সুন্দরবনে অপহৃত ২ পর্যটকসহ ৩জন উদ্ধার : মামলা দায়ের

২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার : সুন্দরবনে বেড়াতে আসা খুলনার দাকোপ এলাকা থেকে মুক্তিপনের দাবিতে অপহ্নত ইকো রিসোর্ট মালিকসহ ৩ পর্যটককে অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে খুলনার দাকোপ উপজেলার বানিশান্তা এলাকা থেকে পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এ সময় অপহরণের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন বনদস্যুকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টি রাতে এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান।
এদিকে, এ ঘটনায় রিসোর্ট মালিকের ছেলে শান্তনু বাছাড় বাদি হয়ে আজ রোববার দাকোপ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় বনদস্যুদের নাম উল্লেখসহ ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ করা হয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী এলাকার সুন্দরবন সংলগ্ন কেনুর খাল এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয়। অপহৃত দুই পর্যটক হলেন মো. সোহেল ও জনি। তারা ঢাকার বাসিন্দা।
সঙ্গে ছিলেন সুন্দরবনের ঢাংমারী এলাকায় অবস্থিত রিসোর্ট গোল কানন’র মালিক শ্রীপতি বাছাড়।
স্থানীয় প্রশাসন, বনবিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার নারী-পুরুষসহ চার পর্যটক ঢাকা থেকে সুন্দরবনে ঘুরতে আসেন। এদিন দুপুরে তারা সুন্দরবনের ঢাংমারী এলাকায় অবস্থিত রিসোর্ট গোল কানন-এ বুকিং নিয়ে রাত যাপনের জন্য ওঠেন। পরে বিকেলে গোল কানন রিসোর্ট মালিক শ্রীপতি বাছাড়সহ চার পর্যটক নৌকায় চড়ে বনের ছোট খালে ঘুরতে বের হন। রিসোর্ট সংলগ্ন ওই খাল থেকে নারীসহ ৫ জনকে তুলে নেয় সশস্ত্র দস্যুরা। রাতে দুই নারী পর্যটককে রিসোর্টে ফিরিয়ে দেয় দস্যুরা। তবে রিসোর্ট মালিক ও দুই পুরুষ পর্যটককে জিম্মি করে রাখে। জিম্মি থাকা পর্যটকদের কাছে দস্যুরা ২০ লাখ মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে জানা যায়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দাকোপ থানার অফিসার ইনচার্জ আতিকুর রহমান বলেন, ঘটনার পর থেকেই অপহ্নতদের উদ্ধারে কোষ্টগার্ড, নৌ পুলিশ এবং আমাদের পক্ষ থেকে সমন্বিত জোর অভিযান শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় খুলনার দাকোপ উপজেলার বানিশান্তা এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।



