স্থানীয় সংবাদ

সাংবাদিকদের লেখনীর মাধ্যমে যেন জনগণ সচেতন এবং সঠিক প্রার্থী নির্বাচনে উদ্বুদ্ধ হয়

# খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার

# নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক দুইদিনের কর্মশালার সমাপনি

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মুহাম্মদ আসাদুল হক বলেছেন, সংবাদ লেখার ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠতা ও সংক্ষিপ্ততা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। অপ্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ বা অতিরিক্ত শব্দচয়ন পরিহার করে এক লাইনের তথ্য এক লাইনে উপস্থাপন করাই উত্তম। এতে তথ্য স্পষ্ট হয় এবং বিভ্রান্তির সুযোগ কমে। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের লেখনীর মাধ্যমে যেন জনগণ সচেতন হয় এবং সঠিক প্রার্থী নির্বাচনে উদ্বুদ্ধ হয়। অন্যায়, দুর্নীতি, অনিয়ম ও অত্যাচারের তথ্য সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরলে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হয়। তিনি আরও বলেন, খুলনা বিভাগ একটি বৃহৎ এলাকা হওয়ায় সব তথ্য প্রশাসনের পক্ষে সরাসরি জানা সম্ভব হয় না। সাংবাদিকদের প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে কোনো অনিয়ম বা সমস্যা নজরে এলে প্রশাসন তা নিয়ে কাজ করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত জনগণের কল্যাণে আসে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) কর্তৃক আয়োজিত নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক দুইদিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। দুইদিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন ছিলেন দৈনিক আমার দেশ এর ডেপুটি এডিটর সুলতান মাহমুদ বাদল, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক জিয়াউর রহমান ও সাংবাদিক ও শিক্ষক, ইউ ল্যাব নাজিয়া আফরিন মনামী।

পিআইবির সানোয়ার সাইদ শাহীনের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন-খুলনা প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক, সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা। নগরীর সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে খুলনার প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার ৫০ জন এবং খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে পৃথক কর্মশালায় জেলার ৯টি উপজেলার ৪৫ জন সাংবাদিক অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রশিক্ষণার্থী সাংবাদিকদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন।

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সংবাদ, ফোন বা বার্তার মাধ্যমে নাগরিক বান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে সহায়তা করলে তা প্রশাসনের কাজকে আরও সহজ করবে।

তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ সম্পর্কে তিনি বলেন, এ আইন একটি মৌলিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইন। এ আইনের ৭ ধারায় এমন কিছু তথ্যের কথা বলা হয়েছে, যা প্রকাশযোগ্য নয়। ওই ধারায় মোট ২০টি উপধারা রয়েছে, যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে-কোন তথ্য দেওয়া যাবে এবং কোন তথ্য দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইনের দুটি মূল দিক রয়েছে। একটি হলো কর্তৃপক্ষ এবং অন্যটি হলো তথ্য প্রদানের কর্তব্য। অর্থাৎ, কে তথ্য দেবে, কী ধরনের তথ্য দেবে এবং কোন তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে-এসব বিষয় সাংবাদিকদের কাজের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা সাধারণত তথ্য অধিকার আইনের ভিত্তিতেই বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন। বিশেষ করে নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে এ আইনের গুরুত্ব অপরিসীম। আইনটির ৩ ধারায় বলা হয়েছে, এ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন থাকলে তথ্য অধিকার আইনই প্রাধান্য পাবে। ৭ ধারার ‘জ’ ও ‘ঝ’ উপধারার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন কোনো সংবাদ প্রকাশ করা যাবে না, যাতে কারও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ পায় বা যার ফলে কোনো ব্যক্তির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button