স্থানীয় সংবাদ

ফুলতলা উপজেলা পরিষদের গাড়ী চালক ইমরানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

জাল সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরিতে যোগদানের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের গাড়ীর জন্য নিয়োগকৃত চালক শাহ মো. ইমরান হোসেন দীর্ঘ এক যুগের অধিক সময় ধরে জাল সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়টি তদন্তনাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা প্রশাসক ও ইউএনও সূচি রানী সাহা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে ফুলতলা উপজেলা পরিষদে গাড়ীর চালক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এ সময় ইমরান হোসেন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে উত্তীর্ণ হন। চাকরির সময় উপজেলায় যে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ প্রদান করেন সেটি ছিলো খুলনার দৌলতপুর আফিল উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর প্রত্যায়নপত্র। গত ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর ইমরানের ভূয়া সার্টিফিকেটের বিষয়টি সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়। সাবেক ইউএনও তাসনীম জাহান এ বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করেন ফুলতলা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. তরিকুর রহমানকে। তদন্ত শেষে তরিকুর রহমান ইউএনওকে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেন। সেই তদন্ত রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ করেন ইমরান দৌলতপুর আফিল উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী ছিলেন না।
তথ্যমতে আরও জানা যায়, সার্টিফিকেট জালিয়াতির বিষয় নিয়ে সাবেক ইউএনও তাসনিম জাহান ইমরানকে তলব করলে ইমরান মুহুর্তের মধ্যে ভোল পাল্টিয়ে বলেন, আমি আফিল উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণী পাশ করেনি। আমি খানজাহান আলী থানা এলাকার আটরা শ্রী-নাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৫ সালে ৮ম শ্রেনী পাশ করেছি এবং সেই সার্টিফিকেট জমা দিয়েছি। এরই মধ্যে ইউএনও তাসনীম জাহানের বদলি হওয়াতে ইমরানের বিষয়টি অনেকটা ধামা চাপা পড়ে যায়।
এদিকে, ইমরানের তথ্য মত আটরা শ্রী নাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে খোঁজ নেওয়া হলে আটরা শ্রীনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহসিন বিশ্বাস জানান, ইমরান হোসেন, পিতা-টিপু সুলতান নামে কোন শিক্ষার্থী আটরা শ্রীনাথ স্কুলে ছিলো না। ফলে তার দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
এ বিষয়ে ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূচি রানী জানান, ইমরানের বিষয় আগের থেকেই তদন্তনাধীন রয়েছে, সকল সত্যতা মিললে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-পরিপরিচালক (স্থানীয় সরকার) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা পরিষদের গাড়ী চালকের বিষয় সকল সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার একমাত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার। তবে আমি অবগত হলাম এবং ইউএনওকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলব।
তবে, চালক ইমরান হোসেন চাকরিতে আটরা শ্রীনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনী পাশের সার্টিফিকেট দিয়েছেন- দাবি করে ভূঁয়া সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি করার প্রশ্নই আসে না- বলে মন্তব্য করেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button