মোংলায় রাতুল ক্লিনিকে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ বাগেরহাটের মোংলায় নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় রাতুল ক্লিনিক নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে। মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সমন্বয়ে রবিবার দুপুরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মোংলা পৌর শহরের রবীন্দ্রনাথ সড়কের রাতুল ক্লিনিকে অভিযান পরিচালনাকালে ক্লিনিকে ব্যাপক অনিয়ম খুঁজে পান। সেই সব অনিয়মের অভিযোগে ক্লিনিকটিকে ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড করাসহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিধিমোতাবেক ক্লিনিক পরিচালনার নির্দেশনা দেয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহীন। ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন আক্তার সুমি বলেন রাতুল ক্লিনিকের লাইসেন্স নবায়ন নেই, নেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চুক্তিও, নারকোটিক পারমিশন ও ড্রাগ লাইসেন্স নেই। এসব অনিময়ের মধ্যদিয়ে দীর্ঘদিন এ ক্লিনিকটি পরিচালিত হয়ে আসছে বলে অভিযোগ ওঠে। এক পর্যায়ে কাগজপত্র না থাকায় ক্লিনিক মালিক জোহরা খাতুনকে জরিমানা করা হয়েছে। আর এসব কাগজপত্র আপডেট করার জন্য ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট এ সময়ের মধ্যে কাগজপত্রের শর্তাদি পূরণে ব্যর্থ হলে রাতুল ক্লিনিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর আগে গত ২০ নভেম্বর ক্লিনিকটি পরিদর্শন করে সেবা প্রদানের মূল্য তালিকা টানানোর নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করেনি ক্লিনিকটি। স্থানীয় বাসিন্দা সুরজিৎ মন্ডল ও মনির শিকদার বলেন, রাতুল ক্লিনিকে চরম অনিয়ম চলে। এখানে সিজারের যে-সব রোগী আসে, তাদের কাছ থেকে গলাকাটা টাকা আদায় করা হয়। কারো কাছ থেকে ২০ হাজার, কারো কাছ থেকে ২৫/৩০ হাজার করে টাকা করে নিয়ে সিজার করা হয়। এতে রোগীরা হয়রানি ও প্রতারিত হচ্ছে। সিজার রোগীর জন্য একটি নির্দিষ্ট মুল্য তালিকা থাকা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। স্থানীয় ফার্মেসি মালিক সুব্র মন্ডল বলেন, ড্রাগ লাইসেন্স না থাকলেও এ ক্লিনিকে নিয়মিত ওষুধ বিক্রি করে আসছে। এটা তো অনিয়ম। কারো লাইসেন্স থাকবে কারো থাকবেনা সেটা তো হয় না। স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, রাতুল ক্লিনিকে বিভিন্ন অপারেশন করে থাকে, কিন্তু সব সময় ডাক্তার থাকেনা। এতে ভর্তি রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এছাড়া বিভিন্ন পরীক্ষায় অতিরিক্ত টাকা নেয়। পরীক্ষা নিরীক্ষার রিপোর্টও ভুলভাল হয় দেখেছি। এ নিয়ে হট্টগোলও ঘটে প্রায়ই। স্থানীয়দের অভিযোগ, এতসব অনিয়মের মধ্যদিয়ে রাতুল ক্লিনিক বহাল তবিয়তে রয়েছে। কারণ রাতুল ক্লিনিকের মালিক জাহাঙ্গীর সব সময় রাজনৈতিক শেল্টারে থাকেন। এর আগে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে ক্লিনিক ব্যাবসা পরিচালনা করেন। আর ৫ আগস্টের পর তিনি ভর করেছেন অন্য রাজনৈতিক দলের উপর। এখন তাদের ছত্রছায়ায় চলছে রাতুল ক্লিনিকের অনিয়ম বাণিজ্য।



