স্থানীয় সংবাদ

দুই’শ বছরের পুরনো দুই সিন্দুক অযতেœ পড়ে আছে সিদ্ধিপাশা ভূমি অফিসে

স্টাফ রিপোর্টার : ব্রিটিস সরকারে জমিদারি আমলের প্রায় দুই শতাব্দী পুরনো দুইটি লোহার সিন্দুক । আজও অযতেœ পড়ে আছে । এছাড়া সিন্ধুক দুটির ভিতরে কি আছে তা কেউ বলতে পারেনা। এর কারণ এখনও সিন্ধুকটির মুখ কেউ খুলতে পারেনি। আর সেই ভাবে পুরাতন জরাজীর্ণ একটি টিন সেড ভবণের মধ্যে পড়ে আছে। নিচে মাটির সংস্পর্শে হারিয়ে যাচ্ছে সিন্ধুকের জৌলুস। বর্তমানে সিদ্ধি-পাশা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে থাকা এই সিন্দুক দুটি বহন করছে এলাকার হারিয়ে যাওয়া অতীতের বহু অজানা ইতিহাস। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রবীণ আব্দুল গফ্ফার জানান। আমরা শুনেছি আমাদের মুরব্বিদের কাছে ব্রিটিশ শাসনামল ও তার আগের সময়ের জমিদাররা খাজনার হিসাব, গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র ও রাজস্ব সংক্রান্ত নথি সংরক্ষণ করতেন এই সিন্দুক দুটিতে। সে সময় পুরো এলাকার ভূমি ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব আদায়ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল এই এলাকা।দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে জমিদারি ব্যবস্থা বিলুপ্ত হলেও এই দুইটি সিন্দুক রয়ে গেছে অতীতের স্মারক হয়ে। তবে, দুঃখজনক হলেও সত্য, এমন অমূল্য ঐতিহাসিক সম্পদ সংরক্ষণে নেই কোনো কার্যকর উদ্যোগ। ভূমি অফিসের একটি কোণায় মরিচা ধরা অবস্থায় পড়ে আছে সিন্দুক দুটি। নেই কোনো তথ্যফলক, নেই নিরাপত্তা কিংবা যথাযথ সংরক্ষণের ব্যবস্থা।একই কথা বলেন, সিদ্ধিপাশা গ্রামের বাসিন্দা আয়ুব আলী তিনি বলেন, শুনেছি, জমিদাররা খাজনার টাকা ও দলিল এই সিন্দুকেই রাখতেন। এটা শুধু একটা লোহার বাক্স না, এটা আমাদের এলাকার ইতিহাস।এগুলো যদি এখনই সংরক্ষণ না করা হয়, তাহলে হয়তো কয়েক বছর পর কালের বিবর্তনে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।”এ বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ সালাউদ্দিন দিপু বলেন, সিন্দুক দুটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা জানতে পেরেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে এগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এই দুইটি সিন্দুককে প্রতœসম্পদ হিসেবে ঘোষণা করে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজনে ভূমি অফিসেই একটি ছোট প্রদর্শনী কর্নার তৈরি করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা যেতে পারে, যাতে নতুন প্রজন্ম নিজেদের ইতিহাস জানতে পারে।ইতিহাসের এমন মূল্যবান স্মৃতি অবহেলায় হারিয়ে যাওয়া মানে একটি জনপদের আত্মপরিচয় মুছে ফেলা। এখনই প্রয়োজন যথাযথ উদ্যোগ ও সচেতনতা নইলে জমিদারি যুগের এই শেষ স্মারকও হারিয়ে যাবে সময়ের স্রোতে। আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্ব সহকারে দেখছি। এ বিষযে খুলনা বিভাগয়ি প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর, সহকারী পরিচালক মহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আগে স্থানীয় উপজেলা বা জেলা প্রশাসন খতিয়ে দেখবে। এরপর আমাদের অবগত করবে। আমরা ঘটনাস্থলে যেয়ে বিষয়টি সম্পর্কে খোজ খবর নিয়ে যথাযত ব্যবস্থা নিব। তবে সংরক্ষন বিষয়টি জরুরী ভাবে করা উচিত।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button