স্থানীয় সংবাদ

খুলনার কোন স্কুলেই নেই পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা : বড় বিপর্যয়ের শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা

আনিছুর রহমান কবির ঃ খুলনার কোনো প্রাথমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়েই নেই পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা। নেই ফায়ার এক্সটিংগুইশার, নেই প্রশিক্ষিত কর্মী, নেই জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা। ফলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এমন আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবকরা। আগুন লাগা এখন দেশজুড়ে এক আতঙ্কের নাম। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট ও অগ্নিকান্ডেরর ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। তবু খুলনার স্কুলগুলোতে আগাম সতর্কতা বা প্রস্তুতির কোনো উদ্যোগ নেই। খুলনা জেলায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে রয়েছে প্রায় ১,৭০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এর বেশিরভাগ স্কুলেই নেই একটি কার্যকর ফায়ার এক্সটিংগুইশারও। দু একটি স্কুলে যে এক্সটিংগুইশার রয়েছে, তা বহু বছর ধরে রিফিল করা হয়নি এবং সেগুলোর বেশিরভাগই রাখা থাকে শিক্ষকদের রুমে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে অন্ততঃ একটি এক্সটিংগুইশার থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্কুলে পুরো ভবনজুড়ে একটি পর্যন্ত নেই। অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ আসমা আক্তার নামের এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের ছোট বাচ্চারা স্কুলে পড়ে। স্কুল কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে কোনো চিন্তা নেই। দুর্ঘটনার পর সবাই সচেতন হয়, আগে নয়। আগে সচেতন হলে অনেক বাচ্চার জীবন বাঁচতে পারে।” আরেক অভিভাবক আব্দুর রহমান বলেন, “কিছুদিন আগেই কমার্স কলেজে ককটেল বোমা পাওয়া গেছে। স্কুলে যদি পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।” স্কুল কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ ও অসহায়ত্ব সেন্ট জোসেফস উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলফ্রেড রণজিৎ মন্ডল বলেন, “আমরা বিষয়টিকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আরো কঠোর হওয়া উচিত। ম্যানেজিং কমিটির সাথে আলোচনা করে খুব শীঘ্রই স্কুলকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেব বলে আশা করছি।”সরকারি করোনেশন বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জিএম আয়ুব হোসাইন স্বীকার করেন “অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আমরা অনেকটাই অসহায়। বাজেট সংকট, তদারকির অভাব ও প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে স্কুলগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে।”প্রশাসনের সীমাবদ্ধতা ও নীরবতা খুলনা মাধ্যমিক জেলা শিক্ষা অফিসার এস এম ছায়েদুর রহমান বলেন, “আমরা ইতিপূর্বে প্রতিটি স্কুলে নোটিশ করেছি। কিন্তু বাজেট না থাকায় অনেক স্কুল সরঞ্জাম কিনতে পারছে না। তবুও বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি।” রহস্যজনকভাবে ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি। প্রাথমিক জেলা শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম বলেন, “আমরা খুবই অসহায়। দুই-একটি স্কুলে এক্সটিংগুইশার থাকলেও রিফিল করা হয় না এটা সত্য। বাজেট না থাকায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; খুব শীঘ্রই আমরা ব্যবস্থা নেব।” তিনি অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ দাবি সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকরা খুলনার প্রতিটি স্কুলে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে একটি ছোট ভুলই হয়ে যেতে পারে বড় বিপর্যয়।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button