স্থানীয় সংবাদ

ডুমুরিয়ায় একটি কুচক্রী মহল ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের রোশানলে পড়ে ৭ পরিবারের জীবন-জীবিকা হুমকিতে

সুজিত মল্লিক, ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি ঃ ডুমুরিয়ার উপজেলার আঁধারমানিক গ্রামের ৭ পরিবারের জীবন-জীবিকা পড়েছে হুমকিতে। পরিবার গুলো স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কথিত জরুরি প্রকল্পের রোশানলে পড়েছে বলে জানা গেছে। ফলে, তাদের মাছের ঘের ও বসতঘর সবই যাচ্ছে খালের পেটে। এমন পরিস্থিতিতে ওই পরিবারগুলো পাচ্ছেন না কোন উপায় খুঁজে। জানা গেছে, উপজেলার খোরেরাবাদ কালভার্ট বাজারের পাশেই রয়েছে জনবসতি। গ্রামীন রাস্তার দু’পাশ জুড়েই প্রায় ২০/২৫টি পরিবারের বসবাস। বসতির অনেক আগে এখানে ছিল বিশাল বড় খোরেরাবাদ ও আঁধারমানিক নামক খাল। এক পর্যায়ে ওই খালের জমি তাদের মধ্যে কেউ কেউ সরকারি ভাবে ইজারা বা বন্দোবস্ত পান। যার সুফল ভোগী হলেন এলাকার অনিল মন্ডল, কার্তিক মন্ডল, অজিত মন্ডল, অসীম মন্ডল, গৌরঙ্গ মন্ডল, উষা রানী মন্ডল, অচিন্ত্য মন্ডল, বিশ্বনাথ সানা ও পার্থ মন্ডল। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে তারা ওই খালের জলাশয়ে মাছ চাষসহ খাল ভরাটি জমিতে বাড়িঘর তৈরী করে আছেন। এরই মধ্যে এলাকার একটি কুচক্রী মহলের কুদৃষ্টিতে পড়েন তারা। কথিত জলাবদ্ধতার কথা বলে ওই মহলটি খাল খননের জন্য দৌড়ঝাপ শুরু করে। বর্তমানে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ খালটি খননের জন্য একটি জরুরী প্রকল্পও হাতে নিয়েছেন। এরই মধ্যে খনন কাজে ব্যবহৃত স্কোভিটার গাড়ীও সেখানে নেয়া হয়েছে। ওদিকে খালের দখলে থাকা কাউকে করা হয়নি অবিহিত। এ প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী অচিন্ত্য মন্ডল ও বিশ্বনাথ সানা বলেন- আমরা অত্যন্ত গরীব ও অসহায় ভাবে জীবন-যাপন করতাম। খালের ওই জায়গায় মাছের চাষ ও কঠোর পরিশ্রম করে আমরা আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছি। আজ আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে যথেষ্ট ভালো আছি। এখন শুনতেছি এসব খাল কেটে দেয়া হবে। আমাদের মাছের গুলো ঘের থাকবে না। কেউ কেউ বলছে বাড়িঘরও ভেঙ্গে দেবে। যদি এমন হয়, তাহলে আমরা যাবো কোথায়। বেঁচে থাকার জন্য এই জায়গা ছাড়া আমাদের আর স্থান নেই। বউ-বাচ্চা নিয়ে পথে বসা ছাড়া কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছি না। এ বিষয়ে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পুর) তরিকুল ইসলাম জানান, জলাবদ্ধতার কথা বলে ওই এলাকার লোকজন অফিসে এসে খালটি খনেনর দাবি করেন। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ তা আমলে নিয়ে ইমারজেন্সি প্রকল্পের মাধ্যমে খালটি খনন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে সেখানে বসতবাড়ি ভাঙ্গা বা মাছের ঘেরের ক্ষতিকর অবস্থায় আছে এমন কিছু আমার জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার বলেন- জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন জরুরী। আবার ভূমিহীন, অহসায় মানুষের ওপর জুলুম করাও ঠিক হবে না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button