনায় স্থানীয় কয়েক জন বিএনপি’র স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে কলেজের অডিট হিসেবে এক কোটি ২১ লক্ষ ৮২ হাজার ৬৭৪ টাকা আত্মসাদের দায়ে সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল লতিফ মিলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে আইন বহির্ভূতভাবে নওরোজী কবির কে দায়িত্ব প্রদান ও হিতৈষী সদস্য শেখ আব্দুল মান্নানের বাড়িতে বহিরাগত কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী প্রবেশ করে জীবন নাশের হুমকি ও পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও সাবেক ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ কামরুজ্জামান বলেন,জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত কলেজ পরিচালনা পর্ষদ কমিটিকে পাশ কাটিয়ে আইন বহির্ভূতভাবে অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত পছন্দের একজন শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করেছেন। যা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইনের পরিপন্থী। তিনি আরো বলেন,কলেজের অডিটে এক কোটি ২১ লক্ষ প্রায় ৮৩ হাজার টাকা আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম ধামাচাপা দিতে অধ্যক্ষ ব্যক্তিগত কিছু দুষ্কৃতী কারীদের দিয়ে পরিচালনা পর্ষদের হিতৈষী সদস্য শেখ আব্দুল মান্নানকে বাড়িতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেছে এটি দুঃখজনক এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী। কলেজের দায়িত্ব নিয়ম অনুযায়ী অধ্যক্ষর অবর্তমানে উপাধ্যক্ষ পালন করে থাকেন। তবে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ করায় কলেজের উপাধ্যাক্ষ মোঃ মাহফুজার রহমান দৌলতপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে। কলেজ সংক্রান্ত ১৪ তারিখের বিষয় নিয়ে মুহাসিন মহিলা কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শেখ কামরুজ্জামান দৌলতপুর থানায় জিডি করেছেন।
দৌলতপুর মুহাসিন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল লতিফ ১৪ আগস্ট অবসরে যাওয়ার নির্ধারিত দিন ছিল। তবে অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ কে গত ৩১ জুলাই ২০২৫ বিগত ১০ বছরের অডিট হিসেবে ব্যাপক অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ পাওয়ায় কলেজ পরিচালনা পরিষদ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। উক্ত টাকা আত্মসাৎ বিষয় ১২ আগস্ট ২০২৫ খুলনা বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট’র আমলী আদালতে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি শেখ কামরুজ্জামান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। এ কারনে কলেজ পরিচালনা পর্ষদ তার জন্য কোন আয়োজন করেননি ও কোন শিক্ষকগন উপস্থিত ছিলেন না।তবে স্থানীয় বিএনপি’র কিছু নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক নওরোজী কবির কে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করেন। এ বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক নওরোজী কবির বলেন,সাবেক অধ্যক্ষ ১৪ আগস্ট অবসরে যাওয়ার নির্ধারিত দিন ছিল ঐদিন স্থানীয় কিছু বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ ও অধ্যক্ষ আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি আজ (রবিবার) থেকে দায়িত্ব পালন করব। কলেজের উপাধ্যক্ষ মোঃ মাহফুজার রহমান বলেন, বৈধভাবে মুহাসিন মহিলা কলেজ পরিচালনা পর্ষদ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক অনুমোদনক্রমে উপাধ্যক্ষ পদে যোগদান করে কলেজে কর্মরত আছি। গত ৩১ জুলাই-২৫ কলেজের অডিটে সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল লতিফ’র বিরুদ্ধে বড় অংকের অর্থ আত্মসাৎ এর প্রমাণ মিলায় তাকে পরিচালনা পর্ষদ সাময়িক বরখাস্ত করেন ও আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করেন রেজুলেশন করেন। তবে অধ্যক্ষ আমাকে দায়িত্ব বুঝে না দেওয়ায় আমি ১১ আগস্ট তার বিরুদ্ধে আমি দৌলতপুর থানায় একটি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। ১৪ আগস্ট যে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে এটি আইন বহির্ভূত।সূত্রে জানা যায়,অডিট কমিটি গঠনের সময় হিতৈষি সদস্য আব্দুল মান্নানকে অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ নাম প্রস্তাব করে কমিটিতে রাখার জন্য বলেন। পরবর্তীতে অডিট রিপোর্টে অধ্যক্ষ বিপক্ষে অর্থ আত্মসাৎ এর প্রমাণ মিলায় হিতৈষী সদস্য শেখ আব্দুল মান্নানের উপরে ক্ষিপ্ত হয়ে ১৪ আগষ্ট রাতে সন্ত্রাসীদের দ্বারা ভয়-ভীতি ও প্রাণনাশ এর হুমকি প্রদান করেন।১৪ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাত দশটা ২৫ মিনিটে অজ্ঞাত ৩/৪ জন ব্যক্তি মুহসীন মহিলা কলেজের হিতৈষী সদস্য শেখ আব্দুল মান্নানের মহেশ্বরপাশার বাড়িতে গিয়ে জীবননাশের হুমকি প্রদান করেছেন,সিসি ফুটেছে যেটি রেকর্ড রয়েছে। এ বিষয়ে শেখ আব্দুল মান্নান দৌলতপুর থানায় জিডি করেছেন।জিডি নং-৭৪৬,তাং-১৫/৮/২৫।
মামলা সূত্রে জানা যায়,সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল লতিফ ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ আমলে তৎকালীন সভাপতি সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের আশীর্বাদ পুষ্ট হয়ে প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট, এনওসি ও নিয়োগ পত্রের যথাযথ কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে ছিলেন। বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ সাবেক কর্মস্থল মহেশ্বরপাশা শহীদ জিয়া কলেজে কর্মরত থাকা অবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্রায় ৮ বছর উক্ত কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বরখাস্ত ছিলেন।এলাকার সচেতন মহলের ভাবনা কলেজে কি দূনীতি প্রতিষ্ঠিত হবে নাকি ন্যায়ের পথ ধরে এগিয়ে যাবে?

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button