স্থানীয় সংবাদ

খুলনাঞ্চলে এবার বোরো আবাদের টার্গেট পূরণ হলে চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা ১২ লাখ মেট্রিক টন

# আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ২,৬৪,৭১৯ হেক্টর ও বীজতলার অগ্রগতি ৫,৪৩১ হেক্টর #
# এ মৌসুমে চাল উৎপাদনের সম্ভবনা ১২ লাখ ১০ হাজার ২৮৩ মেট্রিক টন #

মোঃ আশিকুর রহমান ঃ খুলনাঞ্চলের কৃষকের ব্যস্ততা এখন রবি মৌসুমের বোরো ধানের চাষাবাদে লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বীজতলা প্রস্তুতি ও পরিচর্চার কার্যক্রম নিয়ে। খুলনাঞ্চলকে কৃষি নির্ভর করে তুলতে সারা বছর ধরে এ অঞ্চলের কৃষকেরা বহুমুখি আধুনিক চাষাবাদ অব্যহত রাখেন। সংশ্লিষ্টরা এবং কৃষক জানিয়েছেন, চলতি রবি মৌসুমে খুলনাঞ্চলের বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারলে এদিকে যেমন কৃষক লাভবান হবেন এবং অন্যদিকে, এ অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থাকে আরো গতিশীল হবে। সর্বপরি, খুলনাঞ্চলের কৃষকের মুুখে ফুটবে খুশির হাসি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে রবি মৌসুমে খুলনাঞ্চলের ৪ জেলার বোরো আবাদের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ২,৬৪,৭১৯ হেক্টর। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ পূরন হলে এ অঞ্চলে ১২,১০,২৮৩ মেট্রিক টন । সূত্রে আরো জানা গেছে, চলতি অর্থ বছরে বোরো ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা খুলনা জেলার ৬৬,০০০ হেক্টর, বাগেরহাট জেলার ৬৭,৬২২ হেক্টর, সাতক্ষীরা জেলার ৮০,৮০০ হেক্টর ও নড়াইল জেলার ৫০,২৯৭ হেক্টর নির্ধারিত হয়েছে। পাশাপাশি, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪ জেলার বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ১৩,৮০৫ হেক্টর। সর্বশেষ তথ্যনুসারে বীজতলার অগ্রগতি হয়েছে ৫,৪৩১ হেক্টর জমি, যার হার ৩৯.৩%। এ অঞলের বিভিন্ন উপজেলার খোঁজখবর নিয়ে ও কথা বলে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে খুলনাঞ্চলের কৃষকেরা বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরন এবং অঞ্চলের কৃষিকে আরো গতিশীল করে তুলতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বীজতলা প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন ও পরিচর্চার কার্যক্রম নিয়ে। পাশাপাশি তারা তেল, ডাল, মসলা ও শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে নানাবিধ কার্যক্রম অব্যহত রেখেছেন।
এ বিষয়ে দিঘলিয়া উপজেলার কৃষক হামিদুল জানান, সামনে বোরো ধান লাগনো শুরু করতে হবে। এখন আর্দশ বীজতলা প্রস্তুতি নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ও সার্বিক পরামর্শ প্রদান করেন।
এ বিষয়ে কালিয়া উপজেলার কৃষক তৈয়েবুর কাজী জানান, প্রায় ৮ বিঘা (৫২ শতক) জমিতে বরো ধান চাষ করার ইচ্ছা আছে। ইতোমধ্যে বীজতলা প্রস্তুতিকরণ, পরিচর্চা করছি। কৃষি অফিসার থেকে সার্বিক পরামর্শ প্রদানসহ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়মিত সহয়তা করেন।
এ বিষয়ে কালিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আমিরুল ইসলাম জানান, সালামাবাদ ইউনিয়নের ধুসহাটি, বিলবাউচ ও বলাডাঙ্গার ব্লকের ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। বিপরীতে ৬ হেক্টর জমিতে বীজতলার প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলমান। পাশাপাশি, তেল ফসল, ডাল ফসল, ফসল ও শীতকালীন সবজির চাষাবাদে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কৃষকদের বাড়ীর আঙ্গিনায় নিরাপদ সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ কিশোর আহম্মেদ জানান, দিঘলিয়া উপজেলাতে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৪,৯০০ হেক্টর নির্ধারিত করা হয়েছে। বিপরীতে বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে ২৪৫ হেক্টর, যার অগ্রগতি ৭০%। উপজেলার কৃষকেরা এখন ব্যস্ত আদর্শ বীজতলা প্রস্তুতিকরন ও পরাচর্চা নিয়ে। পাশাপাশি, সরিষা চাষাবাদের দিকেও বিশেষ খেয়াল রাখা হচ্ছে। এ চাষাবাদে কৃষকেরা সেচ ও পরিচর্চা করছেন। আশাকরি, লক্ষ্যমাত্রানুসারে বোরো ধানের উৎপাদনের র্টাগেট পূরনে সক্ষম হবো।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে খুলনাঞ্চলের চলতি মৌসুমে বোরো ধানের আবাদ ও বীজতলা প্রস্তুতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। উপজেলার কৃষকেরা উৎপাদনের বাস্তবরূপ দিতে বীজতলা প্রস্তুত ও পরিচর্চা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। আশাকরি, কোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগ দেখা না দিলে বোরো আবাদের বিপরীতে এ অঞ্চলের উৎপাদিত চাল দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে বলে বিশ^াস করি।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button