শীতে কাঁপছে ‘খুলনা’

# মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, হিমেল হাওয়া ও সূর্যের কিরণ না থাকায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে #
# খুলনা বিভাগের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায় ৯.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস #
# তীব্র শীতের দাপটে বিপর্যস্ত জনজীবন, প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর হতে বের হয়নি#
মোঃ আশিকুর রহমান ঃ খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত প্রবাহ, শীতে কাঁপছে খুলনা। পৌষের শেষার্ধের জেঁকে বসা শীতে বিপর্যস্ত খুলনার জনজীবন। কুয়াশা, মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, বাইরে উত্তরের হিমেল হাওয়া, দু’য়ে মিলে নগরীসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো যেন তীব্র শীতে থরথর করে কাঁপছে। এছাড়া আকাশে সূর্যের কিরন না থাকায় এ শীত আরো বেশি অনুভূত হচ্ছে। খুলনায় জেঁকে বসা শীতে চরম বিপাকে পড়েছেন নি¤œ আয়ের সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ। গত কয়েক দিনের তুলনায় সোমবার (৫ জানুয়ারী) দিনজুড়ে কর্মব্যস্ত ছুটে চলা নগরবাসী এই শীতের কবলে পড়ে কুপোকাত, সন্ধ্যার পর প্রয়োজন ছাড়া তেমন কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না, যদিও কেউ বের হচ্ছেন, হবে মোটাসোটা শীতের গরম পোশাক পড়ে। তাছাড়া তীব্র শীতের কারনে নগরীর পাইকারি সবজির বাজার, বিভিন্ন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, সড়কে ক্ষুদ্র-মাঝারী পরিবহনগুলোর উপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
এদিকে, সোমবার (৫ জানুয়ারী) খুলনায় তীব্র শীত অনুভূত হওয়াই শীতের দাপটে পড়ে নগরীর বিপনী বিতান, গামেন্টস্,পুরানো শীতবস্ত্র দোকানসহ ফুতপাতের পোশাকের দোকানগুলো ক্রেতাদের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। মৌসুমী শীত পোশাক ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গতকাল সোমবার এবছরের সবচেয়ে বেশি শীত পড়েছে, যে কারণে বাজারে বেশ ক্রেতাদের সাড়া মিলছে। শীত যত বাড়বে, ততই বাজারমুখি হবেন ক্রেতারা। নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সন্ধ্যার পর স্থানীয় এলাকাগুলোতে শীতের কবল থেকে রক্ষা পেতে প্রায় সব বয়সী মানুষ সাময়িকভাবে আগুন জ¦ালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা অব্যহত রেখেছে।
খুলনা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, কুয়াশা, উত্তরের বাতাস ও আকাশে সূর্যের কিরন না থাকায় বেশি শীতের অনুভূত হচ্ছে। আরো জানা গেছে, সাধারনত স্বাভাবিক তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নীচে নামলে শীত অনুভূত হয়। সর্বনি¤œ তাপামাত্রার ক্ষেত্রে ১০ হতে ৮ ডেগ্রী সেলসিয়াসকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৮ হতে ৬ ডিগ্রীর নীচে মাঝারী শৈত্যপ্রবাহ এবং ৬ ডিগ্রীর নীচে থাকলে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। সোমবার (৫ জানুয়ারী) আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যনুসারে খুলনা বিভাগের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা খুলনায় ১২ ডিগ্রী সেলসিয়াস, মোংলা ১২.৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস, সাতক্ষীরা ১১.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস, যশোর ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াস, চুয়াডাঙ্গা ৯.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস, কুমারখালি ৯.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস ও কয়রা ১১.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
ঋষিপাড়া নৈশ প্রহরী আসলাম জানান সূর্যের দেখা নেই। বাইরে মনে হচ্ছে বরফ পড়ছে। তাছাড়া শেষ রাতের দিকে বেজায় কুয়াশা ও ঠান্ডা বাড়ে। মোটা শীতের পোশাক পড়েও শীতে ঠকঠক করে কাপি। তাই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করার চেষ্টা করি। রিক্সাচালক শাহীন জানান, কয়েকদিনের আগের তুলনায় বর্তমানে বাইরে প্রচুর ঠান্ডা পরা শুরু হয়েছে। গায়ে সয়েটার, মাথায় টুপি আর জুতা পড়ে গাড়ি চালাচ্ছি তবুও ঠান্ডা লাগে। কারণ বাইরে প্রচুর বাতাস আর ঠান্ডা। মনে হচ্ছে বাইরে যেন বরফ পড়া শুরু করছে। তাছাড়া সূর্যের আলোও নাই। ঠান্ডায় যাত্রী কম, চালের টাকা তুলতে পাড়ছি না।
ইজিবাইক চালক লাভলু জানান, কয়েকদিন আগের তুলনায় গতকাল খুব শীত লেগেছে। বাইরে বেজায় ঠান্ডা, মোটা কাপড় পড়েও রক্ষা মিলছেনা। বাইরে তেমন যাত্রী নেই, গাড়ী ভাড়া ওঠানো কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া রাত যতই বাড়তে থাতে ততই ঠান্ডার মাত্রা বাড়তে থাকে। শীত পোশাক ক্রেতা শাহিদা জানান, গত কয়েকদিনের তুলনায় গতকাল খুব শীত, মনে হচ্ছে বরফ পড়ছে। সেই সাথে প্রচুর বাতাসও। তাছাড়া কুয়াশা পড়ছে, বিশেষ করে মাঝ রাতে বেজায় ঠান্ডা পড়া ধরেছে। শীতের কারণে জ্বর, সর্দি, কাশির প্রকোপ বেড়েছে। বড় বড় দোকান হতে শীতের কাপড় কেনার মতো টাকা আমার কাছে নেই। তাই এলাম ফুটপাতের দোকানে বাচ্চার জন্য শীতের কাপড় কেনার জন্য। তবে দাম একটু বেশি। খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, উত্তরের বাতাস ও আকাশে সূর্যের কিরন না থাকায় বেশি শীতের অনুভূত হচ্ছে।



