স্থানীয় সংবাদ

যশোরে স্কুলছাত্রীর গাছে ঝোলানো লাশ উদ্ধার

যশোর ব্যুরো ঃ নাদিরা আক্তার নদী (১৫) নামে যশোরে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর গাছে ঝুলানো লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই মৃত্যু নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে। মৃতের পরিবারের দাবি, প্রতারক প্রেমিক ও তার পরিবারের লোকজন নদীকে হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে যে বাড়ির গাছ থেকে লাশ উদ্ধার হয়েছে সেই বাড়ির লোকজনের দাবি নদী আত্মহত্যা করেছে। গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার ইছালি রামকৃষ্ণপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। ৯৯৯ নাম্বার থেকে ফোন পেয়ে যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ গভীর রাতে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। মৃত নাদিরা আক্তার নদী ইছালি রামকৃষ্ণপুর গ্রামের প্রবাসী মকতুল মোল্লার মেয়ে ও ইছালি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণির ছাত্রী। চাচা লোকমান বাঙালি মোল্লা জানিয়েছেন, নাদিরার সাথে একই গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে নাজমুলের তিন বছর থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ সময় নাজমুল বিয়ের প্রলোভন দিয়ে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। বিষয়টি গত ছয় মাস আগে জানাজানি হয়। তখন ছেলের পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে নেয় না। এক পর্যায়ে নাজমুলও তাকে প্রত্যাখ্যান করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত সোমবার রাতে নাদিরা প্রেমিক নাজমুলের বাড়িতে বিয়ের দাবি নিয়ে যায়। তখন ছেলের ভাই হাসান, হোসেনসহ পরিবারের লোকজন নাদিরাকে মারপিট করে হত্যা করেন। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বাড়ি থেকে গামছা ও মেয়ের শরীরে থাকে ওড়না পেঁচিয়ে বাড়ির উঠানের আম গাছের সাথে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার করতে থাকে। বিষয়টি গ্রামে জানাজানি হলে প্রতিবেশীরা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দেন। রাত ১১টার দিকে কোতোয়ালি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। তখন পুলিশ মৃত্যুর সংবাদটি মেয়ের পরিবারকে জানালে তারা হাসপাতালে যেয়ে লাশ দেখতে পান। কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানিয়েছেন, নাদিরা নামের মেয়েটির সংবাদ ঢাকা জরুরি সেবা কল সেন্টার (৯৯৯) থেকে পাওয়া যায়। পরে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে গভীর রাতে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে প্রেম সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাদিরার মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনা হত্যা না আত্মহত্যা সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button