স্থানীয় সংবাদ

খুলনাসহ ৯ জেলায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ১৯ প্রতিষ্ঠানকে ২ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা জরিমানা

# নিয়ম বর্হিভূত ব্যবসা পরিচালনার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারী #
# জনস্বার্থে অভিযান অব্যহত রাখার আশ^াস সংশ্লিস্টদের #

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রন রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় ও খুলনা বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা কার্যালয় সমূহ নিয়মিত বাজার তদারকিসহ অভিযান অব্যহত রয়েছে। ওই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১৯ আগষ্ট) ভোক্তা অধিকারের ১১ টিম তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করে। এসময়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসমূহের বাজার দর ও ক্রয় ভাউচার যাচাই করা হয় এবং সকল ব্যবসায়ীকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হয়। তদারকিকালে সরকার নির্ধারিত মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয় এবং কেউ সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে বেশি মূল্য নিলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারি দেওয়া হয়। অভিযান কালে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বাজার তদারকি ও জরিমানা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে গেছে, খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বেখুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে খুলনা ডায়গনষ্টিক এন্ড কনসাল্টেশন সেন্টারকে মুল্য তালিকা সংরক্ষণ ও প্রদর্শন না করার অপরাধে ২০ হাজার টাকাজরিমানা আরোপ করা হয়। খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দিনারা জামানের নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুগন্ধা ডায়গনষ্টিককে যথাযথ সেবা সরবরাহ না করার অপরাধে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিব এর নেতৃত্বে খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মুরাদ শেখ কসমেটিকসকে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করা ও মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ মাসুম আলীর নেতৃত্বে খোকসা উপজেলার সমেসপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স সামাদ স্টোরকে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে ৩ হাজার টাকা ও মেসার্স মোয়াজ্জেম স্টোরকে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে ২ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।
মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ সজল আহম্মেদ এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার কছুন্দি বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে যথাযথ পন্য সরবরাহ না করা ও মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে মেসার্স শাহিনা ফার্মেসিকে ৭ হাজার টাকা ও মেসার্স রহিমা ফার্মেসীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শরিফা সুলতানা এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার সদর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মীম লাইফ বেকারিকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য দ্রব্য উৎপাদন করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ সেলিমুজ্জামানের নেতৃত্বে সদর উপজেলার পালবাড়ি ও চৌরাস্ত বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিসমিল্লাহ বিরিয়ানি হাউজকে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা, সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারিকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য দ্রব্যে উৎপাদন করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা এবং অনন্যা ঘোষ ডেয়ারিকে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করা ও ওজনে কারচুপি করার অপরাধে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক মোঃ মেহেদী হাসান তানভীরএর নেতৃত্বে আশাশুনি উপজেলার কাদাকাদি হাজিরহাট ও ঘোষপাড়া কচুয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ব্যথিত স্টোরকে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে ১ হাজার টাকা, মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে আহসান ফার্মেসিকে ১ হাজার টাকা ও ছাহেরা ফার্মেসিকে ১ হাজার টাকা এবং বিশ্বজিৎ ঘোষ ডেয়ারিকে ভেজাল পণ্য বিক্রয় করার অপরাধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। নড়াইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শামীম হাসান এর নেতৃত্বে কালিয়া উপজেলার চাচুরি বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স পুজা স্টোরকে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে ৩ হাজার টাকা ও মেসার্স সোহাগ বেকারি এন্ড ভ্যারাইটি স্টোরকে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। ঝিনাইদহ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব নিশাত মেহের এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার পায়রা চত্ত্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে লিজা কনফেকশনারিকে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ মামুনুল হাসান এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে খাদেমুল স্টোরকে যথাযথ পন্য সরবরাহ না করা ও পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদেরকে সচেতন করার পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন ও ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করার নির্দেশনা দেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযানে ১৯ টি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ১৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। জনস্বার্থে অভিযান চলমান রাখার আশ^াস সংশ্লিস্টদের।
এ ব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মাদ সেলিম জানান, খুলনার বাজারে আমাদের নিয়মিত তদারকিসহ অভিযান অব্যহত আছে। ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘিত করলে ওই ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসাবে জরিমানা আরোপসহ আদায় করা হচ্ছে। খুলনার বাজার সমূহে কোনো ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান সরকার প্রদত্ত নিয়মনীতির বাইরে ব্যবসা পরিচালনা করলে তাদের ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। জনস্বার্থে আমাদের কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button