স্থানীয় সংবাদ

ভবদহ অঞ্চলে মৎস্য ঘেরের ভেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে ছয়টি গ্রাম প্লাবিত!

মোঃ আব্বাস উদ্দীন, মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি ঃ ভবদহ অঞ্চলে মৎস্য ঘেরের ভেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় দেড় হাজার বিঘা জমির বোরো আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মনিরামপুর উপজেলার ভবদহ এলাকার সুজাতপুরসহ ছয়টি গ্রামে মৎস্য ঘেরের বেড়িবাঁধ ভেঙে অন্তত দেড় হাজার বিঘা জমি প্লাবিত হয়েছে।তলিয়ে গেছে বোরো ধানের বীজতলা। এতে প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। বুধবার অতিরিক্ত পানির চাপে সুজাতপুর পল্লীমঙ্গল মৎস্য ঘেরের দক্ষিণ পাশের বেড়িবাঁধ ভেঙে এ বিপর্যয় ঘটে। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে পরিদর্শন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ নিশ্চিত করতে ঘের পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তে প্রায় এক মাস ধরে ৪০টি সেচযন্ত্রের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের পানি সেচের ফলে ঘেরের পানির চাপ বেড়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বেড়িবাঁধ ভেঙে পড়ে। এ ঘটনায় সুজাতপুর, হাটগাছা ও কুলটিয়া (মনিরামপুর উপজেলা) এবং মশিয়াহাটী, বেদভিটা ও বলারাবাদ (অভয়নগর উপজেলা) গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে গেছে। এসব গ্রামে বসবাসরত প্রায় তিন হাজার মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। অনেকের বাড়ির আঙিনা, বাগানবাড়ি, পুকুর, মৎস্য ঘের ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, সদ্য প্রস্তুত করা বোরো ধানের বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে নতুন করে বীজতলা তৈরি করা এবং আবাদ চালিয়ে নেওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। কুলটিয়া গ্রামের ঘের মালিক স্বপন জানান, তার তিন শতাধিক বিঘা জমির মৎস্য ঘেরের বেড়িবাঁধ ভেঙে মাছ ভেসে গেছে। একই গ্রামের তপন রায় বলেন, তার মৎস্য ঘেরের উত্তর পাশের বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রায় ৮শ’ বিঘা ঘেরের মাছ পানিতে ভেসে যায়, যা তাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। এ বিষয়ে পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি অভয়নগর শাখার আইন বিষয়ক সম্পাদক অনিল বিশ্বাস বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের দুর্দশার কথা ইতোমধ্যে মৎস্য বিভাগ, কৃষি বিভাগসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, “অবিলম্বে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ সংস্কার না করা হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যচাষিদের জন্য জরুরি সহযোগিতা প্রয়োজন।” এদিকে বৃহস্পতিবার যশোর-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ও মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব এ্যাডভোকেট শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button