নগরীতে দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টা : থানায় অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ব্যবসায়ী বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত ব্যবসায়ীর নাম মোঃ সাইফুল ইসলাম (৪০)। তিনি সোনাডাঙ্গা থানাধীন শেখপাড়া বাগানবাড়ি এলাকায় অবস্থিত ‘সারা কার ডেকোরেশন’ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় হৃদয় শরীফ ও তার পিতা জালাল শরীফের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত হৃদয় শরীফ (২৬) ও তার পিতা জালাল শরীফ (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি করে আসছিল। গত ৩ জানুয়ারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক অনুপস্থিত থাকাকালে অভিযুক্তরা দোকানে এসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং টাকা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়।
পরবর্তীতে ১০ জানুয়ারি পুনরায় দোকানে এসে মালিকের কাছে একই অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে চাঁদাবাজি করবে না বলে আশ্বাস দেয় বলে জানা গেছে। কিন্তু এর দুই দিন পর, ১২ জানুয়ারি দুপুরে আবারও অভিযুক্তরা দোকানে প্রবেশ করে চাঁদার বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে হৃদয় শরীফ হাতুড়ি দিয়ে দোকান মালিক মোঃ সাইফুল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় আহত ব্যবসায়ী সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, হৃদয় শরীফ ও তার পিতা জালাল শরীফের বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তিনি বলেন, ঘটনার দিন হৃদয় হাতুড়ি দিয়ে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এ সময় হৃদয়ের পিতা জালাল শরীফও উপস্থিত ছিলো।
এ ব্যাপারে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির কারণে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।



