স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় ত্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন : মূলহোতাসহ তিনজন গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনার লবণচরা এলাকায় জমি–জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ত্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকা-ে নিহত হন একই পরিবারের নানী মহিতুন্নেছা (৫৩), নাতনী ফাতিহা (৭) ও নাতী মুস্তাকিম (৮)। শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) হেডকোয়ার্টার্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ।
গ্রেফতার হওয়া তিন আসামি হলেন, হত্যাকা-ের মূলহোতা মো. শামীম শেখ ওরফে শেখ শামীম আহম্মেদ, তরিকুল ইসলাম তারেক (২৬) এবং তাফসির হাওলাদার (২০)। নিহত শিশুদের পিতা সেফার আহমেদ বাদী হয়ে লবণচরা থানায় মামলা দায়ের করার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
সংবাদ সম্মেলনে জানায়, অস্ত্র মামলায় জেলে থাকাকালে শামীম শেখ একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। জেল থেকে বের হয়ে বড় অংকের টাকায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়োগ করে প্রতিপক্ষ সেফার আহমেদের পরিবারকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে তিনি। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৬ নভেম্বর দিনে দুপুরে সেফার আহমেদের বাড়িতে ঢুকে তারা নানী মহিতুন্নেছাকে প্রথমে ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। পরে একই কায়দায় ফাতিহা ও মুস্তাকিমকেও হত্যা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, হত্যাকা-ের জন্য আসামিরা মোট এক লাখ টাকা পায়। এতে মোট ৬-৭ জন জড়িত ছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার পর শামীম শেখ পলাতক ছিলেন এবং বিদেশে (ফ্রান্সে) পালানোর চেষ্টা করছিলেন। পরে ২৬ নভেম্বর রাতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর শামীম শেখ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেফতারকৃত আসামি শেখ শামীম আহম্মেদ বাদীর সম্পর্কে মামাতো ফুফাতো ভাই। জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৯ জুলাই তিনি ওয়ান শুটারগান ও তিন রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কেএমপির সহকারি পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো: শিহাব করিম, সহকারি পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) ত.ম রোকনুজ্জামান, সহকারি পুলিশ কমিশনার (স্টাফ অফিসার টু পিসি) মো: গোলাম মোর্শেদ, লবণচরা থানার ওসি হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ১৬ নভেম্বর লবনচরা থানাধীন দরবেশ মোল্লার একটি বাড়ির খামারের পাশে ভুসির ঘর থেকে নানী মহিতুন্নেছা, নাতী মোস্তাকিম ও নাতনী ফাতিহা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামিরা ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাদেরকে হত্যা করে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button