খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নন, জনগণের নেত্রী হিসেবে মর্যাদা পেয়েছেন: রকিবুল ইসলাম বকুল

স্টাফ রিপোর্টার ঃ বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি দলের নেতা হিসেবে নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের কা-ারি হিসেবে জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তিনি চাইলে বিদেশের মাটিতে আরাম আয়েশে থাকতে পারতেন। কিন্তু তিনি বেছে নিয়েছেন রাজপথ। মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার লড়াইয়ে তিনি রাজপথে থেকে বাংলাদেশের মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। তিনি ১৭ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন লড়াই করেছেন এবং অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছেও কখনো কোনো অপশক্তির সাথে আপোষ করেননি। শনিবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপোষহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি মদিনাবাগ ইউনিট এর উদ্যোগে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে আপোষের কোনো স্থান নেই। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, নেত্রী সেদিন হুশিয়ারি দিয়েছিলেন যারা নির্বাচনে যাবে তারা জাতীয় বেইমান হিসেবে গণ্য হবে। বাংলার মানুষ সেদিন দেখেছে কারা বেইমানি করেছিল আর কারা জনগণের পক্ষে অটল থেকে লড়াই করে গিয়েছে। জনগণের পক্ষে থেকে কিভাবে লড়াই করতে হয় তা আমরা নেত্রীর কাছ থেকে শিখেছি। বক্তব্যে বকুল আরও উল্লেখ করেন যে, ভোট মানুষের এক মূল্যবান সম্পদ। এই ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে অসংখ্য নেতাকর্মী ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং জেল জুলুম সহ্য করেছেন। এমনকি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছে যাতে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হয়। তিনি সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচন পর্যন্ত সবাইকে সুশৃঙ্খলভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে যাতে এবার দেশের মানুষ নিশ্চিন্তে ও নিরপেক্ষভাবে তাদের ভোট দিতে পারে। জিয়া পরিবারের মতো নির্যাতিত পরিবার বাংলাদেশে আর দ্বিতীয়টি নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। নিজের ছাত্রজীবন ও এলাকার সাথে দীর্ঘ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে রকিবুল ইসলাম বকুল আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচনে হার-জিত যাই হোক না কেন, তিনি অতীতে যেমন ছিলেন ভবিষ্যতেও তেমনি জনগণের পাশে থাকবেন। তিনি সবার মাঝে এলাকার সন্তান ‘বকুল’ হয়েই বেঁচে থাকতে চান।
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মো. চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, খালিশপুর থানা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট মোঃ মোহাম্মদ আলী বাবু, সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান বিশ্বাস এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস প্রমুখ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আব্দুল হালিম, প্রফেসর ডক্টর শেখ মোতাসিন বিল্লাহ, প্রফেসর মো. শহিদুল ইসলাম, ইলিয়াস হোসেন এবং জি এম মোস্তাফিজুর রহমানসহ স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও এলাকার বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এর আগে তিনি বেলা সাড়ে ১১টায় খালিশপুর পিপলস্ স্কুলে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বিকেল সাড়ে ৩টায় খানজাহান আলী থানার কিবরিয়া মেম্বারের বাড়িতে স্থানীয়দের সঙ্গে সাক্ষাত ও মতবিনিময় করেন।
রাত সাড়ে ৮টায় দৌলতপুর থানা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন খুলনা- ৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল। থানা বিএনপির সভাপতি মুর্শিদ কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম- আহবায়ক চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, দৌলতপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমাম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মতলেবুর রহমান মিতুলসহ দৌলতপুর থানা বিএনপির আওতাধীন ১,৩,৪,৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ দৌলতপুর থানা বিএনপির কার্যকরি পরিষদের সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



