স্থানীয় সংবাদ

শ্রমিকদের পাওনা না মিটিয়ে জায়গাসহ পাট গুদাম বিক্রি শ্রমিকদের বাধা

# দিঘলিয়ায় মালিক পক্ষের শ্রম আইন লঙ্ঘন #

দিঘলিয়া প্রতিনিধি ঃ খুলনার দৌলতপুর জুট প্রেস এন্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের অধীনস্হ ফরমাইশখানা কাঁঠাল তলায় অবস্থিত মেসার্স শরীফ ব্রদার্সের পাট গুদাম বিক্রি করে দিয়েছে গুদামের মালিকগণ। কিন্তু উক্ত গুদামে কর্মরত শ্রমিকদের ২০১২ সাল থেকে গুদামটি চালু থাকাকালীন সময় পর্যন্ত পাওনা রয়েছে ২৩ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, উল্লেখিত নেসার্স শরীফ ব্রদার্সের মালিকের নিকট শ্রমিকদের ২০১২ সালের পর থেকে গুমামে পাট আমদানি-রপ্তানিতে ও যাচাই কাজ বন্ধ হওয়া অবধি পাওনা রয়েছে ২৩ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্ট শ্রমিকেরা মালিক পক্ষকে চাপ দিলেও মালিক পক্ষ শ্রমিকদের পাওনার ব্যাপারে কথা না বলে পালিয়ে পালিয়ে গুদাম বিক্রি করছেন এমনকি একদিন হয়তোবা শোনা যাবে জায়গাও বিক্রি হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় উক্ত পাট কোম্পানিতে কর্মরত শ্রমিকেরা তাদের পাওনা টাকা পাওয়ার জন্য গুদাম মালিক, স্থানীয় গণ্যমান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে ধর্ণা দিয়েও তাদের পাওনা টাকার ব্যাপারে মিটিং, মিছিল, সভা-সমাবেশ করে চলেছে। এমনকি সংশ্লিষ্ট গুদামে পাট আমদানি-রপ্তানিতে এবং যাচাইয়ে কর্মরত শ্রমিকেরা তাদের বকেয়া পাওনা না দিয়ে মালিকের পাট গুদাম ভাঙ্গতে দেবে না। এমনকি তারা গুদামে দৌলতপুর জুট প্রেস এন্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে অবশিষ্ট গুদামের দেওয়লে। পাট গুদামের একটা অংশ ইতোমধ্যে ভেঙ্গে নিয়েছে ক্রেতারা। তারা এলাকার মানুষের পানি নিষ্কাশনের ড্রেন ভেঙ্গে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসনের জানিয়েছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট গুদামের শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে শ্রমিকদের বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬(২০১৮) এর ২০৯ ধারা মোতাবেক এরিয়া বিলের ২৩ লাখ টাকা পাওয়া ও শিল্পের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট পাট কোম্পানিতে কর্মরত শ্রমিকেরা বাংলাদেশ জুট এ্যাসোসিয়েশন, শ্রম অধিদপ্তর খুলনা, খুলনা জেলা প্রশাসক, উপ মহাপরিদর্শক কারকানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক অধিদপ্তর খুলনা, পুলিশ সুপার খুলনা, খুলনা পুলিশ কমিশনার, অফিসার ইনচার্জ খালিশপুর মেট্রো থানা, দিঘলিয়া থানা ওসিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানিয়েছেন। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা তাদের পাওনা টাকা পাওয়া এবং জনকল্যাণে ব্যবহৃত এলাকার পানি নিষ্কাশনের পাকা ড্রেন যা ভেঙ্গে ইট তুলে বিক্রি করা হয়েছে তার মেরামত না করা হলে শ্রমিকেরা খুলনার সকল শ্রমিকদের সাথে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে বলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকেরা এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মালিক পক্ষের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button