স্থানীয় সংবাদ

মহেশ্বরপাশায় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি : গুলি লক্ষ্য ভেদ করে ঠিকাদারের বাড়ি

# কেউ হতাহত না হলেও আতঙ্কিত এলাকাবাসী #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ মহানগরীর মহেশ্বরপাশা গোলকধা পল্লী তীর্থ রোডে নাজমুল আহমেদ নামের এক ঠিকাদারের বাড়িতে গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা গুলি ছুঁড়েছে বলে জানা যায়। সোমবার দিবাগত রাত ৩ টার দিকে নগরীর দৌলতপুর থানা এলাকার মহেশ্বরপাশায় ঘটনাটি ঘটে। গুলির ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে এলাকাবাসী জানায়।এ ব্যাপারে দৌলতপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান যে, মহেশ্বরপাশা পল্লীতীর্থ স্কুল রোডের বাসিন্দা ও ঠিকাদার নাজমুল আহমেদের বাড়ির সামনে দু’টি বাগানে দু’জন সন্ত্রাসী অবস্থান করছিলো। এমন সংবাদে পুলিশের একাধিক টিম বাগানের চারিপাশে ঘিরে ফেলে। দুর্বৃত্তরা পুলিশের আগমন টের পেয়ে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে দৌড়ে পালিয়ে যায়। জানা যায় যে, দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া গুলিতে ঠিকাদারের বাড়ির দরজায় ভেদ হয়ে বেরিয়ে যায়। ঘটনাটিতে কেউ হতাহত হয়নি বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য এর আগেও দৌলতপুরের ঐ একই এলাকায় ২টি বাড়িতে (২৮ অক্টোবর) ভোরে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা উপর্যুপরি গুলি বর্ষণ করে। একই ধারাবাহিকতায় মহেশ্বরপাশা এলাকায় সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া একাধিক হত্যাকান্ড স্থানীয়দের উদ্বেগ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। জানা গেছে, পশ্চিমপাড়ায় কুয়েটের কর্মচারী মহসিন লিটু (হিটু) এবং মাদক ব্যবসায়ী কানা মেহেদির বাড়িতে একই ঘটনা ঘটে। তখন লিটুর বাড়িতে ৬ রাউন্ড এবং কানা মেহেদির বাড়িতে ৯ রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ৮জন দুর্বৃত্ত ৪টি মোটরসাইকেল যোগে এসে গুলি বর্ষণ করে পালিয়ে যায়। ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে মহেশ্বরপাশার পশ্চিম পাড়ায় শাহী মসজিদ এলাকার বাসিন্দা তানভীর হাসান শুভকে (২৮) নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় দুর্বৃত্তদের গুলি করা হয় এবং নিহত হন। দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) জাহিদুল ইসলাম বলেন যে, ২৮ অক্টোবর গুলির ঘটনায় ২টি মামলায় ১১জন আসামী ও ২ জন কে আটক করা হয়েছে। দৌলতপুরে সম্প্রতি কয়েকটি হত্যা ও গুলিবর্ষণ মামলা সব কয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কোন কৃতিত্ব নেই পুলিশের। তবে দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) জাহিদুল ইসলাম কৃতিত্বের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমরা নিষ্ঠার সাথে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে চলেছি। এতে কোন খাদ নেই। জাহিদুল আরো বলেন, আসামিদের দ্রুত সনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। জানা গেছে, মহেশ্বরপাশা, ফুলবাড়ি গেট, দেয়ানা, পাবলা, কাশিপুর, চুনের বটতলা, কবীর বটতলা, পাবলা ৩ দোকানের মোড়, দেওয়ানা পাখির মোড়, দেওয়ানা দক্ষিণপাড়া মোড়, দেওয়ানা যশোরের মোড়, দৌলতপুর রেলওয়ে স্টেশনও রেলিগেট এলাকাগুলোতে মাদক কারবারীদের দৌরাতœ্য অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচনের অজুহাতে পুলিশ হাল ছেড়ে দিয়েছে। ক্রমাগত গুলি, হত্যা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা বলছেন প্রশাসন যদি দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে দৌলতপুর ও আশপাশের এলাকাগুলো চরমপন্থী-সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না। রিপোর্ট পাঠানো পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টায় কোন মামলা হয়নি বলে জানান দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম। সাবেক যুবদল নেতা হত্যার পর তার চাচা রহিম মোল্লা তার দোকান খুলছেন না। নিরাপত্তাহীনতার কারণে পশ্চিম পাড়াস্থ রহিমের দোকান বন্ধ রয়েছে। শুধু রহিম একা নন, ওই পশ্চিম পাড়া মোড়ের একাধিক দোকানদার সকাল সকাল দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যাচ্ছেন। তবে মহেশ্বরপাশা ফাড়ির ইনচার্জ এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তাদের টহল জোরদার করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের যেখানে থাকবে তাদের অভিযান চলবে। তবে সন্ত্রাসীরা তিন রাউন্ড গুলি করেছে। কোন হতাহত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button