খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের ২১৪ জন আউট সোর্সিং কর্মচারিদের দেড় বছর বেতন নেই

# পূর্বের সিভিল সার্জনের ভুলে বেতন পেতে বিলম্ব: সিভিল সার্জন
# কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য উচ্চ আদালতে মামলা করেছি- ঠিকাদার
শেখ ফেরদৌস রহমান খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের অধীনে খুলনা সদর হাসপাতালসহ ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়োগকৃত ২১৪জন আউট সোর্সিং কর্মচারিদের দেড় বছরের বেতন বকেয়া রয়েছে। এমনকি এসব অসহায় গরীব কর্মচারীরা বেতন কবে নাগাদ পাবে জানেনা ঠিকাদার ও সিভিল সার্জন। চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে বেতন পরিশোধ করবার সময় থাকলে বিভিন্ন জটিলতায় আটকে রয়েছে তাদের বেতন । খুলনা সিভিল সার্জনের আওতায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাকবীর এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে গেল ২০২২ সালের ২৬ মে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭ জন, বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৬ জন, বিভিন্ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১২ জন, রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১ জন, দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ জন, তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২ জন, কপিলমুনি ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে তিনজন, পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৮ জন এবং দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ জন টুটপাড়া সদর আরবান ডিসপেনসারীতে ১১ জন, ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৯ জন, খুলনা জেনারেল হাসপাতালে ৩১ জন, তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ জন, ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ জন কে, পদায়ন করা হয়। এ দিকে গরীব অসহায় কর্মচারীরা দীর্ঘদিন কাজ করলেও তারা মাত্র দুই বছরের বেতন পেয়েছে। এ বিষয়ে কথা হয় দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আউট সোর্সিং কর্মচারী মো ওয়াসিমের সাথে তিনি বলেন, এক মাস দুই মাস বা ছয় মাস চলা যায় এভাবে বছরে পর বছর কিভাবে বেতন ছাড়া কাজ করা যায়? আমরা বেশ কয়েকবার সিভিল সার্জনের ঠিকাদারকে বেতন পরিশোধের জন্য বলেছি তবে, বিভিন্ন জটিলতা আর অনুমোদন না পাওয়ার কথা বলে। এছাড়া আমরা মানবন্ধনসহ বেশ কয়েকবার আন্দোলন করেছি কোন সুফল হয়নি। এখন আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমরা যদি চলে যাই কাজ না করে হাসপাতাল গুলোতে চলমান সেবা থমকে যাবে। আমরা কাজ করছি বেতন কবে পাবো তা জানিনা। তবে, সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষর প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি দ্রুত যেন আমাদের বেতন ভাতা পরিশোধ করে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে দীর্ঘদিন বেতন না পেয়ে অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারীরা নিয়মিত কাজ করছেনা খোঁজ নিয়ে জানাগেছে তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১২ জন আউট সোর্সিং কর্মচারী কাজ করার কথা থাকলেও অধিকাংশ কর্মচারীরা অনিয়মিত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাকবীর এন্টারপ্রাইজের পরিচালক মোঃ ইকতিয়ার হোসেন বলেন, খুলনা সিভিল সার্জন অফিস থেকে সময় মত মন্ত্রানালয়ে চিঠিা না পাঠানোর কারণে বেতন আটকে আছে। আমি দীঘদিন যোগোযোগ করেছি মন্ত্রনালয়ে কোন উপায় না পেয়ে উচ্চ আদালতে মামলা করেছি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য। এ বিষয়ে খুলনা সিভিল সার্জন ডাঃ মোছা: মাহফুজা খাতুন বলেন, আমি যোগদান করার আগে পূর্বের সিভিল সার্জনের ভুলের কারণে এসব কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছেনা। এর কারণ পূর্বের সিভিল সার্জন ডাঃ শফিকুল ইসলাম ২৪ সালে জুলাইয়ে একটি চিঠি দিয়েছিল যে সকল আউটসোর্সিং কর্মচারীকে কাজ থেকে অব্যহতি প্রদান করা হলো। তিনি এই চিঠি মন্ত্রানালয় সহ বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি পাঠিয়ে আর কোন কাজ করেনি। এ দিকে আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ অন্যান স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে জনবল নিয়মিত কাজ করেছে। তারা চলে গেলে হাসপাতালে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। এই ভুলের জন্য এসব কর্মচারীরা ভোগান্তিতে পড়েছে। তারপরও আমি চেষ্টা করেছি। অনেক কর্মকর্তা বদলি হওয়ার কারণে সমস্যা জটিলতা হয়েছে। আমি চেষ্টা করছি এদের বেতন পরিশোধের জন্য যাবতীয় ব্যবস্থার জন্য আমার পক্ষ থেকে যা করণীয় করব।



