মোরেলগঞ্জে নারীকে ধর্ষণ ও চুলকেটে নেওয়ার ঘটনায় ছেলেসহ কবিরাজ গ্রেফতার

বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় এক জন নারীকে ধর্ষণ ও মাথার চুল কেটে নেওয়ার ঘটনায় জাহাঙ্গীর শেখ (৪৮) নামের একজন কতিথ কবিরাজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে তাকে বাগেরহাট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আটক কবিরাজ জাহাঙ্গীর উপজেলার জোকা গ্রামের মুনসুর শেখের ছেলে। জাহাঙ্গীর শেখ কবিরাজ পরিচয়ে জোকা গ্রামে ‘খানকায়ে কাদরিয়া’ নামে একটি দরবার খুলে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ঝাঁড়ফুক দিয়ে নানা রোগের চিকিৎসা করে আসছেন। ঘটনায় বিষয়ে অভিযোগের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, কবিরাজ জাহাঙ্গীর গত ২৫ অক্টোবর দুপুরে চিকিৎসা নিতে আসা একজন নারীকে (৩০) কবিরাজের খানকার গোপন কক্ষে নিয়ে ধর্ষন করে। পরে চিকিৎসার অযুহাতে ওই নারীর মাথার দুই পাশের কিছু চুলও কেটে রেখে দেয় সে। এ ঘটনায় ওই নারী শুক্রবার রাতে মোড়েলগঞ্জ থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি, খানকায়ে কাদরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা খাদেম ও কথিত কবিরাজ জাহাঙ্গীর শেখ ও তার ছেলে মহিউদ্দিনকে (২৫) গ্রেফতার করেছে। এ বিষয়ে মোড়েলগঞ্জ থানার ওসি মো. মতলুবর রহমান বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে কবিরাজ জাহাঙ্গীরকে এবং মারপিটের অভিযোগে একই মামলার আসামি তার ছেলে মিরাজুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ মামলার অপর এক আসামি পলাতক রয়েছে। নির্যাতিতা নারীর ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ কথিত ওই কবিরাজের খানকায় অভিযান চালিয়ে তার প্রতারণামূলক চিকিৎসায় ব্যবহৃত লাল কাপড়, মাদুলি, পশু-পাখির হাড়, চামড়া, হাতে লেখা তাবিজ, গোপন কক্ষে ধোয়া সৃষ্টির পাতিল, কড়ি ও নারীদের মাথা থেকে কেটে নেওয়া চুল ঊদ্ধার করেছে।



