স্থানীয় সংবাদ

সমাজে কুরআনের বিধান কায়েম হলে ধর্মের বৈষম্য থাকবে না : মাওলানা আবুল কালাম আজাদ

স্টাফ রিপোর্টার ঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, মহাগ্রন্থ আল কুরআন শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, পুরো মানব জাতির জন্য রচিত হয়েছে। যেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি, প্রতিবেশীর কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেশী মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টানসহ যে কোনো জাতি-গোষ্ঠী প্রতিবেশী রয়েছে তাদের হক নষ্ট না করার কঠোরভাবে নির্দেশনা রয়েছে কুরআনে। এই কুরআনই কেবল শান্তির কথা বলে, শান্তি বজায় রাখে। সমাজে কুরআনের বিধান কায়েম হলে ধর্মের বৈষম্য থাকবে না। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকালে খুলনা-৬ আসনের পাইকগাছা উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের দেলুটি পূর্বপাড়া কালিমাতা মন্দির প্রাঙ্গণে মতবিনিময়কালে তিনি এ সব কথা বলেন।
৪ নং ওয়ার্ড দেলুটি পূর্বপাড়া কালিমাতা মন্দিরের সভাপতি দ্বীপক বৈরাগীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় খুলনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা গোলাম সারোয়ার, পাইকগাছা উপজেলা সেক্রেটারি মো. আলতাফ হোসেন, খুলনা দক্ষিণ জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন, পাইকগাছা পৌরসভার সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি তামিম রায়হান, পাইকগাছা থানা ছাত্রশিবির সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত, দেলুটি ইউনিয়ন সভাপতি মোস্তফা কামাল সরদার, সেক্রেটারি সেলিম গাজী, ইউনিয়ন উলামা বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল মান্নাফ, ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আল আমিন গাজী, সেক্রেটারি গোলাম সরোয়ার, ইউনিয়ন যুব বিভাগ সভাপতি আসাদুল ইসলাম, ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কিংশুক গাইন মন্ডল, নারান বালা, অনির্বাণ, শঙ্কর রায়, বৈদ্যনাথ মন্ডল, অসীম সরকার, ডা. দীপক, ডা. তারক মন্ডল, ডাক্তার দীনেশ চন্দ্রনাথ মন্ডল, রনজিৎ মন্ডল, কৌশিক সরদার, শ্যামল মন্ডল, সৌরেন মন্ডল, শুভাষ মন্ডল, শ্যামল মন্ডল, প্রভাষক প্রনিত মন্ডল, প্রকাশ মন্ডলসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা তাদের বক্তব্যে বলেন, আওয়ামী লীগ হিন্দুদের সংখ্যালঘু উপাধি দিয়েছে কিন্তু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কেউ সংখ্যালঘু নয় সবাই জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক। সবার মর্যাদা ও অধিকার সমান। যে দল আমাদের নাগরিক হিসেবে সম্মান দেখিয়েছে। আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে আমরা সেই দলের পক্ষ থাকব। কেউ কেউ অতীতে প্রচার করেছে আমরা নিদিষ্ট একটি দলের; কিন্তু না, যারা আমাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে আমরা তাদের দলের নই। আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনকালের চেয়ে গত ১৫ মাসে বেশী ভালো ও নিরাপদে হিন্দু সম্প্রদায় রয়েছে জানিয়ে তারা বলেন, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাইকগাছাসহ সারা দেশেই হিন্দুদের ওপর হামলা ও লুটপাটের চক্রান্ত করা হয়েছে। সে চক্রান্তের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরা ছিল। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী সবার আগে হিন্দুদের নিরাপত্তায় তাদের বাড়ি-ঘর, মন্দির পাহারা দিয়েছে। পরবর্তীতে অন্যান্য দলও তাদের মনোভাব পরিবর্তন করে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির দেশ উল্লেখ করে তারা বলেন, কোনো অপপ্রচারে হিন্দু সমাজ আর বিভ্রান্ত হবে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button