বটিয়াঘাটায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখলে চলছে মহাউৎসব

# কথিত কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় চলছে পাকা ভবন নির্মাণ #
বটিয়াঘাটা (খলনা) প্রতিনিধি ঃ বটিয়াঘাটায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নীরাবতা ও সহযোগিতার সুযোগে সরকারি জমি দখলের মহাউৎসব চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডে সুন্দরমহল বাজারের পিছনে পাউবোর মালিকানাধীন ০.৭৫ একর জমি দখল করে বালু ভরাটের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে বহু স্থায়ী পাকা ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ২৯ নাম্বর পোল্ডারে অবস্থিত সুন্দরমহল বাজারটি। ইতোমধ্য প্রায় ২০-২৫ টি পাকা স্থাপনা নির্মিত হয়েছে বাজারে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, জমি দখল করে ভবন নির্মাণের পর অনেকেই আবার তা বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দখলের পরিমাণ এবং দখলদারদের দৌরাত্ম্য। উপজেলা প্রশাসন বলছেন, জমিটি তাদের পেরিফেরি ভূমির আওতায় নয়। তাই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রশাসনের দাবি, এ জমির মালিক পানি উন্নয়ন বোর্ড। উচ্ছেদ সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব পাউবোরই।
অন্যদিকে পাউবোর বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে তারা বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। কোন কোন কর্মকর্তা দখল নিয়ে প্রশ্ন করলে এড়িয়ে যান। কেউ আবার তালবাহানা করেন। এতে স্থানীয়দের ধারণা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পুরো এলাকা দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নিষ্ক্রিয়তা সরকারি সম্পদের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে। সুন্দরমহল বাজার কমিটি ও ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মো : আবুল কাশেম গাজী বলেন, জায়গাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের হলেও কিছু অংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন। এলাকার ব্যবসার স্বার্থেই আমরা বালু ভরাট করে মার্কেট করেছি। বাজার কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা মেহেদী হাসান বলেন, সরকারি জায়গায় পাকা ভবন নির্মাণ অবৈধ। তারপরও একটি মহল রাতদিন পাকা ভবন তুলে চলেছে। এটা আমার বোধগম্য নয়, কিভাবে তারা ভবন তৈরি করছেন।
সাবেক ইউপি সদস্য শাহারুল বিশ্বাস বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি মহল অবৈধ পাকা ভবন নির্মাণ করে চলছে। এখানে ছোট-বড় প্রায় অন্তত ২০ থেকে ২৫ টি পাকা স্থাপনা রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী রাকিব সহ একাধিক ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, গায়ের জোর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু লোকের সহযোগিতায় এবং স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রশায় মোটা অংকের টাকার বিনিময় এসব স্থাপনা গড়ে উঠেছে। আমরা চাই, বাজার উন্মুক্ত ও দখলমুক্ত হোক।
তথ্য অনুসন্ধানে আরও জানা যায়,পাকা ঘর নির্মাণ করছেন যারা তারা হলেন, জিয়াউর রহমান গাজী,আবুল হোসেন গাজী, আবুল কাশেম গাজী, ডাক্তার আজিজুর রহমান,গাজী মশিউর রহমান, গোলাম গাজী, পাতাউর গাজী, হাসিব গাজী, করিম গাজী, বক্কর বিশ্বাস, ইলিয়াস, হারুন গাজী , রহমান গাজী, একলাছ কবিরাজ, ওবায়দুল, আরিফ, মোস্তাকিন, রঞ্জিত সহ আরো অনেকে।
এদের মধ্যে অনেকের দাবি,আমরা টাকা দিয়ে জায়গা কিনে ব্যবসার জন্য স্থাপনা করেছি। বটিয়াকাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো : শোয়েব শাত- ঈল -ইভান জানান, অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ পেয়ে স্থানীয় সুরখালী ভূমি অফিসের নায়েবকে পাঠানো হয়েছিল। পরে জানা যায়, জমিটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের। তাই উচ্ছেদের দায়িত্ব তাদের। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থান্দার কামরুজ্জামান বলেন, আমি উপজেলায় নতুন এসেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল কুমার সেন বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি অবহিত করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।



