ভোট চাইতে আসিনি, মানুষের ভাগ্য ফেরাতে চাই : বকুল

স্টাফ রিপোর্টার ঃ বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে শুরু হয় খুলনা মহানগরীর দৌলতপুরে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা।দোয়ায় খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য এবং আগের মতো জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে নেতৃত্ব ধরে রাখার জন্য প্রার্থনা করা হয়।এর পরেই সভার প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা–৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, আমি ভোট চাইতে আসিনি,এসেছি আপনাদের সন্তান হিসেবে কুশল জানতে। সুখে-দুঃখে পাশে থাকাÑএটাই আমার প্রতিশ্রুতি। আল্লাহ সুযোগ দিলে খুলনার মানুষের ভাগ্য পাল্টে দেব ইনশাআল্লাহ। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর, কেডিএ এবং কৃষি কলেজ এলাকার বাসিন্দাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খুলনার এক সময়ের প্রাণচাঞ্চল্য শিল্পাঞ্চল আজ যেন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে।বন্ধ হয়ে গেছে ২৬টি জুট মিলসহ অসংখ্য কল-কারখানা। কর্ম হারিয়ে হাজার হাজার শ্রমিক আজ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই এলাকার সন্তান হিসেবে এই স্থবিরতা কাটাতে এবং খুলনার মানুষকে নতুন স্বপ্ন দেখাতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল। বক্তৃতায় রকিবুল ইসলাম বকুল আক্ষেপ করে বলেন, “কর্মচঞ্চল ভৈরব তীরবর্তী খালিশপুর আজ মৃত্যুপুরী।এখানকার হাজার হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়ে কেউ রিকশা চালাচ্ছেন, কেউ দিনমজুরের কাজ করছেন। বিগত সরকার পরিকল্পিতভাবে ২৬টি জুট মিল বন্ধ করে দিয়েছে।” তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ব্যবসায়ীদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে এবং বন্ধ জুট মিল ও কল-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। এলাকার সন্তান হিসেবে নিজের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বকুল বলেন,অর্থের অভাবে যেন কোনো শিক্ষার্থী ঝরে না পড়ে, সে দায়িত্ব আমি ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছি। ভর্তি ফি ও বই কেনার টাকা আমি দিচ্ছি। তিনি আরও বলেন,বেকারত্বের অভিশাপে যুবসমাজ মাদকের দিকে ঝুঁকছে। তাদের হাতে কাজ তুলে দিতে পারলে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে। খুলনা-৩ আসনে প্রায় ৮-১০ লাখ মানুষের বসবাস হলেও এখানে কোনো উন্নতমানের সরকারি হাসপাতাল নেইÑ এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপি নেতা বকুল। তিনি বলেন,জনগণ আমাকে নির্বাচিত করলে সরকারি অর্থায়নে এই এলাকায় একটি সর্বাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা পাবে। কোনো প্রাইভেট ক্লিনিক নয়, এটি হবে জনগণের হাসপাতাল। বক্তব্যে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমান দুই বছর আগেই শেখ হাসিনার পতনের বিষয়টি অনুধাবন করে এই ৩১ দফা দিয়েছিলেন। এতে ফ্যামিলি কার্ড, শ্রমিকের অধিকার এবং নারীদের ক্ষমতায়নের কথা বলা হয়েছে। ৩১ দফাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মুক্তির সনদ। বকুল তার বক্তব্যে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “টেন্ডারবাজি বা চাঁদাবাজির কোনো স্থান বিএনপিতে হবে না। আমি চাই না আমার দলের কেউ সিন্ডিকেট বা অনৈতিক কাজে জড়াক। কেউ যদি এসব করে, তবে তাকে এই এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। আলহাজ্ব ইসরাফিল সর্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, দৌলতপুর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতলেবুর রহমান মিতু, আখুঞ্জি হারুন অর রশিদ, মোঃ শহিদুল ইসলাম সিআইপি, বিজেএ নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান, খন্দকার আলমগীর কবির, খুলনা জেলা ট্রাক লরি কভার ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ অহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় বিশিষ্ট নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি। সভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণ উপস্থিত হয়ে এলাকাজুড়ে নির্বাচনী উচ্ছ্বাস তৈরি করেন।



