খালিশপুর বঙ্গবাসী স্কুলে ফ্যাসিস্ট শিক্ষক দেলোয়ারকে গ্রেফতারের পর ছেড়ে দেয়া হয়

# ক্ষুব্ধ শিক্ষকদের দাবির মুখে তাকে শোকজ
# তাকে স্কুলে অবাঞ্চিত ঘোষণা #
স্টাফ রিপোর্টারঃ রাষ্ট্রীয় শোক দিবসকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে স্কুলের সকল শিক্ষককে নোটিশ দিয়ে হাজির করার ঘটনায় বঙ্গবাসী স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী উত্তম মাধ্যম দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। শিক্ষকদের আটকে রেখে জানাজায় যাওয়া থেকে বিরত রাখার ঘটনায় খালিশপুর বঙ্গবাসী এলাকা পুরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ খবর শোনার পর স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। এই দেলোয়ার বিগত দিনে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের নেতা। পুরো স্কুলটি তিনি আওয়ামীলীগের উর্বর ভূমিতে পরিণত করেন। ৫ আগস্টের পর কিছু দিন গা ঢাকা দিয়ে থাকলে পরে আবার কতিপয় সুবিধা ভোগী নেতাদের আশ্বাসে স্কুলে ফিরে এসে বিএনপির বুদ্ধিজীবী সাজার চেষ্টা করছেন। খবর পেয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনা স্থলে আসেন। তারা তাৎক্ষণিক শিক্ষকদের সাথে বৈকঠক করে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তারা শিক্ষকদের কাছ থেকে বিস্তর অভিযোগ শোনেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তারা শিক্ষকদের আশ্বাস্ত করেন। একই সাথে এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। শ্কোজ করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অভিযোগ নিস্পত্তি কর্মকতর্তা প্রফেসর কাজী মোঃ আবু কাইয়ুম। ওই শোকজে উল্লেখ করা হয়, ‘আপনার বিরুদ্ধে ৩১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় সাধারণ ছুটি ও শোক পালনকালীন স্কুল খোলা রাখা এবং সহকর্মীদের স্কুলে উপস্থিত হতে বাধ্য করার নোটিশ জারির অভিযোগ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা (অনিক) এর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সে প্রেক্ষিতে, অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা-সংক্রান্ত নির্দেশিকা, ২০১৫ (পরিমার্জিত ২০১৮) এর ধারা ৭.১ (গ) মোতাবেক অভিযোগ সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কিত তথ্য, প্রতিবেদন, কাগজপত্রাদি, লিখিত/ মৌখিক বক্তব্য যাচাই-বাছাই করার নিমিত্ত আগামী ৪ জানুয়ারী রবিবার সকাল ১০ টায় আপনাকে অনিকের কার্যালয়ে (রুম নং-৭০১, বি-ব্লক, শিক্ষা ভবন, ঢাকা) স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত/ মৌখিক বক্তব্য প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এসএম সাইদুৃর রহমান জানান, বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। যেহেতু স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি এডিসি (শিক্ষা)। তাকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তিনি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি জানান। এলাকাবাসী ও শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগ নেয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ১০নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ফারুখ হিল্টন বলেন, মাস্টার দেলোয়ার এজন চিহ্নিত ফ্যাসিস্ট। তিনি শিক্ষকদের বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে না দেয়া সে ব্যাপারে আটকে রাখা হয়। এ খবর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্দ হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে উত্তম মাধ্যম দিয়ে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়। পরে কতিপয় বিএনপি নেতার হস্তক্ষেপে তিনি থানা থেকে এই চিহ্নিত ফ্যাসিস্টকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এই ফ্যাসিস্টের বিচার চাই। মহিলাদল নেত্রী আনোয়ারা বেগম জানান, ফ্যাসিস্ট দেলোয়ার দলের ভাবমূর্তি নস্ট করছে। তার বিরুদ্ধে আমরা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছি। এছাড়া তাকে স্কুলে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে। কোনভাবেই তাকে স্কুলে ঢুকতে দেয়া হবে না। ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কালু বলেন, দেলোয়ার বিএনপির মনে চরম আঘাত দিয়েছে। তার কোন ক্ষমা নেই। সে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের গুপ্তচর বলেছেন। আর খালেদা জিয়ার জানাজায় যেতে দেয়নি শিক্ষকদের। এতবড় অন্যায় কোন বিএনপি নেতা ক্ষমা করলেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে করবেন না। দেলোয়ারকে স্কুলে ঢুকতে দিবেন না। আরেক বিএনপি নেতা ডাঃ মোবাশ্বের হোসেন শ্যামল বলেন, ফ্যাসিস্ট দেলোয়ার ভয়ংকর অপরাধ করেছে। যা ক্ষমার অযোগ্য। তার এ আচরণ কোনভাবেই ক্ষমা করা যায় না। অবিলম্বে তার বিচারের দাবি জানান এই নেতা। খালিশপুর থানার ওসি তৌহিদুজ্জামান বলেন, শিক্ষক দেলোয়ারকে উত্তেজিত জনতার কবল থেকে পুলিশ উদ্ধার করে আনে। পরে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়।



