প্রবাসী ছেলের মায়ের উপরে হামলা ও স্বর্ণালংকার ছিনতাই : থানায় অভিযোগ দাখিল

স্টাফ রিপোর্ট্রাঃ বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ দক্ষিণ চিংড়াখালী ৩নং ওয়ার্ডে পূর্ব শত্রুতার জেরে পাঁচ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে । বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টার দিকে দক্ষিণ চিংড়াখালী ৩নং ওয়ার্ডে খেজুরডাঙ্গা এই ঘটনা ঘটে। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খাদিজা বেগমের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল এলাকার প্রভাবশালী সন্ত্রাসীচক্র। বিগত ফ্যাসিবাদ সরকারের সময়ে এলাকায় প্রভাবশালী হয়ে ওঠা এ চক্রের হুকুমদাতা । তার নির্দেশে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয় বলেও দাবি পরিবারের। ভিকটিমের স্বজন মামুন দিদার জানান, সাগর দিদার সৌদি প্রবাসীর মা খাদিজা বেগম (৫৫)কে মারধর করে পাঁচ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ করে। দীর্ঘ দিন একটি চক্র চাঁদা দাবি করে করে আসছিলো, আমাদের মা খাদিজা বেগম ধারালো অস্ত্র দিয়ে কয়েকজন দুর্বৃত্তসহ ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে তাদের মাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে ফেলে রেখে চলে যায় । এ ঘটনায় ৭ জনকে আসামী করে মোড়েলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, “আমি খাদিজা বেগম (৫৯) খুবই নিরীহ, শান্তিপ্রিয়, জনবলহীন ও অবলা নারী হচ্ছি। আমার ২টি পুত্র বিদেশে থাকে। উপরোল্লিখিত আসামীরা ভয়ানক দুর্দান্ত, দাঙ্গাবাজ, উশৃঙ্খল, পরসম্পদলোভী এবং খুবই খারাপ প্রকৃতির লোক। আমার নিজ নামীয় ও আমার পুত্রদ্বয়ের কবলা খরিদা ও স্বত্ব দখলীয় দক্ষিণ চিংড়াখালী (নেজুরডাঙ্গা) গ্রামস্থ কলাবাগানের জমিজমা আসামীরা অন্যায়ভাবে দাবীদাওয়া করতঃ জবর দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। তাকে কেন্দ্র করে পূর্ব হতে শত্রুতা ও বিরোধ চলে আসছে। ঘটনার দিন ১১ডিসেম্বর বিকাল ৩ টার দিকে আমাদের স্বত্ব দখলীয় দক্ষিণ চিংড়াখালী (খেজুরডাঙ্গা) গ্রামস্থ কলা বাগান দেখাশুনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যাবারকালে উক্ত বাগানের সামনে রাস্তায় পৌঁছালে পূর্ব থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা আসামীদ্বয়ের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬জন বহিরাগত সন্ত্রাসী আসামীরা অবৈধ জনতাবদ্ধে মারাত্মক দেশীয় ধারালো ও ভোতা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উক্ত কলা বাগানের সামনে রাস্তায় আমাকে ঘিরে ফেলে এবং প্রকাশ্যে জীবন নাশের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে। এসময় আসামীরা শাসায় যে, জমি খাওয়ার মজা বুঝায়ে দেবো, তোকে হত্যা করে লাশ গুম করবো। এ সময় দুর্বৃত্তের হাতে থাকা হকাস্টিক দ্বারা খুন করার উদ্দেশ্যে এলোপাথারিভাবে পিটায়ে আমার পিঠের বিভিন্ন স্থানে ও মাথার তালুতে চামড়া ছোলা, ফুলা, নীলা, রক্ত জমাট ও অভ্যন্তরীণ জখম করে। আসামীর হাতে থাকা লোহার রড দ্বারা উপর্যুপুরি পিটায়ে আমার ডান পায়ে, নলায়, গোড়ালীতে ও ডান পাজরে এবং হাতে থাকা বাঁশের লাঠি এলোপাথারিভাবে পিটাইয়ে আমার মাথার ডান পাশে, মাথার বাম পাশে ও মাথার সামনের অংশে রক্তজমাট জখম অভ্যন্তরীণ জখম করে। এসময় আসামীদের হাতে থাকা ভারী লাঠি দ্বারা আমাকে এলোপাথাড়ীভাবে পিটায়ে আমার বাম পায়ের বিভিন্ন অংশে, উভয় হাতে, ডান হাতের কব্জিতে, উভয় পাজরে এবং শরীরের বিভিন্নস্থানে অসংখ্য আঘাত করে ফুলা, নীলা, কালো দাগ ও বেদনাদায়ক জখম করে। উক্ত মারপিটে আমি মাটিতে লুটায়ে পড়লে এ সময় আসামীদ্বয় তাদের পায়ের গোড়ালী দ্বারা উপর্যুপুরি আঘাত করে আমার তলপেটে ও বুকে মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত করে। এমনকি আসামীরা আমার গলায় পাড়ায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে এবং জীবনে বাঁচতে দিবে না বলে প্রকাশ করতে থাকে। এসময় আসামীরা আমার পরিহিত কাপড়চোপড় টানাহেচড়া করে বেশামল করে শ্লীলতাহানী ঘটায়। উক্ত মারপিটে আমি মুমূর্ষ হয়ে গেলে এই সুযোগে আমার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ওজন ১২ আনা মূল্য ১,৫৬,৭৫০/-টাকা নিয়ে যায়। উক্ত মারপিটে আমার তলপেট ও মুখ হতে প্রচুর পরিমাণ রক্তক্ষরণ হয়। আমার ডাকচিৎকারে অন্যান্য স্বাক্ষীসহ আশপাশের বহু লোকজন ঘটনাস্থলে আসে এবং মুমুর্ষ অবস্থায় আমাকে উদ্ধার করে এ্যাম্বুলেন্সযোগে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নিয়ে ভর্তি করে।



